মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
মকদ্দমা ও ঝগড়া-কলহের মীমাংসাকারী কাযী ও বিচারকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে দিকদিশারী মূলনীতি নির্ধারিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে যে উপদেশাবলী প্রদান করেছেন, এ জন্য নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
মকদ্দমা ও ঝগড়া-কলহের মীমাংসাকারী কাযী ও বিচারকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে দিকদিশারী মূলনীতি নির্ধারিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে যে উপদেশাবলী প্রদান করেছেন, এ জন্য নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
৪৮১. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে কাযী করে ইয়ামানে পাঠালেন তখন তাঁকে বললেন, যখন তোমার নিকট কোন মকদ্দমা-বিচার উপস্থিত হবে তখন এর ফয়সালা কিভাবে করবে? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব (কুরআন মজীদের হিদায়াত) অনুযায়ী ফয়সালা করব। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তুমি আল্লাহর কিতাবে (এ বিষয়ে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন) না পাও (তখন কি করবে?) তিনি বললেন, এরপর আমি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতের আলোকে ফায়সালা করব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতেও (এ বিষয়ে) নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাও? (তখন কি করবে?) তিনি বললেন, এরপর আমি আমার বুদ্ধিমত ইজতিহাদ করব। এ উত্তর শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বুকে হাত রেখে তাঁকে সমর্থন করেন এবং বলেন, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি তাঁর রাসূলের দূতকে ঐ বিষয়ের সামর্থ্য দিয়েছেন। যা তাঁর রাসূলের পসন্দনীয়। (তিরমিযী, আবু দাউদ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ. قَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ. قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ. قَالَ أَجْتَهِدُ بِرَأْيِي وَلاَ آلُو. فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صَدْرَهُ وَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي بِهِ رَسُولَ اللَّهِ. (رواه الترمذى وابوداؤد والدارمى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত মু'আয ইব্ন জাবাল (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সেই কতক সাহাবা কিরামের মধ্যে পরিগণিত, যাঁদের জ্ঞান অন্বেষণের স্বভাব, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দীর্ঘ সাহচার্য, বিশেষ শিক্ষা ও তরবিয়তের ফলে কিতাব, সুন্নাত ও দীন বুঝার ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান অর্জিত হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে আগেও এ কথা উল্লিখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ শেষ জীবনে তাঁকে ইয়ামানের কাযী ও বিচারকরূপে প্রেরণ করেন। একথা সুস্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা এবং ক্রমাগত তাঁর কর্ম-পদ্ধতি অন্বেষণের ফলে তাঁর এ মূলনীতি জন্ম হয়েছিল যে, যখন কোন বিষয় মীমাংসার জন্য আসে তখন এজন্য হিদায়াত লাভের নিমিত্ত সর্বপ্রথম আল্লাহর কিতাবের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা হবে। যদি তথায় হিদায়াত না পাওয়া যায় তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত ও তাঁর কর্ম-পদ্ধতি থেকে দিকনির্দেশ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। সেখানেও যদি না পাওয়া যায় তবে কিতাব ও সুন্নাতের আলোকে ইজতিহাদ ও কিয়াস করা হবে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন তাঁকে ইয়ামান-এর কাযী নিযুক্ত করলেন তখন পরীক্ষা স্বরূপ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সামনে যে সব বিষয় ও মোকদ্দমা আসবে সেগুলোর ফায়সালা তুমি কিভাবে করবে?
উত্তর তিনি তাই দিলেন, যা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সাধুবাদ জানালেন এবং তার বুকে হাত রাখলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করলেন যে, তিনি তাঁর মর্জি ও চাহিদা মুতাবিক উত্তর দিয়েছেন। জানা গেল যে, তিনি তাঁর শিক্ষা ও সাহচর্যে উত্তমরূপে উপকৃত হয়েছিলেন।
এ হিসেবে এ হাদীসের অনন্য গুরুত্ব রয়েছে যে, দীন ও শরীআতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের বিষয়ে ইহা সর্বাধিক সুস্পষ্ট ভিত্তি। আর উম্মতের সর্ব যুগের ফকীহ ও মুজতাহিদগণ এ হাদীসকেই ভিত্তি করে ইজতিহাদ ও কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অসংখ্য মাসআলা ও লেন-দেনের ফায়সালা করেছেন, যেগুলো সম্বন্ধে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও নির্দেশ কিতাব ও সুন্নাহয় নেই।
এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, মুহাদ্দিসীন কিরামের নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসের সনদ শক্তিশালী নয়, বরং এতে দুর্বলতা রয়েছে। (যার বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে) তবে তা সত্ত্বেও উম্মতের আলিম ও ফকীহবৃন্দ এ হাদীস গ্রহণ করেছেন। আর এর ভিত্তিতেই কিয়াস ও ইজতিহাদের ধারাবাহিকতা চালু রয়েছে। শায়খ ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ সূক্ষ্মদর্শী বিদ্বান লিখেন যে, ফকীহ আলিমগণের ইহা গ্রহণের পর এর বিশুদ্ধতার জন্য অন্য কোন দলীলের প্রয়োজন নেই।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, কোন বিষয় ও মাসআলায় কিয়াস ও ইজতিহাদের সুযোগ তখনই থাকে, যখন এ সম্পর্কে কিতাব ও সুন্নাহ হতে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাওয়া যায়।
উত্তর তিনি তাই দিলেন, যা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সাধুবাদ জানালেন এবং তার বুকে হাত রাখলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করলেন যে, তিনি তাঁর মর্জি ও চাহিদা মুতাবিক উত্তর দিয়েছেন। জানা গেল যে, তিনি তাঁর শিক্ষা ও সাহচর্যে উত্তমরূপে উপকৃত হয়েছিলেন।
এ হিসেবে এ হাদীসের অনন্য গুরুত্ব রয়েছে যে, দীন ও শরীআতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের বিষয়ে ইহা সর্বাধিক সুস্পষ্ট ভিত্তি। আর উম্মতের সর্ব যুগের ফকীহ ও মুজতাহিদগণ এ হাদীসকেই ভিত্তি করে ইজতিহাদ ও কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অসংখ্য মাসআলা ও লেন-দেনের ফায়সালা করেছেন, যেগুলো সম্বন্ধে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও নির্দেশ কিতাব ও সুন্নাহয় নেই।
এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, মুহাদ্দিসীন কিরামের নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসের সনদ শক্তিশালী নয়, বরং এতে দুর্বলতা রয়েছে। (যার বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে) তবে তা সত্ত্বেও উম্মতের আলিম ও ফকীহবৃন্দ এ হাদীস গ্রহণ করেছেন। আর এর ভিত্তিতেই কিয়াস ও ইজতিহাদের ধারাবাহিকতা চালু রয়েছে। শায়খ ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ সূক্ষ্মদর্শী বিদ্বান লিখেন যে, ফকীহ আলিমগণের ইহা গ্রহণের পর এর বিশুদ্ধতার জন্য অন্য কোন দলীলের প্রয়োজন নেই।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, কোন বিষয় ও মাসআলায় কিয়াস ও ইজতিহাদের সুযোগ তখনই থাকে, যখন এ সম্পর্কে কিতাব ও সুন্নাহ হতে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)