মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ওসীয়ত
৪৬৯. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের বছর রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা (স্বীয় কিতাবে উত্তরাধিকারীদের) প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য দিয়েছেন। সুতরাং এখন কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসীয়ত বৈধ নয়। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حِجَّةِ الْوَدَاعِ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ. (رواه ابوداؤد وابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি হিজরত করে পবিত্র মদীনায় আগমনের পর সামাজিক লেনদেন ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশ নাযিল হতে থাকে, তখন প্রাথমিকভাবে সূরা বাকারার ১৮০ নং আয়াত كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ -এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, যে ব্যক্তির নিকট কতক সম্পদ রয়েছে, তার জন্য মৃত্যুর পূর্বে পিতা-মাতা ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের জন্য সংগত পন্থায় ওসীয়ত করে যাওয়া চাই। এর কিছু দিন পর উত্তরাধিকারের বিস্তারিত নীতিমালা সুরা নিসায় নাযিল হয়। এভাবে ওসীয়তের প্রথম নির্দেশ অন্ততপক্ষে শরী'আতী উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে রহিত হয়ে যায় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জের ভাষণে অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশের সাথে এটাও ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা উত্তরাধিকারের আইন নাযিল করে সব উত্তরাধিকারীর অংশ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। সুতরাং এখন কোন ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত করা যাবে না।

وفي رواية الدارقطني قال لا تجوز وصية لوارث إلا أن يشاء الورثة .
দারা কুতনীর বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, এখন কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসীয়ত বৈধ নয়, তবে অন্যান্য উত্তরাধিকারী চাইলে। অর্থাৎ যদি কোন ব্যক্তির শরীআতী ওয়ারিস এ কথায় সম্মত হয় যে, সম্পদের মালিক কোন উত্তরাধিকারীর ব্যাপারে (তার শরীআতী অংশ ছাড়াও অতিরিক্ত) ওসীয়ত করবে এবং এতে তার কোন আপত্তি নেই, তবে এরূপ অসীয়ত বৈধ এবং চালু হবে, (শর্ত হচ্ছে অন্য ওয়ারিস বুদ্ধিসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়ষ্ক হতে হবে)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান