মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ঝাড় ফুঁক-এর বিনিময় গ্রহণ
নিজের কাজ ও পরিশ্রমের বিনিময় লওয়া ভাড়া স্বরূপ। এটার একটি পদ্ধতি এইরূপ যে, কোন রোগী ইত্যাদির উপর কুরআন শরীফ বা কোন দু'আ করে ফুঁক দেওয়া হয়। কিংবা তাবীজ লিখে এর বিনিময় গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালে এরূপ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর সাহাবা কিরাম ফুঁক দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ সেটা বৈধ ও পবিত্র বলেছেন।
নিজের কাজ ও পরিশ্রমের বিনিময় লওয়া ভাড়া স্বরূপ। এটার একটি পদ্ধতি এইরূপ যে, কোন রোগী ইত্যাদির উপর কুরআন শরীফ বা কোন দু'আ করে ফুঁক দেওয়া হয়। কিংবা তাবীজ লিখে এর বিনিময় গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালে এরূপ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর সাহাবা কিরাম ফুঁক দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ সেটা বৈধ ও পবিত্র বলেছেন।
৪৪২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত। সাহাবা কিরামের এক দল একটি জনপদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে সাপে অথবা বিচ্ছুতে দংশন করেছিল। জনপদের এক লোক এসে বলল, তোমাদের কাছে কোন ঝাড় ফুঁককারী আছে কি? আমাদের জনপদে একব্যক্তিকে সাপে দংশন করেছে অথবা বলেছে, বিচ্ছু দংশন করেছে। (সম্ভবত এটা বর্ণনাকারীর সংশয়) তখন সাহাবীদের একজন তার সাথে গেলেন এবং কতক বকরির বিনিময়ে ফুঁক দিলেন। সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর বকরিগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। সাথীগণ ইহা মন্দ বলে মনে করলেন। তাঁরা তাঁকে বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছে! এমন কি তাঁরা মদীনা শরীফ এলেন। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের অমুক সাথী আল্লাহর কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে পারিশ্রমিক নিয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা যা গ্রহণ করেছ এর বিনিময় গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব তার বহু উপযুক্ত। (বুখারী)
আর সহীহ বুখারীতে এ হাদীসেই একথা এসেছে যে, তোমরা সঠিক করছ। বকরিগুলো তোমরা পরস্পরে বণ্টন করে নাও এবং আমাকেও অংশ দাও।
আর সহীহ বুখারীতে এ হাদীসেই একথা এসেছে যে, তোমরা সঠিক করছ। বকরিগুলো তোমরা পরস্পরে বণ্টন করে নাও এবং আমাকেও অংশ দাও।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرُّوا بِمَاءٍ، فِيهِمْ لَدِيغٌ أَوْ سَلِيمٌ، فَعَرَضَ لَهُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ المَاءِ، فَقَالَ: هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ، إِنَّ فِي المَاءِ رَجُلًا لَدِيغًا أَوْ سَلِيمًا، فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ عَلَى شَاءٍ، فَبَرَأَ، فَجَاءَ بِالشَّاءِ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَقَالُوا: أَخَذْتَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا، حَتَّى قَدِمُوا المَدِينَةَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ» (رواه البخارى) وفى رواية اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ ঘটনার অনুরূপ অন্য এক ঘটনা মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণনা করা হয়েছে। তাতে উল্লিখিত হয়েছে যে, এ জাতীয় এক সফরে এক পাগলের উপর লোকজন ফুঁক দেওয়াল। জনৈক সাহাবী সূরা ফাতিহা সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করে তিন দিন ফুঁক দেন, আল্লাহ তা'আলার করুণায় সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। তিনিও বিনিময় গ্রহণ করেছিলেন। তবে উক্ত সাহাবীর সংশয় দেখা দেয় যে, বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে, না অবৈধ। সুতরাং প্রত্যাবর্তন করে হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা সঠিক ও বৈধ বলে অভিমত দিলেন।
এসব হাদীসের আলোকে উলামা কিরাম ও ফকীহবৃন্দ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এরূপ ফুঁক দিয়ে বা তাবীজ লিখে বিনিময় গ্রহণ বৈধ, যেভাবে কবিরাজ ও ডাক্তারের জন্যে চিকিৎসার ফিস গ্রহণ করা বৈধ। তবে যদি পারিশ্রমিক ছাড়া ফিসাবিলিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সেবা করা হয় তবে তা উঁচুস্তরের বিষয়। আর নবীগণের সাথে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্কশীলদের পন্থা এটাই।
এসব হাদীসের আলোকে উলামা কিরাম ও ফকীহবৃন্দ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এরূপ ফুঁক দিয়ে বা তাবীজ লিখে বিনিময় গ্রহণ বৈধ, যেভাবে কবিরাজ ও ডাক্তারের জন্যে চিকিৎসার ফিস গ্রহণ করা বৈধ। তবে যদি পারিশ্রমিক ছাড়া ফিসাবিলিল্লাহ আল্লাহর বান্দাদের সেবা করা হয় তবে তা উঁচুস্তরের বিষয়। আর নবীগণের সাথে প্রতিনিধিত্বের সম্পর্কশীলদের পন্থা এটাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)