মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ইকালা অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার পর তা বাতিল ও ফেরত গ্রহণ

কখনো এরূপ হয় যে, দু’ব্যক্তির মধ্যে কোন জিনিসের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপার হল এবং উভয় পক্ষ থেকে কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল, লেন-দেনও হল। এরপর কোন এক পক্ষ নিজের সুবিধার প্রেক্ষিতে লেন-দেন বাতিল করতে চায়। যেমন ক্রেতা ক্রয়কৃত জিনিস ফেরত দিতে চায় অথবা বিক্রেতা তার জিনিস ফেরত নিতে চায়, এমতাবস্থায় যদিও শরীআতের দৃষ্টিতে অন্য পক্ষ বাধ্য নয় যে, সে এজন্য সম্মত হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ চারিত্রিক ধারায় এটা অনুমোদন করেছেন এবং একে বড় পুণ্যের কাজ বলে স্থির করেছেন, শরীআতের পরিভাষায় এটাকেই ইকালা বলা হয়।
৪৩০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে বান্দা তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে ইকালা করে (অর্থাৎ তার বিক্রীত বা ক্রয়কৃত জিনিস ফেরত গ্রহণে সম্মত হয়ে যায়) তবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ত্রুটি (অর্থাৎ তার গুনাহ) ক্ষমা করবেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا، أَقَالَهُ اللَّهُ عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন জিনিস বিক্রি করে অথবা ক্রয় করে মানুষ ফেরত প্রদান বা ফেরত গ্রহণ তখনই চায় যখন অনুভব করে যে, আমার থেকে ত্রুটি হয়েছে, আর এ বিষয়ে আমি লোকসানে পড়েছি এবং অন্য পক্ষ লাভে রয়েছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় পক্ষ বিষয়টি বাতিল করে ফেরত গ্রহণে সম্মত হওয়া নিঃসন্দেহে ইসার বা অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণীতে এ প্রাধান্য প্রদানেই উৎসাহিত করেছেন। এরূপ প্রাধান্য প্রদানকারীকে সুসংবাদ শুনিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার ত্রুটি আর গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। নিঃসন্দেহে এটা বিরাট ফলপ্রসূ ব্যাপার।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান