মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৮. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সেই গোশত ও সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যা হারাম মাল দ্বারা বর্ধিত হয়েছে। আর প্রত্যেক দেহ যা হারাম মাল দ্বারা বর্ধিত হয়েছে জাহান্নামই তার উপযুক্ত স্থান। (আহমদ, দারিমী, বায়হাকী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
َعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنَ السُّحْتِ، كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ. (رواه احمد والدارمى والبيهقى فى شعب الايمان)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর আশ্রয় চাই। আলোচ্য হাদীসে খুবই কঠিন ধমক রয়েছে। হাদীসের শব্দাবলীর বাহ্যিক মর্মার্থ এটাই যে, দুনিয়াতে যে ব্যক্তি হারাম উপার্জনের খাদ্য দ্বারা দেহ বর্ধিত করেছে সে জান্নাতের প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। আর জাহান্নামই তার ঠিকানা। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। হাদীসের ব্যাখ্যাকারীগণ কুরআন ও হাদীসের অন্যান্য দলীলের আলোকে এর অর্থ এই বলেছেন যে, এ জাতীয় লোক হারাম ভক্ষণের শাস্তি না পেয়ে জান্নাতে যেতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি সে মু'মিন হয়ে থাকে তবে হারামের শাস্তি ভোগের পর জান্নাতে যেতে পারবে। আর মৃত্যুর পূর্বে যদি তার সত্য তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সৌভাগ্য হয়, অথবা কোন নেক বান্দা তার জন্য ক্ষমার দু'আ করে ও তা কবুল হয় কিংবা দয়ালু আল্লাহ স্বয়ং ক্ষমা ফায়সালা করেন তবে শাস্তি ছাড়াও পরিত্রাণ পেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)