মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
এক সাথে তিন তালাক প্রদান শক্ত গুনাহ
৩৫৯. হযরত মাহমুদ ইবনে লাবীদ (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে সংবাদ দেয়া হল যে, সে তার স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাকের সব ক’টি দিয়েছে। তখন তিনি রাগান্বিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে বললেন, আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান অথচ আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা হচ্ছে। (অর্থাৎ একই সাথে তিন তালাক প্রদান আল্লাহর সেই কিতাবের সাথে উপহাস ও বেআদবী যেখানে তালাকের নিয়মাবলী পূর্ণভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। তবে কি আমার বর্তমানে ও জীবদ্দশায়ই আল্লাহর কিতাব ও এর শিক্ষার সাথে উপহাস করা হবে? (হুজুর ﷺ ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় এ কথা বলেন) এমনকি জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি তাকে হত্যা করব? (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، قَالَ: أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ جَمِيعًا، فَقَامَ غَضْبَانَ ثُمَّ قَالَ: «أَيُلْعَبُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ؟» حَتَّى قَامَ رَجُلٌ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا أَقْتُلُهُ؟ (رواه النسائى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, একই সঙ্গে তিন তালাক প্রদান শক্ত গুনাহ। এবং কুরআন মজীদে বর্ণিত তালাক প্রণালী থেকে প্রত্যাবর্তন ও এর সাথে এক প্রকার খেল-তামাশা করা। তবে যেভাবে ঋতুবতী অবস্থায় প্রদত্ত তালাক শক্ত গুনাহ ও শরীয়তের বিরুদ্ধাচরণ সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং এ কারণে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যায়, অনুরূপভাবে, একই সাথে প্রদত্ত তিন তালাকও জমহুর উলামা কিরামের নিকট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। একই সাথে তিন তালাক প্রদানকে আল্লাহর কিতাবের সাথে খেল-তামাশা বলা হয়েছে সম্ভবত এই ভিত্তিতে যে, কুরআন মাজীদের আয়াতঃ
{الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (229) فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} [البقرة: 229، 230]
দ্বারা বুঝা যায় যে, যদি একাধিক তালাক দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তবে এর পন্থা এই যে, একসাথে নয় বরং বিভিন্ন সময়ে মধ্যখানে সংগত বিরতিসহ প্রদান করা হবে। হাদীস দ্বারা যার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এই বুঝা গেল যে, একটি পবিত্র অবস্থায় এক তালাক দেয়া হবে।
হাদীসে একথা উল্লেখ নেই যে, সে সাহাবী সেই ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে হত্যা করার বিষয়ে নবী সমীপে নিবেদন করেছিলেন তাঁকে তিনি কি উত্তর প্রদান করেছিলেন? উল্লেখ্য যে, তিনি মৌনতা অবলম্বন করেন। এবং মৌনতা দ্বারা এটা বলে দিলেন যে, যদিও সেই ব্যক্তি অতিশয় জাহিলী কাজ করেছে তবু এটা এমন গুনাহ নয়, যে কারণে তাকে হত্যা করা হবে। আল্লাহ অধিক জানেন।
এখনে একথা উল্লেখ যোগ্য যে, আমাদের যুগে বিশেষভবে আমাদের দেশে তালাক-এর যে ঘটনাবলী দৃষ্টিগোচর হয় তাতে প্রায় শতকরা নব্বইটি এরূপ যে, জাহিল স্বামী এক সাথে তিন তালাক দিয়ে বসে আর সে মোটেই জানে না যে, এটা শক্ত গুনাহও বটে। এরপর দ্বিতীয় বার বিবাহের মাসআলাও বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
{الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (229) فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} [البقرة: 229، 230]
দ্বারা বুঝা যায় যে, যদি একাধিক তালাক দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তবে এর পন্থা এই যে, একসাথে নয় বরং বিভিন্ন সময়ে মধ্যখানে সংগত বিরতিসহ প্রদান করা হবে। হাদীস দ্বারা যার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এই বুঝা গেল যে, একটি পবিত্র অবস্থায় এক তালাক দেয়া হবে।
হাদীসে একথা উল্লেখ নেই যে, সে সাহাবী সেই ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে হত্যা করার বিষয়ে নবী সমীপে নিবেদন করেছিলেন তাঁকে তিনি কি উত্তর প্রদান করেছিলেন? উল্লেখ্য যে, তিনি মৌনতা অবলম্বন করেন। এবং মৌনতা দ্বারা এটা বলে দিলেন যে, যদিও সেই ব্যক্তি অতিশয় জাহিলী কাজ করেছে তবু এটা এমন গুনাহ নয়, যে কারণে তাকে হত্যা করা হবে। আল্লাহ অধিক জানেন।
এখনে একথা উল্লেখ যোগ্য যে, আমাদের যুগে বিশেষভবে আমাদের দেশে তালাক-এর যে ঘটনাবলী দৃষ্টিগোচর হয় তাতে প্রায় শতকরা নব্বইটি এরূপ যে, জাহিল স্বামী এক সাথে তিন তালাক দিয়ে বসে আর সে মোটেই জানে না যে, এটা শক্ত গুনাহও বটে। এরপর দ্বিতীয় বার বিবাহের মাসআলাও বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)