মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আযল প্রসঙ্গ

কখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, মানুষ কোন বিশেষ কারণে (যেমন, স্ত্রীর স্বাস্থ্য অথবা প্রথম সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করার লক্ষ্যে এটা চায় না যে, এ সময় তার স্ত্রী গর্ভধারণ করুক। এ উদ্দেশ্যে সে এরূপ করে যে, বীর্যপাতের পূর্ব মুহূর্তে নিজেকে স্ত্রী থেকে পৃথক করে নেয় যেন বীর্য বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। এটাকে 'আযল' বলে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সময়েও কোন কোন লোক এরূপ করতেন। এ সম্পর্কে হুজুর ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যে উত্তর দিয়েছিলেন তা সামনের হাদীসে আসছে। আর একথা সুষ্পষ্ট যে, এটা নিষিদ্ধ বা নাজায়িয অবশ্য নয়, তবে উত্তমও নয়। উম্মতের অধিকাংশ ফকীহবৃন্দ এ জাতীয় হাদীসসমূহ থেকে এটাই বুঝেছেন যে, যদি কোন ব্যক্তি নিজের বিশেষ অবস্থা ও কল্যাণকামিতার কারণে আযল করে তবে সুযোগ আছে, গুনাহ নেই। তবে আমাদের এ যুগে পাশ্চাত্য জাতি ও রাষ্ট্রসমূহের আনুগত্য ও অনুকরণে কোন কোন দেশে দেশীয় ও জাতীয় বংশধারা সীমিতকরণ কার্যাবলী যেভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য মনুষ্য জাতি বৃদ্ধি না পাক। মনুষ্য জাতি বৃদ্ধি পেলে ভাত পাওয়া যাবে না, ইসলামে মোটেই এর সুযোগ নেই। এটা সেই গোমরাহী দৃষ্টিভঙ্গি, যে কারনে জাহিলী যুগে কোন কোন আরববাসী নিজেদের নবজাতক সন্তানকে হত্যা করত। কুরআন মজীদে তাদের সম্বন্ধেই বলা হয়েছে:
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ
দারিদ্র্যের জন্য তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিযক দিয়ে থাকি। (সুরা আন'আম: ১৫১)

এ ভূমিকার পর আযল সম্পর্কিত নিচের হাদীস পাঠ করুন।
৩৪৮. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবদ্দশায়) কুরআন নাযিলের যুগে আমরা (কোন কোন সাহাবী) 'আযল করতাম (আর এটা নিষিদ্ধ এ বিষয়ে কোন আয়াত নাযিল হয়নি) মুসলিমের বর্ণনায় একথা অতিরিক্ত এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি নিষেধ করেননি। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍقَالَ كُنَّا نَعْزِلُ وَالْقُرْآنُ يَنْزِلُ. (رواه البخارى ومسلم)
وزاد مسلم فَبَلَغَ ذَالِكَ النَّبِيَّ فَلَمْ يَنْهَنَا.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পশু, যে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেচনা শক্তি রহিত সেও প্রাকৃতিক নিয়মের বিপরীত পন্থায় কামভাব চরিতার্থ করে না। সুতরাং যে মানুষ এরূপ করে সে পশুর চেয়েও অধম এবং কুরআনের আয়াত: ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ "এরপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্তদের হীনতমে পরিণত করি" (৯৫:৫) এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কিয়ামতের দিনই বুঝা যাবে- আল্লাহ তা'আলার কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া কত বড় দুর্ভাগ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান