মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা

উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।

মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।

কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
৩৩৩. মাইমুন আল কুরদী কর্তৃক স্বীয় পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম অথবা দেশি মহরে বিয়ে করল আর তার অন্তরে তার (স্ত্রীর) মহরের হক আদায়ের ইচ্ছা নেই, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (তাবরানীর আওসত সগীর)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً عَلَى مَا قَلَّ مِنَ الْمَهْرِ أَوْ كَثُرَ لَيْسَ فِي نَفْسِهِ أَنْ يُؤَدِّيَ إِلَيْهَا حَقَّهَا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ زَانٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط والصغير)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উদ্দেশ্য এই যে, মহর আদায়ের ব্যাপারে শুরু থেকেই যে ব্যক্তির মন্দ চিন্তা রয়েছে, সে মহর স্বীকার করল বটে, তবে অন্তরে এত বড় ত্রুটি ও এমন স্তরের গুনাহ রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন তাকে ব্যাভিচারের অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে। এছাড়াও হাদীসের বিভিন্ন কিতাবের বরাতে প্রায় অনুরূপ বিষয়ে অনেক হাদীস কানযুল উম্মালে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যে সব হাদীসে এ জাতীয় লোকদের জন্য বহু কঠিন হুমকী ও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে, যারা মহরকে কেবল মৌখিক ও পদ্ধতিগত বিষয় মনে করে এত বিরাট অংকের মহর নির্ধারণ করে নেয়, যা আদায়ের কোন সম্ভাবনাই থাকে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান