মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
যে মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে, তাকে একবার দেখে নেওয়া গুনাহ নয় বরং উত্তম
৩২৫. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলাম (অথবা প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা করলাম) তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, জি-না। তিনি বললেন, তাহলে তাকে এক নজর দেখে নাও। এটা তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসা বিষয়ে অধিক সহায়ক হবে। (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنَ شُعْبَةَ قَالَ خَطَبْتُ امْرَأَةً فَقَالَ لَيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ لاَ. قَالَ: فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا. (رواه احمد والترمذى والنسائى وابن ماجه)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলীর উদ্দেশ্য এটাই যে, বিয়ে-শাদীর বিষয় অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ, যা সারা জীবনের জন্য এক সিদ্ধান্ত ও চুক্তিস্বরূপ। এটা সংগত নয় যে, চুক্তি অজ্ঞাতসারে অন্ধকারে হবে, বরং জ্ঞাতসারে এবং দেখেশুনে হওয়া চাই। নির্ভরযোগ্য লোক, বিশেষ করে মহিলাদের মাধ্যমেও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। যে মাধ্যমই অবলম্বন করা হোক না কেন, সর্বাবস্থায় এ কথার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পাত্রী বা তার পারিবারিক লোকদের জন্য কঠিন এবং অনভিপ্রেত যেন না হয়। বরং এটা উত্তম যে, তারা বুঝতে পারবে না। সুনানে আবু দাউদে হযরত জারির (রা)-এর এ বর্ণনা এসেছে যে, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ নির্দেশ অনুযায়ী আমি তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। অবশেষে এ বিষয়ে আমি সফলকাম হলাম এবং আমি তাকে বিয়ে করলাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)