মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
চুল-দাড়ি সুন্দর ও পরিপাটি করে রাখার নির্দেশ
২৮৫. হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় এক লোক আসল, যার মাথার চুল ও দাড়ি অবিন্যস্ত ও এলামেলো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হাতে ইশারা করলেন, যেন তিনি তাকে নিজের চুল ও দাড়ি সুন্দর ও পরিপটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেমতে সে তাই করল এবং পুনরায় ফিরে আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: এটা কি ঐ অবস্থার চেয়ে ভালো নয় যে, তোমাদের কেউ একেবারে উষ্ক-খুষ্ক অবস্থায় কোথাও এসে হাযির হবে, যেন সে একটা শয়তান? -মুয়াত্তা ইমাম মালেক
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ. فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ. كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلاَحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ. فَفَعَلَ الرَّجُلُ، ثُمَّ رَجَعَ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَيْسَ هذَا خَيْراً مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ؟». (رواه مالك)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব হাদীস দ্বারা ঐসব কৃত্রিম তপস্বীদের ধারণা খণ্ডন হয়ে যায় যারা মনে করে যে, আল্লাহ্ অন্বেষী ও আখেরাতের চিন্তাধারী লোকদের জন্য নিজেদের সূরত-নমুনা ও লেবাসের সুন্দর-অসুন্দর থেকে নির্লিপ্ত থেকে ময়লা কাপড়, নোংরা শরীর ও উষ্ক-খুষ্ক চুল নিয়ে থাকা চাই। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সূরত ও লেবাসের পরিপাটির চিন্তা এবং এগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যপ্রিয়তা তাদের নিকট যেন দুনিয়াদারীর ব্যাপার। যারা এরূপ করে, তারা নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা এবং তাঁর আনীত দ্বীন ও শরী‘আত রুচি সম্পর্কে অজ্ঞ। হ্যাঁ, সূরত, লেবাস ইত্যাদি সুন্দর ও পরিপাটি করার সীমাতিরিক্ত চেষ্টা এবং এর জন্য অহেতুক লৌকিকতাও অপছন্দনীয় ও শরী‘আত রুচির পরিপন্থী। যেমন, সামনের কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
বাস্তব কথা এই যে, জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় এ শাখাটির ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনার সারকথা এটাই যে, সীমালংঘন ও অবহেলা উভয়টি থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই।
উপরে যেসব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার করার ও চেহারার আকৃতি ঠিক রাখার এবং মাথা ও দাড়ির চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এগুলোর সম্বোধিত ব্যক্তি তারাই, যারা এ ব্যাপারে ত্রুটি ও অবহেলায় লিপ্ত ছিল এবং যারা নিজেদের আকৃতি অবয়ব অসুন্দর করে রেখেছিল। আজও যাদের এ অবস্থা, তাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এসব বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা চাই। এর বিপরীত যেসব মানুষ এ ব্যাপারে অধিক বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনে লিপ্ত এবং বাহ্যিক আকার-আকৃতি সুন্দর করাকে সীমাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়, আর এটাকেই শ্রেষ্ঠত্ব ও নিকৃষ্টতার মাপকাঠি মনে করতে শুরু করে, তাদের সামনের হাদীসগুলো থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা চাই। এসব হাদীসের সম্বোধিত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তারাই।
বাস্তব কথা এই যে, জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় এ শাখাটির ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনার সারকথা এটাই যে, সীমালংঘন ও অবহেলা উভয়টি থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই।
উপরে যেসব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার করার ও চেহারার আকৃতি ঠিক রাখার এবং মাথা ও দাড়ির চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এগুলোর সম্বোধিত ব্যক্তি তারাই, যারা এ ব্যাপারে ত্রুটি ও অবহেলায় লিপ্ত ছিল এবং যারা নিজেদের আকৃতি অবয়ব অসুন্দর করে রেখেছিল। আজও যাদের এ অবস্থা, তাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এসব বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা চাই। এর বিপরীত যেসব মানুষ এ ব্যাপারে অধিক বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনে লিপ্ত এবং বাহ্যিক আকার-আকৃতি সুন্দর করাকে সীমাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়, আর এটাকেই শ্রেষ্ঠত্ব ও নিকৃষ্টতার মাপকাঠি মনে করতে শুরু করে, তাদের সামনের হাদীসগুলো থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা চাই। এসব হাদীসের সম্বোধিত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তারাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)