মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মহিলাদের জন্য বেশী পাতলা কাপড় নিষেধ
২৬৯. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার বোন) আসমা বিনতে আবূ বকর একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসলেন। তখন তার শরীরে ছিল পাতলা কাপড়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, হে আসমা! মেয়েলোক যখন বালেগ হয়ে যায়, তখন এটা ঠিক নয় যে, তার শরীরের কোন অংশ নজরে আসবে এই এই অঙ্গ ছাড়া। এই বলে তিনি উভয় হাত ও চেহারার দিকে ইশারা করলেন। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ، دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَابٌ رِقَاقٌ، فَأَعْرَضَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: «يَا أَسْمَاءُ، إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَا» وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ (رواه ابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, মহিলাদের এমন পাতলা কাপড় পরিধান করা জায়েয নয়, যার দ্বারা শরীর দেখা যায়। হ্যাঁ, চেহারা ও হাত খোলা রাখা জায়েয। অর্থাৎ, বাকী শরীরের ন্যায় এগুলো ঢেকে রাখা জরুরী নয়।

এখানে মনে রাখতে হবে যে, এ হাদীসে মহিলাদের জন্য সতরের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। হিজাব তথা পর্দার বিধান এর থেকে পৃথক। আর সেটা হচ্ছে এই যে, সে বিনা প্রয়োজনে বাইরে ঘুরাফেরা করবে না। আর যদি প্রয়োজনে ও বিশেষ কাজের জন্য বাইরে বের হয়, তাহলে পর্দার সাথে বের হবে। সতর ও হিজাব শরী‘আত দু'টি বিধান, আর এ দু'টির সীমা রেখাও পৃথক। কেউ কেউ এ দু'টিকে একই মনে করে, যা ঠিক নয়।

প্রবল ধারণা এই যে, হযরত আসমার হুযুর (ﷺ)-এর সামনে আসার যে ঘটনা এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে, এটা হিজাব তথা পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বেকার কথা। কেননা, এ বিধান নাযিল হওয়ার পর হযরত আসমা এভাবে হুযুর (ﷺ)-এর সামনে আসতে পারেন না।

ইমাম মালেক (রহ) মুয়াত্তা কিতাবে হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ ঘটনাও বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর ভাইয়ের কন্যা হাফসা বিনতে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর একবার তাঁর কাছে আসল। এ সময় তার গায়ে খুব পাতলা ওড়না ছিল। হযরত আয়েশা রাযি. এটা খুলে ছিঁড়ে ফেললেন এবং একটি মোটা কাপড়ের ওড়না পরিয়ে দিলেন। একথা স্পষ্ট যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ কাজটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফল ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান