মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পড়ে যাওয়া লোকমাও উঠিয়ে খেয়ে নেওয়া চাই
২৫০. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তোমাদের প্রতিটি কাজের সময় এমনকি খাওয়ার সময়ও শয়তান তোমাদের কাছে উপস্থিত থাকে। তাই (খানা খাওয়ার সময়) তোমাদের কারো হাত থেকে লোকমা পড়ে যায়, তখন সে যেন এটা উঠিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে খেয়ে ফেলে এবং শয়তানের জন্য ছেড়ে না দেয়। তারপর যখন খানা খেয়ে শেষ করে, তখন যেন আঙ্গুলগুলোও চেটে নেয়। কেননা, সে জানে না যে, খাবারের কোন্ অংশে বিশেষ বরকত রয়েছে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أَحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأْنِهِ، حَتَّى يَحْضُرَهُ عِنْدَ طَعَامِهِ، فَإِذَا سَقَطَتْ مِنْ أَحَدِكُمُ اللُّقْمَةُ، فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى، ثُمَّ لِيَأْكُلْهَا، وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ، فَإِذَا فَرَغَ فَلْيَلْعَقْ أَصَابِعَهُ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي فِي أَيِّ طَعَامِهِ يَكُونُ الْبَرَكَةُ» (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের শেষাংশে তো খাওয়ার পর আঙ্গুলসমূহ চেটে পরিষ্কার করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- যার ব্যাপারে আগেও বলে আসা হয়েছে। আর প্রথম অংশে বলা হয়েছে যে, যদি খাওয়ার সময় কারো হাত থেকে লোকমা পড়ে যায়, তাহলে সে এটা বেপরোয়া ও অহংকারী লোকদের ন্যায় ফেলে দিবে না; বরং অভাবী ও মূল্যায়নকারী বান্দার মত সে এটা উঠিয়ে নিবে। যদি নীচে পড়ে যাওয়ার কারণে এর মধ্যে কোন কিছু লেগে যায়, তাহলে পরিষ্কার করে এটা খেয়ে নিবে। এতে অতিরিক্ত এ কথাও বলা হয়েছে যে, খাবারের সময়ও শয়তান উপস্থিত থাকে। যদি পড়ে যাওয়া লোকমা এভাবেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটা শয়তানের ভাগে আসবে।
খানার মধ্যে শয়তানের হস্তক্ষেপ কি বাস্তব না রূপক?
আগেই যেমন বলে আসা হয়েছে যে, ফিরিশতা এবং শয়তান আল্লাহর ঐ সৃষ্টি, যারা নিশ্চিতভাবে অধিকাংশ সময় আমাদের সাথে থাকে; কিন্তু আমরা তাদেরকে দেখতে পাই না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ব্যাপারে যাকিছু বলেছেন, আল্লাহ প্রদত্ত আন দ্বারাই বলেছেন এবং এটা সম্পূর্ণ সত্য। তিনি কখনো কখনো তাদেরকে দেখতেন- যেভাবে আমরা এ দুনিয়ার স্কুল জিনিসমূহ দেখে থাকি। (যেমন অনেক হাদীস দ্বারা এটা জানা যায়।) এজন্য যেসব হাদীসে খাওয়ার সময় শয়তানের উপস্থিতি, আল্লাহর নাম না নিয়ে খেলে শয়তানের শরীক হয়ে যাওয়া অথবা পড়ে যাওয়া লোকমা শয়তানের হিস্যা হয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে, এসব হাদীসকে রূপক অর্থে গ্রহণ করা কোনক্রমেই ঠিক নয়।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) এ হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' কিতাবে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আমাদের এক বন্ধু (শাগরিদ অথবা মুরীদ) আমাদের এখানে আসলেন। তার জন্য খানা আনা হল। তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এমন সময় খাবারের একটি টুকরা পড়ে গেল এবং গড়িয়ে মাটিতে চলে গেল। তিনি এটা উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন এবং এর পেছনে ধাওয়া করলেন, কিন্তু এটা তাঁর নিকট থেকে আরো দূরে চলে যাচ্ছিল। যেসব লোক সেখানে উপস্থিত ছিল এবং এ তামাশা দেখছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত আশ্চর্য হল। এ দিকে খাদ্য গ্রহণকারী লোকটি অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত এটা ধরে ফেললেন এবং নিজের গ্রাস বানিয়ে ফেললেন। কয়েকদিন পর এক ব্যক্তির উপর জিন শয়তান চড়াও হল এবং ঐ ব্যক্তির মুখে কথাও বলল। আমাদের ঐ মেহমান বন্ধুর নাম নিয়ে একথাও বলল যে, অমুক ব্যক্তি খানা খাচ্ছিল। আমি তার কাছে গেলাম। তার খাবার আমার কাছে খুবই ভালো মনে হল; কিন্তু সে আমাকে খাওয়ায়নি। তাই আমি তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেই এবং ফেলে দেই; কিন্তু সে পুনরায় আমার কাছ থেকে এটা ছিনিয়ে নিল।
ঘটনা বর্ণনা করার পর শাহ সাহেব লিখেন যে, এ ধরনের ঘটনা আমরা অনেক শুনেছি এবং এগুলো দ্বারা আমাদের জানা হয়ে গেল যে, এসব হাদীস (যেগুলোর মধ্যে পানাহার ইত্যাদিতে শয়তানের অংশ গ্রহণ এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখিত হয়েছে, এগুলো) রূপকের অন্তর্গত নয়; বরং যা বলা হয়েছে তাই বাস্তব।
খানার মধ্যে শয়তানের হস্তক্ষেপ কি বাস্তব না রূপক?
আগেই যেমন বলে আসা হয়েছে যে, ফিরিশতা এবং শয়তান আল্লাহর ঐ সৃষ্টি, যারা নিশ্চিতভাবে অধিকাংশ সময় আমাদের সাথে থাকে; কিন্তু আমরা তাদেরকে দেখতে পাই না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ব্যাপারে যাকিছু বলেছেন, আল্লাহ প্রদত্ত আন দ্বারাই বলেছেন এবং এটা সম্পূর্ণ সত্য। তিনি কখনো কখনো তাদেরকে দেখতেন- যেভাবে আমরা এ দুনিয়ার স্কুল জিনিসমূহ দেখে থাকি। (যেমন অনেক হাদীস দ্বারা এটা জানা যায়।) এজন্য যেসব হাদীসে খাওয়ার সময় শয়তানের উপস্থিতি, আল্লাহর নাম না নিয়ে খেলে শয়তানের শরীক হয়ে যাওয়া অথবা পড়ে যাওয়া লোকমা শয়তানের হিস্যা হয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে, এসব হাদীসকে রূপক অর্থে গ্রহণ করা কোনক্রমেই ঠিক নয়।
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) এ হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' কিতাবে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আমাদের এক বন্ধু (শাগরিদ অথবা মুরীদ) আমাদের এখানে আসলেন। তার জন্য খানা আনা হল। তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এমন সময় খাবারের একটি টুকরা পড়ে গেল এবং গড়িয়ে মাটিতে চলে গেল। তিনি এটা উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন এবং এর পেছনে ধাওয়া করলেন, কিন্তু এটা তাঁর নিকট থেকে আরো দূরে চলে যাচ্ছিল। যেসব লোক সেখানে উপস্থিত ছিল এবং এ তামাশা দেখছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত আশ্চর্য হল। এ দিকে খাদ্য গ্রহণকারী লোকটি অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত এটা ধরে ফেললেন এবং নিজের গ্রাস বানিয়ে ফেললেন। কয়েকদিন পর এক ব্যক্তির উপর জিন শয়তান চড়াও হল এবং ঐ ব্যক্তির মুখে কথাও বলল। আমাদের ঐ মেহমান বন্ধুর নাম নিয়ে একথাও বলল যে, অমুক ব্যক্তি খানা খাচ্ছিল। আমি তার কাছে গেলাম। তার খাবার আমার কাছে খুবই ভালো মনে হল; কিন্তু সে আমাকে খাওয়ায়নি। তাই আমি তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেই এবং ফেলে দেই; কিন্তু সে পুনরায় আমার কাছ থেকে এটা ছিনিয়ে নিল।
ঘটনা বর্ণনা করার পর শাহ সাহেব লিখেন যে, এ ধরনের ঘটনা আমরা অনেক শুনেছি এবং এগুলো দ্বারা আমাদের জানা হয়ে গেল যে, এসব হাদীস (যেগুলোর মধ্যে পানাহার ইত্যাদিতে শয়তানের অংশ গ্রহণ এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখিত হয়েছে, এগুলো) রূপকের অন্তর্গত নয়; বরং যা বলা হয়েছে তাই বাস্তব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)