মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মদের ব্যাপারে কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন বিধান
একথা পূর্বেই উল্লেখ করে আসা হয়েছে যে, যখন সূরা মায়েদা নাযিল হওয়ার পর মদকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করা হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কিছু এমন কঠিন অন্তর্বর্তীকালীন বিধানও জারী করলেন, যেগুলোর উদ্দেশ্য কেবল এই ছিল যে, ঈমানদারদের অন্তরে এই অশ্লীলতার মূল তথা মদের প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি হোক। যাতে পুরাতন অভ্যাস কখনো এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে না পারে। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীস পাঠ করে নেওয়া হোক।
একথা পূর্বেই উল্লেখ করে আসা হয়েছে যে, যখন সূরা মায়েদা নাযিল হওয়ার পর মদকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করা হল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কিছু এমন কঠিন অন্তর্বর্তীকালীন বিধানও জারী করলেন, যেগুলোর উদ্দেশ্য কেবল এই ছিল যে, ঈমানদারদের অন্তরে এই অশ্লীলতার মূল তথা মদের প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি হোক। যাতে পুরাতন অভ্যাস কখনো এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে না পারে। নিম্নে এ ধারার কিছু হাদীস পাঠ করে নেওয়া হোক।
২২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্ফাত ও নকীর (এ পাত্র চতুষ্টয়ে) নবীয বানাতে নিষেধ করেছেন এবং চামড়ার মশকে নবীয তৈরী করার নির্দেশ দিয়েছেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَأَمَرَ أَنْ يُنْبَذَ فِيْ اَسْقَيِةِ الْاَدَمِ» (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
খেজুর, মুনাক্কা অথবা আঙ্গুর কিংবা এ জাতীয় কোন জিনিস যদি পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এতক্ষণ পড়ে থাকে যে, এর স্বাদ ও মিষ্টতা পানিতে এসে যায়, কিন্তু নেশার অবস্থা সৃষ্টি না হয়, তাহলে এ পানিকে 'নবীয' বলে। আরবদের মধ্যে এরও প্রচলন ছিল এবং সামনের কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এটা পান করতেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণ্য অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিলেন। যেমন সামনের হাদীসে এ বিষয়টি স্পষ্টরূপে উল্লেখিত রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণ্য অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিলেন। যেমন সামনের হাদীসে এ বিষয়টি স্পষ্টরূপে উল্লেখিত রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)