মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
১৯৭. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার বিজয়ের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশতের বেলায় অনুমতি দিয়েছেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الحُمُرِالأَهْلِيَّةِ، وَرَخَّصَ فِي لُحُومِ الخَيْلِ» (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ ইমাম ঘোড়ার গোশত হালাল হওয়ার পক্ষে মত পোষণ করেন। ইমাম আবূ হানীফা (রহ) এর পক্ষ থেকে এটা মাকরূহ হওয়ার মত বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবতঃ এর ভিত্তি এই যে, আবূ দাউদ শরীফ ও নাসায়ী শরীফে হযরত খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ রাযি.-এর বর্ণনায় এ হাদীস উল্লেখিত হয়েছে: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن أكل لحوم الخيل والبغال والحمير রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

এ হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গাধা ও খচ্চরের সাথে ঘোড়ার গোশত খেতেও নিষেধ করেছেন। যদিও এ হাদীসটির সনদ দুর্বল; কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর সাধারণ রীতি এই যে, যখন কোন জিনিসের হালাল ও হারাম হওয়ার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তখন সতর্কতা হিসাবে তিনি নিষেধের দিকটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সম্ভবত এ জন্যই তিনি ঘোড়ার গোশতকে মাকরূহ বলেছেন। এছাড়াও তাঁর আরো কিছু দলীল রয়েছে। তবে হানাফী ফেকাহর কোন কোন কিতাবে একথাও উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, শেষ দিকে ইমাম আবূ হানীফা (রহ) এ মাসআলায় অন্যান্য ইমামদের মতের দিকে ফিরে এসেছিলেন এবং এর জায়েয হওয়ার মত গ্রহণ করে নিয়েছিলেন- যেমন, হযরত জাবের রাযি.-এর উপরের হাদীস থেকে বুঝা যায়- যা বুখারী মুসলিমের হাদীস।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান