মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পানাহারের আদব ও এর বিধি-বিধান
পানাহার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। (১) যেখানে পানাহারের জিনিসগুলোর হালাল হওয়া অথবা হারাম হওয়া বর্ণনা করা হয়েছে। (২) যেখানে পানাহারের ঐসব আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সম্পর্ক থাকে ভদ্রতা, সুন্দর রীতি ও গাম্ভীর্যের সাথে অথবা এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে কিংবা এগুলো আল্লাহর স্মরণ ও শুকরিয়ার পর্যায়ের এবং এগুলোর মাধ্যমে পানাহারের কাজটি- যা বাহ্যত নিছক জৈবিক চাহিদা ও নফসের দাবী পূরণের জন্য হয়ে থাকে- একটি পুণ্যময় কাজ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়ে যায়।
খাদ্য ও পানীয়ের হালাল-হারাম সম্পর্কে মৌলিক কথা ওটাই, যা কুরআন মজীদ এ শব্দমালায় উল্লেখ করেছে: وَیُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ অর্থাৎ, এই উম্মী নবী ভালো ও পবিত্র জিনিসগুলোকে আল্লাহর বান্দাদের জন্য হালাল সাব্যস্ত করেন এবং মন্দ ও অপবিত্র জিনিসগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করেন।
কুরআন মজীদে পানাহারের বস্তুগুলোর হালাল ও হারাম হওয়ার যেসব বিধি-বিধান রয়েছে, এগুলো মূলতঃ এ আয়াতেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। যেসব জিনিসকে তিনি আল্লাহর হুকুমে হারামসাব্যস্ত করেছেন, এগুলোর মধ্যে বাস্তবে কোন না কোন দিক দিয়ে বাহ্যিক অথবা গোপনীয় অপবিত্রতা অবশ্যই রয়েছে। তদ্রূপভাবে যেসব জিনিসকে তিনি হালাল সাব্যস্ত করেছেন, ঐগুলো সাধারণত মনুষ্য স্বভাবের জন্য উপাদেয় ও পবিত্র এবং খাদ্য হিসাবে উপকারী।
কুরআন মজীদে পানীয় দ্রব্যগুলোর মধ্য থেকে মদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত ও তাকীদপূর্ণ বিধি-বিধান রয়েছে- যেমন এ ধারার সামনের হাদীসগুলো থেকে জানা যাবে। আর খাদ্য জাতীয় জিনিসগুলোর মধ্য থেকে নিম্নলিখিত দ্রব্যগুলোর হারাম হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা কুরআন পাকে করা হয়েছেঃ (১) মৃত অর্থাৎ, ঐ প্রাণী, যে নিজে নিজেই মরে গিয়েছে। (২) রক্ত- অর্থাৎ, ঐ রক্ত, যা রগ থেকে নির্গত হয়েছে। (৩) শুকর- যা একটি অভিশপ্ত ও অপবিত্র প্রাণী। (৪) ঐ পশু, যা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। এসব বস্তু আরবের কোন কোন শ্রেণী ভক্ষণ করত। অথচ পূর্বেকার আসমানী শরীআতসমূহেও এগুলোকে হারাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্যই কুরআন মজীদে স্পষ্টভাবে এবং বার বার এগুলোর হারাম হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
(১) মাইতা- অর্থাৎ, মৃত পশু হারাম হওয়ার কারণটি খুবই স্পষ্ট যে, মনুষ্য স্বভাব এটাকে খাওয়ার যোগ্য মনে করে না; বরং অত্যন্ত ঘৃণা করে। তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটা ক্ষতিকর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, জীবনী শক্তি বন্ধ হয়ে রক্ত ভিতরেই শুকিয়ে গিয়ে মৃতদেহে বিষের প্রভাব এসে যায়।
(২) রক্তেরও একই অবস্থা যে, মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে খাওয়ার বস্তু মনে করে না। আর শরী‘আতে এটাকে অকাট্যভাবে অপবিত্র ও সত্তাগতভাবে নাপাক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(৩) শুকর এমন অভিশপ্ত প্রাণী যে, যখন আল্লাহ তা'আলার গযব ও ক্রোধ কোন কোন পাপাচারী গোষ্ঠীর চেহারা বিকৃতির ফায়সালা করেছে, তখন তাদেরকে শুকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হয়েছে। وَجَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَالۡخَنَازِیۡرَ এর দ্বারা জানা গেল যে, এ উভয় প্রকার প্রাণী চরম পর্যায়ের অপবিত্র ও অভিশপ্ত এবং আল্লাহর গযব ও ক্রোধের প্রকাশস্থল। এ জন্য এগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে যেহেতু পৃথিবীর কোন সম্প্রদায় সাধারণত বানর খায় না এবং এভাবে যেন এর হারাম হওয়ার উপর পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর ঐকমত্য রয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শুকরকে যেহেতু অনেক সম্প্রদায়- বিশেষ করে হযরত ঈসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার ঘোষণা বার বার এবং তাকীদের সাথে করা হয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসসমূহেও এসেছে যে, যখন শেষ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন, তখন তিনি ক্রুশ ধ্বংসের সাথে পৃথিবীকে শুকরমুক্ত করার অভিযানও চালাবেন। وَيُقتل الخنزير সে সময়ই একথা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাবে যে, তাঁর অনুসারী খ্রীষ্টানরা শুকরকেও নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়ে তাঁর শিক্ষার এবং সকল নবী-রাসূলদের আদর্শ ও শরী‘আত কিরূপ বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
(৪) ঐ পশু, যাকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, কুরআন মজীদে যাকে فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, এর হারাম হওয়ার কারণ এই যে, এর মধ্যে উৎসর্গকারীর শিরকী নিয়্যত ও তার আকীদাগত শিরকীর অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য এ ধরনের পশুও হারাম হয়ে যায়।
মোটকথা, এ হল ঐ চারটি জিনিস, যেগুলোর হারাম হওয়ার ঘোষণা খুবই গুরুত্বের সাথে ও স্পষ্টভাবে কুরআন মজীদে করা হয়েছে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নির্দেশে আরো যেসব জিনিসের হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোও যেন আল্লাহর এ নির্দেশেরই সম্পূরক।
এ ভূমিকার পর এবার ঐসব হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য ও পানীয় বস্তুসমূহের হালাল ও হারাম হওয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
পানাহার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও উপদেশাবলীকে দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। (১) যেখানে পানাহারের জিনিসগুলোর হালাল হওয়া অথবা হারাম হওয়া বর্ণনা করা হয়েছে। (২) যেখানে পানাহারের ঐসব আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সম্পর্ক থাকে ভদ্রতা, সুন্দর রীতি ও গাম্ভীর্যের সাথে অথবা এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যগত কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে কিংবা এগুলো আল্লাহর স্মরণ ও শুকরিয়ার পর্যায়ের এবং এগুলোর মাধ্যমে পানাহারের কাজটি- যা বাহ্যত নিছক জৈবিক চাহিদা ও নফসের দাবী পূরণের জন্য হয়ে থাকে- একটি পুণ্যময় কাজ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়ে যায়।
খাদ্য ও পানীয়ের হালাল-হারাম সম্পর্কে মৌলিক কথা ওটাই, যা কুরআন মজীদ এ শব্দমালায় উল্লেখ করেছে: وَیُحِلُّ لَہُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیۡہِمُ الۡخَبٰٓئِثَ অর্থাৎ, এই উম্মী নবী ভালো ও পবিত্র জিনিসগুলোকে আল্লাহর বান্দাদের জন্য হালাল সাব্যস্ত করেন এবং মন্দ ও অপবিত্র জিনিসগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করেন।
কুরআন মজীদে পানাহারের বস্তুগুলোর হালাল ও হারাম হওয়ার যেসব বিধি-বিধান রয়েছে, এগুলো মূলতঃ এ আয়াতেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। যেসব জিনিসকে তিনি আল্লাহর হুকুমে হারামসাব্যস্ত করেছেন, এগুলোর মধ্যে বাস্তবে কোন না কোন দিক দিয়ে বাহ্যিক অথবা গোপনীয় অপবিত্রতা অবশ্যই রয়েছে। তদ্রূপভাবে যেসব জিনিসকে তিনি হালাল সাব্যস্ত করেছেন, ঐগুলো সাধারণত মনুষ্য স্বভাবের জন্য উপাদেয় ও পবিত্র এবং খাদ্য হিসাবে উপকারী।
কুরআন মজীদে পানীয় দ্রব্যগুলোর মধ্য থেকে মদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত ও তাকীদপূর্ণ বিধি-বিধান রয়েছে- যেমন এ ধারার সামনের হাদীসগুলো থেকে জানা যাবে। আর খাদ্য জাতীয় জিনিসগুলোর মধ্য থেকে নিম্নলিখিত দ্রব্যগুলোর হারাম হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা কুরআন পাকে করা হয়েছেঃ (১) মৃত অর্থাৎ, ঐ প্রাণী, যে নিজে নিজেই মরে গিয়েছে। (২) রক্ত- অর্থাৎ, ঐ রক্ত, যা রগ থেকে নির্গত হয়েছে। (৩) শুকর- যা একটি অভিশপ্ত ও অপবিত্র প্রাণী। (৪) ঐ পশু, যা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। এসব বস্তু আরবের কোন কোন শ্রেণী ভক্ষণ করত। অথচ পূর্বেকার আসমানী শরীআতসমূহেও এগুলোকে হারাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্যই কুরআন মজীদে স্পষ্টভাবে এবং বার বার এগুলোর হারাম হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
(১) মাইতা- অর্থাৎ, মৃত পশু হারাম হওয়ার কারণটি খুবই স্পষ্ট যে, মনুষ্য স্বভাব এটাকে খাওয়ার যোগ্য মনে করে না; বরং অত্যন্ত ঘৃণা করে। তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটা ক্ষতিকর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, জীবনী শক্তি বন্ধ হয়ে রক্ত ভিতরেই শুকিয়ে গিয়ে মৃতদেহে বিষের প্রভাব এসে যায়।
(২) রক্তেরও একই অবস্থা যে, মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে খাওয়ার বস্তু মনে করে না। আর শরী‘আতে এটাকে অকাট্যভাবে অপবিত্র ও সত্তাগতভাবে নাপাক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(৩) শুকর এমন অভিশপ্ত প্রাণী যে, যখন আল্লাহ তা'আলার গযব ও ক্রোধ কোন কোন পাপাচারী গোষ্ঠীর চেহারা বিকৃতির ফায়সালা করেছে, তখন তাদেরকে শুকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দেওয়া হয়েছে। وَجَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَالۡخَنَازِیۡرَ এর দ্বারা জানা গেল যে, এ উভয় প্রকার প্রাণী চরম পর্যায়ের অপবিত্র ও অভিশপ্ত এবং আল্লাহর গযব ও ক্রোধের প্রকাশস্থল। এ জন্য এগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে যেহেতু পৃথিবীর কোন সম্প্রদায় সাধারণত বানর খায় না এবং এভাবে যেন এর হারাম হওয়ার উপর পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠীর ঐকমত্য রয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শুকরকে যেহেতু অনেক সম্প্রদায়- বিশেষ করে হযরত ঈসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়েছে, এ জন্য কুরআন মজীদে এর হারাম হওয়ার ঘোষণা বার বার এবং তাকীদের সাথে করা হয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসসমূহেও এসেছে যে, যখন শেষ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন, তখন তিনি ক্রুশ ধ্বংসের সাথে পৃথিবীকে শুকরমুক্ত করার অভিযানও চালাবেন। وَيُقتل الخنزير সে সময়ই একথা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাবে যে, তাঁর অনুসারী খ্রীষ্টানরা শুকরকেও নিজেদের প্রিয় খাদ্য বানিয়ে নিয়ে তাঁর শিক্ষার এবং সকল নবী-রাসূলদের আদর্শ ও শরী‘আত কিরূপ বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
(৪) ঐ পশু, যাকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, কুরআন মজীদে যাকে فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, এর হারাম হওয়ার কারণ এই যে, এর মধ্যে উৎসর্গকারীর শিরকী নিয়্যত ও তার আকীদাগত শিরকীর অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য এ ধরনের পশুও হারাম হয়ে যায়।
মোটকথা, এ হল ঐ চারটি জিনিস, যেগুলোর হারাম হওয়ার ঘোষণা খুবই গুরুত্বের সাথে ও স্পষ্টভাবে কুরআন মজীদে করা হয়েছে। এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নির্দেশে আরো যেসব জিনিসের হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোও যেন আল্লাহর এ নির্দেশেরই সম্পূরক।
এ ভূমিকার পর এবার ঐসব হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাদ্য ও পানীয় বস্তুসমূহের হালাল ও হারাম হওয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
১৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলামপূর্ব জাহেলিয়্যাত যুগের লোকেরা (স্বভাবগত আকর্ষণ ও পছন্দের কারণে) কোন কোন জিনিস খেত আর (স্বভাবগত অপছন্দ ও ঘৃণার কারণে) কোন কোন জিনিস পরিহার করত। (এভাবেই তাদের জীবন চলছিল।) তারপর আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নবী বানিয়ে পাঠালেন, আপন পবিত্র কিতাব নাযিল করলেন, আল্লাহর নিকট যেসব জিনিস হালাল ছিল, ঐ সব জিনিসের হালাল হওয়ার কথা বর্ণনা করে দিলেন এবং যেসব জিনিস হারাম ছিল ঐগুলোর হারাম হওয়ার কথাও বলে দিলেন। (অতএব, আল্লাহ্ ও রাসূল যে জিনিসকে হালাল করেছেন, সেটাই হালাল আর যে জিনিসকে হারাম করেছেন সেটাই হারাম।) আর যে জিনিসের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন (অর্থাৎ, যার হালাল-হারাম হওয়ার সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি) সেটা ক্ষমাযোগ্য। (অর্থাৎ, এটা ব্যবহার করাতে কোন শাস্তি আসবে না।) তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. প্রমাণ হিসাবে এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন: قُلۡ لَّاۤ اَجِدُ فِیۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیَّ مُحَرَّمًا عَلٰی طَاعِمٍ یَّطۡعَمُہٗۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ مَیۡتَۃً الآية
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا،» فَبَعَثَ اللَّهُ نَبِيَّهُ، وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ، وَأَحَلَّ حَلَالَهُ، وَحَرَّمَ حَرَامَهُ، فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ، وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ، وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ " وَتَلَا {قُل لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً } إِلَى آخِرِ الْآيَةِ (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির মর্ম এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নবুওয়াত ও কুরআন নাযিল হওয়ার পর কোন জিনিসের হালাল অথবা হারাম হওয়ার মানদণ্ড হচ্ছে আল্লাহর ওহী এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশ। এতে কারো পছন্দ-অপছন্দ অথবা আকর্ষণ ও ঘৃণার কোন দখল নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)