মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
সালামের প্রতিদান ও সওয়াব
১২৪. হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে বলল, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালামের উত্তর দিলেন। তারপর লোকটি মজলিসে বসে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দশ (অর্থাৎ, সালামের বিনিময়ে এ বান্দার জন্য দশটি নেকী লিখে দেওয়া হল।) তারপর আরেক ব্যক্তি আসল এবং বলল, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ, তিনি এর সালামের উত্তর দিলেন। তারপর সে বসে গেল এবার তিনি বললেন, বিশ। (অর্থাৎ, সে বিশটি নেকীর অধিকারী হয়ে গেল।) তারপর আরেক ব্যক্তি আসল এবং বলল, السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ, তিনি তারও সালামের উত্তর দিলেন এবং সে মজলিসে বসে গেল। এবার তিনি বললেন, ত্রিশ। (অর্থাৎ, এ লোকটি ত্রিশটি নেকী পেয়ে গেল। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ إِنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ. فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ ثُمَّ جَلَسَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَشْرٌ. ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ. فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ: عِشْرُونَ. ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ. فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ فَقَالَ: ثَلاَثُونَ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ্ তা'আলা একটি অনুগ্রহমূলক বিধান এ আখেরী উম্মতের জন্য এই নির্ধারণ করেছেন যে, একটি নেকীর বিনিময়ে দশ নেকীর সমান দান করবেন। কুরআন পাকেও বলা হয়েছে: مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ عَشۡرُ اَمۡثَالِہَا এরই ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির বেলায় যে সালামে একটিমাত্র বাক্য অর্থাৎ, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ বলেছিল, এ কথা বললেন যে, সে দশটি নেকী পেয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি এর সাথে আরেকটি বাক্য অর্থাৎ, وَرَحْمَةُ اللَّهِ যোগ করেছিল, তার বেলায় বললেন যে, সে বিশটি নেকী লাভ করে নিল। আর তৃতীয় ব্যক্তি, যে وَبَرَكَاتُهُ যোগ করেছিল, তার বেলায় বললেন যে, সে ত্রিশটি নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। আর এ হিসাবেই সালামের উত্তরদানকারীও প্রতিদান ও সওয়াবের অধিকারী হবে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এসব বাস্তব সত্যের বিশ্বাস নসীব করুন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভ করার যেসব রাস্তা জানা গেল, এগুলোর মূল্য অনুধাবন করে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
ইমাম মালেক (রহ) হযরত উবাই ইবনে কা'বের ছেলে তুফাইলের এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর খেদমতে অনেক সময় উপস্থিত থাকতাম। তাঁর এ রীতি ছিল যে, আমাকে সাথে নিয়ে বাজারে যেতেন এবং যে দোকানদার, পুরান মালের গলি ও যেসব ফকীর মিসকীনের পাশ দিয়ে যেতেন, তাদেরকে কেবল সালাম করতেন (এবং কোন কিছু ক্রয়-বিক্রয় না করেই ফিরে আসতেন।) একদিন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত হলে, তিনি অভ্যাসমত আমাকে নিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। আমি নিবেদন করলাম যে, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? আপনি তো কোন দোকানে গিয়ে দাঁড়ান না, কোন পণ্যও ক্রয় করেন না, জিনিসের দর-দামও জিজ্ঞাসা করেন না এবং বাজারের মজলিস ও আড্ডায়ও বসেন না। তাই আপনি কিসের জন্য বাজারে যাবেন? এখানেই বসুন, কথাবার্তা চলুক আর আমরা উপকৃত হই। হযরত ইবনে উমর রাযি. বললেন, আমি তো কেবল এ উদ্দেশ্যে ও এ নিয়্যতে বাজারে যাই যে, যে-ই সামনে পড়বে তাকেই সালাম করব (এবং প্রতিটি সালামে কমপক্ষে দশটি নেকী অর্জন করে আল্লাহর রহমত ও জবাবী সালামের অসংখ্য বরকত হাসিল করে নিব।)
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এসব বাস্তব সত্যের বিশ্বাস নসীব করুন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভ করার যেসব রাস্তা জানা গেল, এগুলোর মূল্য অনুধাবন করে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
ইমাম মালেক (রহ) হযরত উবাই ইবনে কা'বের ছেলে তুফাইলের এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-এর খেদমতে অনেক সময় উপস্থিত থাকতাম। তাঁর এ রীতি ছিল যে, আমাকে সাথে নিয়ে বাজারে যেতেন এবং যে দোকানদার, পুরান মালের গলি ও যেসব ফকীর মিসকীনের পাশ দিয়ে যেতেন, তাদেরকে কেবল সালাম করতেন (এবং কোন কিছু ক্রয়-বিক্রয় না করেই ফিরে আসতেন।) একদিন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত হলে, তিনি অভ্যাসমত আমাকে নিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। আমি নিবেদন করলাম যে, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? আপনি তো কোন দোকানে গিয়ে দাঁড়ান না, কোন পণ্যও ক্রয় করেন না, জিনিসের দর-দামও জিজ্ঞাসা করেন না এবং বাজারের মজলিস ও আড্ডায়ও বসেন না। তাই আপনি কিসের জন্য বাজারে যাবেন? এখানেই বসুন, কথাবার্তা চলুক আর আমরা উপকৃত হই। হযরত ইবনে উমর রাযি. বললেন, আমি তো কেবল এ উদ্দেশ্যে ও এ নিয়্যতে বাজারে যাই যে, যে-ই সামনে পড়বে তাকেই সালাম করব (এবং প্রতিটি সালামে কমপক্ষে দশটি নেকী অর্জন করে আল্লাহর রহমত ও জবাবী সালামের অসংখ্য বরকত হাসিল করে নিব।)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)