মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
১২৩. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না, যে পর্যন্ত পূর্ণ মু'মিন না হবে। আর তোমরা পূর্ণ মু'মিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত একে অপরকে ভালো বাসবে না। আমি কি তোমাদেরকে ঐ আমলের কথা বলে দিব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি হবে? (সেটা হচ্ছে এই যে.) তোমরা বেশী করে সালামের প্রচলন ও প্রসার করবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا. أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شيء إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট জানা গেল যে, ঈমান- যার উপর জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ ও ওয়াদা রয়েছে, এটা কেবল কালেমা পাঠ করে নেওয়া ও বিশ্বাসের নাম নয়; বরং এটা এমন ব্যাপক বাস্তবতা যে, ঈমানদারদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতাও এর অপরিহার্য শর্ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলে দিয়েছেন যে, একে অপরকে সালাম করা এবং এর উত্তর দেওয়ার দ্বারা এ ভালোবাসা ও হৃদ্যতা অন্তরে সৃষ্টি হয়।
এখানে এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে যে, কোন আমলের বিশেষ প্রভাব তখনই প্রকাশ পায়, যখন এ আমলের মধ্যে প্রাণ থাকে। নামায, রোযা, হজ্ব ও আল্লাহর যিকরের ন্যায় আমলসমূহের অবস্থাও তাই। সালাম ও মুসাফাহার ব্যাপারটিও অনুরূপ যে, এটা যদি অন্তরের ইখলাস ও ঈমানী সম্পর্কের ভিত্তিতে সঠিক আবেগের সাথে হয়, তাহলে অন্তরের মলিনতা বের হয়ে যাওয়া এবং ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হওয়ার এটা বিশেষ মাধ্যম হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের প্রতিটি আমলই কেমন যেন প্রাণহীন।
এখানে এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে যে, কোন আমলের বিশেষ প্রভাব তখনই প্রকাশ পায়, যখন এ আমলের মধ্যে প্রাণ থাকে। নামায, রোযা, হজ্ব ও আল্লাহর যিকরের ন্যায় আমলসমূহের অবস্থাও তাই। সালাম ও মুসাফাহার ব্যাপারটিও অনুরূপ যে, এটা যদি অন্তরের ইখলাস ও ঈমানী সম্পর্কের ভিত্তিতে সঠিক আবেগের সাথে হয়, তাহলে অন্তরের মলিনতা বের হয়ে যাওয়া এবং ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হওয়ার এটা বিশেষ মাধ্যম হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের প্রতিটি আমলই কেমন যেন প্রাণহীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)