মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পারস্পরিক সাক্ষাতের নিয়ম-নীতি
এ পর্যন্ত যেসব হাদীস আনা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণী এবং আল্লাহর সাধারণ সৃষ্টির সাথে আচরণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা জানা গেল। সামনে 'সাক্ষাতের আদব' এবং এর পরে 'মজলিসের আদব' সম্পর্কে যেসব হাদীস আনা হচ্ছে, ঐগুলোও প্রকৃত প্রস্তাবে জীবনের এক বিশেষ পরিধির মধ্যে পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কিত উপদেশাবলীই।
ইসলামের অভিবাদন, সালাম
পৃথিবীর সকল সভ্য জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য এবং সম্বোধিত ব্যক্তিকে বরণ ও তাকে আনন্দিত করার জন্য বিশেষ কোন বাক্য বলার প্রচলন সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। আমাদের (সংকলকের) দেশে ভারতে আমাদের দেশীয় ভাই হিন্দুরা সাক্ষাতের সময় 'নমস্তে' বলে থাকে। আবার প্রাচীন শ্রেণীর কম লেখাপড়া জানা লোকদেরকে 'রাম রাম' বলতেও শোনা যায়। ইউরোপের লোকদের মধ্যে প্রাতকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড মর্নিং' (শুভ সকাল) সন্ধ্যাকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড ইভিনিং' (শুভ সন্ধ্যা) এবং রাত্রিকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড নাইট' (শুভ রাত্রি) ইত্যাদি বলার প্রচলন রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবির্ভাবের সময় আরবদের মধ্যেও সাক্ষাতের সময় এ জাতীয় কিছু বাক্য বলার প্রচলন ছিল।
আবূ দাউদ শরীফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.-এর এ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা ইসলামপূর্ব যুগে পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় এভাবে বাক্য বিনিময় করতাম, أنعم الله بك علينا (আল্লাহ্ তোমার দ্বারা চোখের শীতলতা দান করুন) انعم صباحا (তোমার প্রভাত আনন্দদায়ক হোক।) পরে যখন আমরা জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার থেকে বের হয়েই ইসলামের আলোর দিকে এসে গেলাম, তখন আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করে দেওয়া হল এবং এর স্থলে السلام عليكم শিক্ষা দেওয়া হল।
আজও যদি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বাস্তবতা এটাই যে, এর চেয়ে কোন উত্তম বাক্য ভালোবাসা, সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য কল্পনাই করা যায় না। এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের প্রতি একটু চিন্তা করুন। এটা সর্বোত্তম ও অত্যন্ত ব্যাপক দু‘আবাক্য। এর মর্ম এই যে, আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। এটা ছোটদের জন্য স্নেহ-মমতা, আদব ও ভালোবাসার বাক্যও, আর বড়দের জন্য এতে সম্মান ও শ্রদ্ধাও রয়েছে। তাছাড়া 'আস্সালাম' শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহেরও একটি। কুরআন মজীদে এ বাক্যটি নবী-রাসূলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও সুসংবাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনুগ্রহ, প্রীতি ও ভালোবাসার রস ভরা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی
এ দিকে ঈমানদারদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতেও এভাবে সালাম নিবেদন করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ অন্য এক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আমার ঐসব বান্দা আপনার কাছে আসে, যারা ঈমান এনেছে, তখন আপনি তাদেরকে বলুন, سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةِ (আসসালামু আলাইকুম! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য রহমতের ফায়সালা করে দিয়েছেন।) আর আখেরাতে জান্নাতে প্রবেশের সময় আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ঈমানদারকে বলা হবে: ادخلوها بسلام আরো বলা হবে: سَلام عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنعم عُقبى الدَّار সারকথা, সাক্ষাতের সময়ের জন্য السلام عليكم থেকে উত্তম কোন বাক্য হতে পারে না। যদি সাক্ষাতকারী ব্যক্তি পরস্পর পূর্বপরিচিত হয় এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব অথবা আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক থাকে, তাহলে এ বাক্যের মধ্যে এ সম্পর্ক ও এর ভিত্তিতে ভালোবাসা, আনন্দ, সম্মান ও কল্যাণকামিতার পূর্ণ প্রকাশ রয়েছে। আর যদি পূর্ব থেকে পরিচয় ও সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ বাক্যটিই সম্পর্ক, বিশ্বস্ততা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যম হয়ে যায়। এ বাক্য দ্বারা একজন অপরজনকে যেন আশ্বস্ত করে ও নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, আমি তোমার কল্যাণকামী ও তোমার জন্য দু‘আকারী। আমার মাঝে ও তোমার মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন ও সম্পর্ক রয়েছে। আমার পক্ষ থেকে তোমার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যাহোক, সাক্ষাতের সময় وعَلَيْكُمُ السّلامُ ও السّلامُ عَلَيْكُمْ -এর শিক্ষা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অত্যন্ত মুবারক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত, আর এটা ইসলামের এক মহান প্রতীক। এ জন্যই তিনি এর খুবই তাকীদ করেছেন এবং এর বিরাট ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
এ পর্যন্ত যেসব হাদীস আনা হয়েছে, এগুলোর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণী এবং আল্লাহর সাধারণ সৃষ্টির সাথে আচরণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা জানা গেল। সামনে 'সাক্ষাতের আদব' এবং এর পরে 'মজলিসের আদব' সম্পর্কে যেসব হাদীস আনা হচ্ছে, ঐগুলোও প্রকৃত প্রস্তাবে জীবনের এক বিশেষ পরিধির মধ্যে পারস্পরিক আচরণ সম্পর্কিত উপদেশাবলীই।
ইসলামের অভিবাদন, সালাম
পৃথিবীর সকল সভ্য জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সাক্ষাতের সময় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য এবং সম্বোধিত ব্যক্তিকে বরণ ও তাকে আনন্দিত করার জন্য বিশেষ কোন বাক্য বলার প্রচলন সবসময়ই ছিল এবং এখনো আছে। আমাদের (সংকলকের) দেশে ভারতে আমাদের দেশীয় ভাই হিন্দুরা সাক্ষাতের সময় 'নমস্তে' বলে থাকে। আবার প্রাচীন শ্রেণীর কম লেখাপড়া জানা লোকদেরকে 'রাম রাম' বলতেও শোনা যায়। ইউরোপের লোকদের মধ্যে প্রাতকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড মর্নিং' (শুভ সকাল) সন্ধ্যাকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড ইভিনিং' (শুভ সন্ধ্যা) এবং রাত্রিকালীন সাক্ষাতের সময় 'গুড নাইট' (শুভ রাত্রি) ইত্যাদি বলার প্রচলন রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবির্ভাবের সময় আরবদের মধ্যেও সাক্ষাতের সময় এ জাতীয় কিছু বাক্য বলার প্রচলন ছিল।
আবূ দাউদ শরীফে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.-এর এ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা ইসলামপূর্ব যুগে পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় এভাবে বাক্য বিনিময় করতাম, أنعم الله بك علينا (আল্লাহ্ তোমার দ্বারা চোখের শীতলতা দান করুন) انعم صباحا (তোমার প্রভাত আনন্দদায়ক হোক।) পরে যখন আমরা জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার থেকে বের হয়েই ইসলামের আলোর দিকে এসে গেলাম, তখন আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করে দেওয়া হল এবং এর স্থলে السلام عليكم শিক্ষা দেওয়া হল।
আজও যদি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বাস্তবতা এটাই যে, এর চেয়ে কোন উত্তম বাক্য ভালোবাসা, সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশের জন্য কল্পনাই করা যায় না। এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের প্রতি একটু চিন্তা করুন। এটা সর্বোত্তম ও অত্যন্ত ব্যাপক দু‘আবাক্য। এর মর্ম এই যে, আল্লাহ তোমাদেরকে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন। এটা ছোটদের জন্য স্নেহ-মমতা, আদব ও ভালোবাসার বাক্যও, আর বড়দের জন্য এতে সম্মান ও শ্রদ্ধাও রয়েছে। তাছাড়া 'আস্সালাম' শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহেরও একটি। কুরআন মজীদে এ বাক্যটি নবী-রাসূলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও সুসংবাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনুগ্রহ, প্রীতি ও ভালোবাসার রস ভরা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে-
سَلٰمٌ عَلٰی نُوۡحٍ فِی الۡعٰلَمِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی مُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلۡ یَاسِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلَی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ‘ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِہِ الَّذِیۡنَ اصۡطَفٰی
এ দিকে ঈমানদারদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতেও এভাবে সালাম নিবেদন করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ অন্য এক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন আমার ঐসব বান্দা আপনার কাছে আসে, যারা ঈমান এনেছে, তখন আপনি তাদেরকে বলুন, سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةِ (আসসালামু আলাইকুম! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য রহমতের ফায়সালা করে দিয়েছেন।) আর আখেরাতে জান্নাতে প্রবেশের সময় আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে ঈমানদারকে বলা হবে: ادخلوها بسلام আরো বলা হবে: سَلام عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنعم عُقبى الدَّار সারকথা, সাক্ষাতের সময়ের জন্য السلام عليكم থেকে উত্তম কোন বাক্য হতে পারে না। যদি সাক্ষাতকারী ব্যক্তি পরস্পর পূর্বপরিচিত হয় এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব অথবা আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক থাকে, তাহলে এ বাক্যের মধ্যে এ সম্পর্ক ও এর ভিত্তিতে ভালোবাসা, আনন্দ, সম্মান ও কল্যাণকামিতার পূর্ণ প্রকাশ রয়েছে। আর যদি পূর্ব থেকে পরিচয় ও সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ বাক্যটিই সম্পর্ক, বিশ্বস্ততা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যম হয়ে যায়। এ বাক্য দ্বারা একজন অপরজনকে যেন আশ্বস্ত করে ও নিশ্চয়তা প্রদান করে যে, আমি তোমার কল্যাণকামী ও তোমার জন্য দু‘আকারী। আমার মাঝে ও তোমার মাঝে একটি আত্মিক বন্ধন ও সম্পর্ক রয়েছে। আমার পক্ষ থেকে তোমার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যাহোক, সাক্ষাতের সময় وعَلَيْكُمُ السّلامُ ও السّلامُ عَلَيْكُمْ -এর শিক্ষা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অত্যন্ত মুবারক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত, আর এটা ইসলামের এক মহান প্রতীক। এ জন্যই তিনি এর খুবই তাকীদ করেছেন এবং এর বিরাট ফযীলত বর্ণনা করেছেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
সালামের ফযীলত ও গুরুত্ব
১২১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা দয়াময় আল্লাহর ইবাদত কর, মানুষকে আহার দান কর এবং সালামের প্রসার ঘটাও, শান্তির সাথে জান্নাতে যেতে পারবে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَأَفْشُوا السَّلاَمَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এগুলোর উপর আমলকারীদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। (১) দয়াময় আল্লাহর ইবাদত, (অর্থাৎ, বান্দার উপর আল্লাহর যে বিশেষ হক ও অধিকার রয়েছে এবং যা প্রকৃতপক্ষে মানবসৃষ্টির উদ্দেশ্য যে, তাঁর এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করা হবে- এ হুকুমটি যেন পালন করা হয়।) (২) খাবার খাওয়ানো, অর্থাৎ, আল্লাহর অভাবী ও মিসকীন বান্দাদেরকে সদাকা ও দান হিসাবে এবং বন্ধু-বান্ধব ও আল্লাহর নেক বান্দাদেরকে আন্তরিকতা ও ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ হাদিয়া হিসাবে খাবার খাওয়াবে- (যা অন্তরের বন্ধন ও পারস্পরিক ভালোবাসার উত্তম মাধ্যম এবং কৃপণতার মত ধ্বংসকর ব্যাধির চিকিৎসাও বটে।) (৩) السَّلَامُ عَلَيْكُمْ ও وعَيْكُمُ السَّلام যা ইসলামের বিশেষ প্রতীক এবং আল্লাহ তা'আলার শিখানো দু‘আবাক্য, এটার যেন ব্যাপক প্রচলন দেওয়া হয়। এর এমন প্রসার ঘটানো চাই যে, ইসলামী দুনিয়ার পরিবেশ যেন এর সুর লহরীতে সজীব থাকে। এ তিনটি নেক কাজের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুসংবাদ শুনিয়েছেন যে تدخلوا الجنة بسلام তোমরা পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তির সাথে জান্নাতে পৌঁছে যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)