মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ১১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পশুদের সাথেও উত্তম আচরণের নির্দেশ
১১৭. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন যে, এর মুখে দাগ লাগিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হয়েছে। তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হোক, যে এ কাজটি করেছে।-মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِمَارًا قَدْ وُسِمَ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পৃথিবীর নানা দেশে ঘোড়া-গাধা ইত্যাদি পশুদের পরিচয়ের জন্য এদের শরীরের কোন অংশে গরম লোহার দাগ দিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হত। বর্তমানেও কোন কোন অঞ্চলে এর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এ উদ্দেশ্যের জন্য চেহারা দাগানো (যা পশুর সারা দেহের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অনুভূতিপরায়ণ অঙ্গ) খুবই নির্মম ও নৃশংসতার কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন, যার চেহারা দাগানো হয়েছিল। তিনি এতে খুবই ব্যথিত হলেন এবং বললেন: ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর লা'নত হোক, যে এ কাজ করেছে। এ কথা স্পষ্ট যে, এটা চরম পর্যায়ের অসন্তুষ্টির বাক্য ছিল, যা একটি গাধার সাথে নির্মম আচরণকারীর জন্য তাঁর মুখ থেকে বের হয়েছিল।
আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)