মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
সাধারণ মানুষ ও সৃষ্টজীবের সাথে আচরণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী
১১৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (আল্লাহর সৃষ্টির উপর) দয়া প্রদর্শনকারীদেরকে দয়াময় আল্লাহ্ বিশেষ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর উপর দয়া কর, আসমানের অধিপতি তোমাদের উপর দয়া করবেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ. (رواه ابوداؤد والترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে খুবই বলিষ্ঠ ও মর্মস্পর্শী ভাষায় সকল সৃষ্টির সাথে- যার সাথেই মানুষের পালা পড়ে- দয়ার আচরণ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে যে, অনুগ্রহকারীদের উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষিত হবে। এরপর বলা হয়েছে যে, তোমরা পৃথিবীর সৃষ্টির প্রতি দয়ার আচরণ কর, আসমানের অধিপতি (আরশের মালিক) তোমাদের উপর দয়া করবেন।

এ হাদীসে আল্লাহ্ তা'আলার জন্য من في السماء শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে- যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে 'যিনি আসমানে আছেন।' একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহ্ তা'আলার আসমানের সাথে ঐ সম্পর্ক নেই, যা একজন অধিবাসীর তার বিশেষ আবাসস্থলের সাথে থাকে। আসমান ও যমীন এবং অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় তাঁর একটি সৃষ্টি। তিনি আসমানেরও মালিক, যমীনেরও মালিক। তাঁর সৃষ্টিগত, প্রতিপালনগত ও মালিকানা সম্পর্ক উভয়ের সাথেই সমান। وَہُوَ الَّذِیۡ فِی السَّمَآءِ اِلٰہٌ وَّفِی الۡاَرۡضِ اِلٰہٌ অর্থাৎ, তিনিই উপাস্য নভোমণ্ডলে এবং তিনিই উপাস্য ভূমণ্ডলে।

এতদসত্ত্বেও প্রাধান্য ও উচ্চ মর্যাদার দিক দিয়ে তাঁর আসমানের সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা যমীন ও এ নিম্ন জগতের অন্যান্য সৃষ্টির সাথে নেই, আর তিনিই এর ধরন ও অবস্থা জানেন। এ সম্পর্ক হিসাবেই এ হাদীসে في الأرض এর বিপরীত আল্লাহ্ তা'আলার জন্য من في السماء শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান