মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
দাস-দাসীদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করতে হবে
৮৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আমাদের খাদেম ও গোলামদেরকে কতবার ক্ষমা করব? তিনি নিরুত্তর রইলেন এবং কোন জবাব দিলেন না। সে পুনরায় একথা জিজ্ঞাসা করল এবং তিনিও নীরব রইলেন। তারপর সে যখন তৃতীয়বার জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বললেন, প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা করবে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَقَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَمْ نَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ؟ فَصَمَتَ، ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ الْكَلَامَ، فَصَمَتَ، فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّالِثَةِ، قَالَ: «اعْفُوا عَنْهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً» (رواه ابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রথম ও দ্বিতীয় বার যে হুযুর (ﷺ) কোন উত্তর দিলেন না; বরং নীরব রইলেন, এর কারণ সম্ভবতঃ এই ছিল যে, তিনি প্রশ্নকারী ব্যক্তিকে নিজের নীরবতার দ্বারা এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে চাইলেন যে, এটা কোন জিজ্ঞাসা করার বিষয় নয়। নিজের অধীনস্থ খাদেম ও গোলামের অপরাধ মাফ করে দেওয়া তো একটি নেকীর কাজ, যার উপর আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ও রহমত লাভ হয়। এ জন্য যতক্ষণ সম্ভব, তাকে ক্ষমাই করে দেওয়া চাই। কিন্তু দু'বারের পর সে ব্যক্তি যখন তৃতীয় বারও জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি বললেন كل يوم سبعين مرة অর্থাৎ, কথার কথা সে যদি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তরবারও অন্যায় করে, তাহলেও তাকে মাফ করে দাও। এ কথা স্পষ্ট যে, এখানে সত্তর দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়; বরং মর্ম এই যে, তোমার কোন গোলাম অথবা চাকর যদি বারবার ভুল ও অন্যায় করে, তাহলে এর প্রতিশোধ নিয়ো না, মাফই করে দাও।

এ অধমের নিকট ক্ষমার এ নির্দেশের মর্ম এটাই যে, তাকে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে না। কিন্তু যদি সংশোধন ও সতর্ক করার জন্য কিছুটা ভর্ৎসনা ও হাল্কা শাস্তি উপযোগী মনে করা হয়, তাহলে মালিকের এ অধিকার থাকবে। আর এ অধিকার প্রয়োগ করা এ নির্দেশের পরিপন্থী হবে না; বরং কোন কোন সময় তার বেলায় এটাই উত্তম হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান