মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর অধিকার
এ পর্যন্ত যেসব শ্রেণীর অধিকারের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তারা ছিল ঐসব লোক, যাদের সাথে মানুষের বিশেষ সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকে। চাই এ সম্পর্ক বংশীয় ও রক্ত সম্পর্কিত হোক অথবা বৈবাহিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অথবা সাময়িক সঙ্গী-সাথী হওয়ার কারণে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মহান শিক্ষায় এদের ছাড়াও সকল দুর্বল শ্রেণী, সব ধরনের অভাবী, ইয়াতীম, বিধবা, দরিদ্র, মিসকীন, মযলুম, বিপদগ্রস্ত ও রোগী ইত্যাদির অধিকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অনুসারীদেরকে তাদের খেদমত, খোঁজ-খবর নেওয়া, সহানুভূতি ও সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটাকে উঁচু স্তরের পুণ্যকাজ সাব্যস্ত করে এর উপর আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে বিরাট বিরাট পুরষ্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন। এসব শ্রেণীর সাথে সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু বাণী নিম্নে পাঠ করে নিন।
মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
এ পর্যন্ত যেসব শ্রেণীর অধিকারের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তারা ছিল ঐসব লোক, যাদের সাথে মানুষের বিশেষ সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকে। চাই এ সম্পর্ক বংশীয় ও রক্ত সম্পর্কিত হোক অথবা বৈবাহিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অথবা সাময়িক সঙ্গী-সাথী হওয়ার কারণে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মহান শিক্ষায় এদের ছাড়াও সকল দুর্বল শ্রেণী, সব ধরনের অভাবী, ইয়াতীম, বিধবা, দরিদ্র, মিসকীন, মযলুম, বিপদগ্রস্ত ও রোগী ইত্যাদির অধিকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অনুসারীদেরকে তাদের খেদমত, খোঁজ-খবর নেওয়া, সহানুভূতি ও সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটাকে উঁচু স্তরের পুণ্যকাজ সাব্যস্ত করে এর উপর আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে বিরাট বিরাট পুরষ্কারের সুসংবাদ দিয়েছেন। এসব শ্রেণীর সাথে সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু বাণী নিম্নে পাঠ করে নিন।
মিসকীন, ইয়াতীম ও বিধবাদের দায়িত্বপালন ও অভিভাবকত্ব গ্রহণ
৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বিধবা নারী ও মিসকীনদের জন্য চেষ্টা তদবীরকারী বান্দা আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মত। আর আমার ধারণা যে, তিনি এও বলেছেন, ঐ রাত্রজাগরণকারীর মত, যে অলসতা করে না এবং ঐ রোযাদারের মত, যে কখনো রোযায় বিরতি দেয় না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالمِسْكِينِ، كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَحْسِبُهُ قَالَ «كَالقَائِمِ لاَ يَفْتُرُ، وَكَالصَّائِمِ لاَ يُفْطِرُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
দ্বীন সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আছে এমন প্রতিটি মানুষই জানে যে, আল্লাহর পথে জিহাদ ও জীবনবাজি সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। অনুরূপভাবে কোন বান্দার এ অবস্থা যে, তার রাতগুলো কাটে নামাযে দাঁড়িয়ে আর দিনগুলো পার হয় রোযা অবস্থায় এটা খুবই ঈর্ষণীয় অবস্থা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে বলেন যে, আল্লাহর কাছে এ মর্যাদা ও স্থান ঐসব লোকেরও রয়েছে, যে কোন অভাবী মিসকীন অথবা কোন আশ্রয়হীনা মহিলার সাহায্য সহযোগিতার জন্য (যার উপর স্বামীর ছায়া নেই) চেষ্টা তদবীর করে। যার একটি পন্থা এই হতে পারে যে, নিজে পরিশ্রম করে উপার্জন করে এবং তার জন্য খরচ করে, আর এটাও হতে পারে যে, অন্যান্য লোকদেরকে তার খোঁজ-খবর ও তার সাহায্যের দিকে মনোযোগী করার জন্য চেষ্টা-সাধনা চালায়। নিঃসন্দেহে ঐসব লোক খুবই বঞ্চিত, যারা এ হাদীস জানার পরও এ সৌভাগ্য থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত রাখে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)