মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
প্রতিবেশীর কয়েকটি নির্ধারিত অধিকার
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিবেশীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট অধিকার চিহ্নিতও করে দিয়েছেন। এগুলোর দ্বারা এ ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আত মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিও বুঝা যেতে পারে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিবেশীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট অধিকার চিহ্নিতও করে দিয়েছেন। এগুলোর দ্বারা এ ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আত মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিও বুঝা যেতে পারে।
৬৯. হযরত মু'আবিয়া ইবনে হায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিবেশীর হক হচ্ছে এই যে, সে যদি অসুস্থ হয়ে যায়, তাহলে তাকে দেখতে যাবে, যদি মারা যায়, তাহলে তার জানাযার সাথে যাবে (এবং কাফন-দাফনের কাজে সাহায্য করবে।) সে যদি নিজ প্রয়োজনে কর্জ চায়, তাহলে তাকে কর্জ দিবে, সে যদি কোন খারাপ কাজ করে বসে, তাহলে তা গোপন রাখবে, সে যদি কোন কল্যাণ লাভ করে, তাহলে তাকে মুবারকবাদ দিবে, আর যদি কোন বিপদে পড়ে যায়, তাহলে তাকে সান্ত্বনা দিবে। তোমার দালান তার দালানের চেয়ে এত উঁচু করে নির্মাণ করবে না যে, তার ঘরের বাতাস বন্ধ হয়ে যায়। আর (যখন তোমার ঘরে কোন ভালো খাবার পাক করা হয়, তখন চেষ্টা করবে যে,) তোমার পাতিলের ঘ্রাণ যেন তার কষ্টের কারণ না হয়। (অর্থাৎ, এ দিকে খেয়াল রাখবে যে, পাতিলের ঘ্রাণ যেন সহজে তার ঘরে না যায়।) তবে তুমি যদি এখান থেকে কিছু তার ঘরে পাঠিয়ে দাও। (এমন হলে তার ঘ্রাণ পৌঁছলে কোন দোষ নেই।) -তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَقُّ الْجَارِ إِنْ مَرِضَ عُدْتَهُ، وَإِنْ مَاتَ شَيَّعْتَهُ، وَإِنِ اسْتَقْرَضَكَ أَقْرَضْتَهُ، وَإِنْ أَعْوَزَ سَتَرْتَهُ، وَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ هَنَّأْتَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ عَزَّيْتَهُ، وَلَا تَرْفَعْ بِنَاءَكَ فَوْقَ بِنَائِهِ فَتَسُدَّ عَلَيْهِ الرِّيحَ، وَلَا تُؤْذِهِ بِرِيحِ قِدْرِكَ إِلَّا أَنْ تَغْرِفَ لَهُ مِنْهَا» (رواه الطبرانى فى الكبير)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে প্রতিবেশীদের যেসব নির্দিষ্ট হক ও অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে শেষ দু'টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ১. নিজের বাড়ী নির্মাণের সময় এ দিকে খেয়াল রাখতে হবে যে, এর দেওয়াল উঠানোর সময় এভাবে যেন উঠানো না হয় যে, প্রতিবেশীর ঘরের বাতাস বন্ধ হয়ে যায়, আর তার কষ্ট হয়। ২. বাড়ীতে যখন কোন ভালো খাবার রান্না করা হয়, তখন এ কথাটি ভুলে যেয়োনা যে, এর সুঘ্রাণ প্রতিবেশীর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং তার অথবা তার সন্তানদের মনে এর চাহিদা সৃষ্টি হবে, যা তাদের কষ্টের কারণ হবে। এজন্য নিজের উপর এটা অপরিহার্য করে নাও যে, তুমি এ খাবার থেকে কিছুটা প্রতিবেশীর ঘরে পাঠিয়ে দিবে অথবা এ দিকে লক্ষ্য রাখ যে, পাতিলের ঘ্রাণ যেন প্রতিবেশীর ঘরে না যায়-যা বাহ্যত সুকঠিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ দু'টি দিকনির্দেশনা দ্বারা অনুমান করা যায় যে, প্রতিবেশীদের ব্যাপারে কেমন স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম দিকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখাকে তিনি জরুরী সাব্যস্ত করেছেন।
প্রায় এ বিষয়েরই অনুরূপ একটি হাদীস ইবনে আদী তাঁর 'কামিল'গ্রন্থে ও ইমাম খারায়েতী 'মাকারিমুল আখলাক' কিতাবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকেও বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এ কথাগুলোও অতিরিক্ত রয়েছে:
وإن اشتريت فاكهة فأهد له فإن لم تفعل فأدخلها سرا ولا يخرج بها ولدك ليغيظ بها ولده
অর্থাৎ, তুমি যদি কোন ফল কিনে আন, তাহলে এখান থেকে তোমার প্রতিবেশীকে হাদিয়া দাও। আর যদি এতটুকু করতে না পার, তাহলে এটা গোপনে ঘরে আন। (যাতে প্রতিবেশীর খবরই না হয়, আর এ দিকেও লক্ষ্য রাখ যে,) তোমার কোন সন্তান যেন এটা নিয়ে বাইরে না যায়। কেননা, প্রতিবেশীর সন্তানরা এটা দেখে মনে দুঃখ পাবে। কানযুল উম্মাল
আল্লাহ্ তা'আলা উম্মতকে তাওফীক দান করুন, তারা যেন নিজেদের নবীর এসব দিকনির্দেশনার মূল্য অনুধাবন করতে পারে এবং এগুলোকে নিজেদের জীবনের অভ্যাস বানিয়ে এর অমূল্য বরকত ও কল্যাণ দুনিয়াতেই পরীক্ষা করে নেয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ দু'টি দিকনির্দেশনা দ্বারা অনুমান করা যায় যে, প্রতিবেশীদের ব্যাপারে কেমন স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম দিকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখাকে তিনি জরুরী সাব্যস্ত করেছেন।
প্রায় এ বিষয়েরই অনুরূপ একটি হাদীস ইবনে আদী তাঁর 'কামিল'গ্রন্থে ও ইমাম খারায়েতী 'মাকারিমুল আখলাক' কিতাবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকেও বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এ কথাগুলোও অতিরিক্ত রয়েছে:
وإن اشتريت فاكهة فأهد له فإن لم تفعل فأدخلها سرا ولا يخرج بها ولدك ليغيظ بها ولده
অর্থাৎ, তুমি যদি কোন ফল কিনে আন, তাহলে এখান থেকে তোমার প্রতিবেশীকে হাদিয়া দাও। আর যদি এতটুকু করতে না পার, তাহলে এটা গোপনে ঘরে আন। (যাতে প্রতিবেশীর খবরই না হয়, আর এ দিকেও লক্ষ্য রাখ যে,) তোমার কোন সন্তান যেন এটা নিয়ে বাইরে না যায়। কেননা, প্রতিবেশীর সন্তানরা এটা দেখে মনে দুঃখ পাবে। কানযুল উম্মাল
আল্লাহ্ তা'আলা উম্মতকে তাওফীক দান করুন, তারা যেন নিজেদের নবীর এসব দিকনির্দেশনার মূল্য অনুধাবন করতে পারে এবং এগুলোকে নিজেদের জীবনের অভ্যাস বানিয়ে এর অমূল্য বরকত ও কল্যাণ দুনিয়াতেই পরীক্ষা করে নেয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)