মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ঐ ব্যক্তি মু'মিন নয়, যে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে যায় আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে
৬৮. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি আমার উপর ঈমান আনে নাই, (এবং সে আমার দলভুক্ত নয়) যে নিজে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে যায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে, আর সে এ বিষয়টির খবরও রাখে। -বাযযার, তাবরানী
এ বিষয় বস্তুটিই প্রায় একই শব্দমালায় ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে ও ইমাম বায়হাকী শুআবুল ঈমানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এবং ইমাম হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে হযরত আয়েশা রাযি. থেকেও বর্ণনা করেছেন।
এ বিষয় বস্তুটিই প্রায় একই শব্দমালায় ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে ও ইমাম বায়হাকী শুআবুল ঈমানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে এবং ইমাম হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে হযরত আয়েশা রাযি. থেকেও বর্ণনা করেছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا آمَنَ بِي مَنْ بَاتَ شَبْعَانَ وَجَارُهُ جَائِعٌ إِلَى جَنْبِهِ وَهُوَ يَعْلَمُ بِهِ» (رواه البزار والطبرانى فى الكبير)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আফসোস! আমাদের মুসলমান সমাজের কর্মধারা ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এসব বাণীর মধ্যে এতটুকু দূরত্ব ও ব্যবধান হয়ে গিয়েছে যে, কোন অজানা লোকের এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যাবে যে, এ শিক্ষা ও পথনির্দেশ মুসলমানদের পয়গাম্বরের হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব বাণী ও বক্তব্যের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আপন প্রতিবেশীদের ক্ষুৎপিপাসার সমস্যা ও অনুরূপভাবে তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি থেকে নিশ্চিন্ত ও উদাসীন হয়ে জীবন-যাপন করে, সে আমার প্রতি ঈমান আনে নাই, আমার কথা মোটেই মান্য করে নাই এবং সে আমার নয়। এ কথাটিও লক্ষণীয় যে, এসব হাদীসে মুসলিম ও অমুসলিম প্রতিবেশীর কোন পার্থক্য করা হয়নি; বরং সামনে আগত কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে যে, এসব অধিকার অমুসলিম প্রতিবেশীরও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)