মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
ঐ ব্যক্তি মু'মিন ও জান্নাতী নয়, যার প্রতিবেশী তার থেকে নিরাপদ ও ভয়মুক্ত নয়
৬৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ اَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসটির মর্ম এই যে, যে ব্যক্তির কার্যকলাপ ও আচরণ এমন হয় যে, তার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট ও দুষ্কর্ম থেকে ভীত থাকে, সে নিজের এই দুষ্কর্মের দরুন এর শাস্তি ভোগ না করে জান্নাতে যেতে পারবে না।
এ দু'টি হাদীস দ্বারা বুঝে নেওয়া যেতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও আদর্শে প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণের কি মর্যাদা ও স্থান রয়েছে। নবুওয়াতের ভাষায় কোন কাজের কঠোর তাকীদ ও দ্বীনের মধ্যে এর সর্বোচ্চ গুরুত্ব বুঝানোর জন্য চূড়ান্ত ভাষা এটাই হয় যে, এ কাজে ত্রুটি ও অবহেলা প্রদর্শনকারী মু'মিন নয় অথবা সে জান্নাতে যেতে পারবে না।

আফসোস! এ জাতীয় হাদীসসমূহ বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ও পাঠ্য মজলিসে কেবল আলোচনা ও একাডেমিক বিশ্লেষণের বিষয়ে পরিণত হয়ে আছে। খুব কমই আল্লাহর ঐসব ভাগ্যবান বান্দা রয়েছেন, যারা এসব হাদীস পাঠ করে ও শুনে জীবনের এ অধ্যায়টি সংশোধন করার চিন্তায় লেগে যান। অথচ হুযুর (ﷺ)-এর এসব বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী এটাই। এসব হাদীস পাঠ করা ও শোনার পরও নিজেদের প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবহার ও আচরণ-সুন্দর ও উত্তম করার চিন্তা না করা নিঃসন্দেহে চরম দুর্ভাগ্যের কথা।

মা'আরিফুল হাদীসের প্রথম খণ্ড 'কিতাবুল ঈমানে' বিস্তারিতভাবে লিখে আসা হয়েছে যে, এ ধরনের হাদীস যেগুলোর মধ্যে কোন আমল অথবা নৈতিক ত্রুটির কারণে ঈমানের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়েছে অথবা জান্নাতে যেতে না পারার ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, এগুলোর মর্ম ও দাবী কি এবং শরী‘আতে এ ধরনের লোকদের বিধান কি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান