মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
প্রতিবেশীদের অধিকারসমূহ
মানুষের নিজের পিতামাতা সন্তানাদি ও নিকটাত্মীয়দের ছাড়াও একটি স্বতন্ত্র যোগাযোগ ও সম্পর্ক প্রতিবেশীদের সাথেও থাকে এবং এর ভালো-মন্দের একটা প্রভাব জীবনের সুখ-শান্তি ও চারিত্রিক উন্নতি-অবনতির উপর পড়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় শিক্ষা ও আদর্শে প্রতিবেশীদের এ সম্পর্ককে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছেন এবং এর সম্মান ও এর প্রতি লক্ষ্য রাখার খুবই তাকীদ করেছেন। এমনকি এটাকে ঈমানের অংশ, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত এবং আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার মাপকাঠি সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
প্রতিবেশীর ব্যাপারে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর ক্রমাগত ওসিয়্যত ও তাকীদ
মানুষের নিজের পিতামাতা সন্তানাদি ও নিকটাত্মীয়দের ছাড়াও একটি স্বতন্ত্র যোগাযোগ ও সম্পর্ক প্রতিবেশীদের সাথেও থাকে এবং এর ভালো-মন্দের একটা প্রভাব জীবনের সুখ-শান্তি ও চারিত্রিক উন্নতি-অবনতির উপর পড়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় শিক্ষা ও আদর্শে প্রতিবেশীদের এ সম্পর্ককে অত্যন্ত মর্যাদা দিয়েছেন এবং এর সম্মান ও এর প্রতি লক্ষ্য রাখার খুবই তাকীদ করেছেন। এমনকি এটাকে ঈমানের অংশ, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত এবং আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার মাপকাঠি সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নবর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।
প্রতিবেশীর ব্যাপারে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর ক্রমাগত ওসিয়্যত ও তাকীদ
৬৩. হযরত আয়েশা ও ইবনে উমর রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: হযরত জিবরাঈল (আঃ) প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে আমাকে ক্রমাগত ওসিয়্যত করতে থাকেন। এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারীই বানিয়ে দিবেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির মর্ম এই যে, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা ও তার সাথে সম্মান ও সৌহার্দপূর্ণ আচরণের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আঃ) ক্রমাগত এমন তাকীদপূর্ণ বিধি-বিধান আনতে থাকলেন যে, আমার ধারণা হল যে, অবশেষে তাকে নাকি উত্তরাধিকারীই বানিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, হয়ত এ নির্দেশ এসে যাবে যে, কারো মৃত্যুর পর যেভাবে তার পিতামাতা সন্তানাদি ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়গণ তার রেখে যাওয়া সম্পদের ওয়ারিস ও উত্তরাধিকারী হয়ে যায়, তেমনিভাবে প্রতিবেশীরও এর মধ্যে ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে।
একথা স্পষ্ট যে, এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য কেবল একটি ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং প্রতিবেশীদের অধিকারের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য এটা একটা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জোরালো বক্তব্য।
একথা স্পষ্ট যে, এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য কেবল একটি ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং প্রতিবেশীদের অধিকারের গুরুত্ব বুঝানোর জন্য এটা একটা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জোরালো বক্তব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)