মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
[এ পর্যন্ত ঐসব হাদীস উল্লেখ করা হল, যেগুলোর মধ্যে স্ত্রীর উপর স্বামীর হক ও অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে এবং তাদের আনুগত্য, নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার তাকীদ করা হয়েছে। এবার ঐসব হাদীস পাঠ করুন, যেগুলোর মধ্যে স্বামীদেরকে স্ত্রীদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন, তাদের মনরক্ষা ও মনোরঞ্জন এবং উত্তম আচরণের তাকীদ করা হয়েছে।

স্ত্রীদের হক আদায়, তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও সৌজন্য প্রদর্শনের তাকীদ
৫৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিদায় হজ্বের ভাষণে এ কথাও) বলেছিলেন: লোকসকল! তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর নিরাপত্তার সাথে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালেমা দ্বারা তোমরা তাদেরকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের এ দাবী রয়েছে যে, তোমরা তোমাদের ঘরে যাদের আনাগোনাকে অপছন্দ কর, তারা যেন তাদেরকে সেখানে আসার সুযোগ না দেয়। এরপরও যদি তারা এমনটি করে ফেলে, তাহলে (সতর্ক ও সংশোধনের জন্য) তাদেরকে শাস্তি দিতে পার, তবে এ শাস্তি যেন গুরুতর না হয়, আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার হচ্ছে ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ (فى حديث طويل فى قصة حجة الوداع قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فى خطبته يوم عرفة) اتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ. (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীসে সর্বপ্রথম তো একথা বলা হয়েছে যে, পুরুষরা হচ্ছে স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্বশীল। কিন্তু তারা যেন নিজেদের এই কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে আল্লাহর আযাবের ভয় থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে বেপরোয়াভাবে স্ত্রীদের উপর প্রয়োগ না করে; বরং তারা যেন তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং একথা মনে রাখে যে, তাদের ও তাদের স্ত্রীদের কর্তৃত্ব রয়েছে আল্লাহর হাতে। তাঁরই নির্দেশে এবং তাঁরই নির্ধারিত বিবাহ-নীতি অনুযায়ী তারা তাদের স্ত্রী হয়েছে এবং তাদের জন্য হালাল হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর নিরাপত্তায় তাদের স্বামীদের অধীনস্থ করে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ, তাদের স্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর তাদের আল্লাহর নিরাপত্তা ও আশ্রয় অর্জিত রয়েছে। যদি স্বামীরা তাদের প্রতি অন্যায় ও অবিচার করে, তাহলে তারা আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তাকে ভঙ্গ করবে এবং তাঁর দরবারের আসামী হবে। اخذتموهن بامان الله বাক্যটির মর্ম এটাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাক্যটি বলে দিয়েছে যে, যখন কোন স্ত্রীলোক আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কোন পুরুষকে বিয়ে করে তার স্ত্রী হয়ে যায়, তখন সে আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা লাভ করে নেয়। এটা মহিলাদের জন্য কত বড় মর্যাদার কথা এবং তাদের উপর কর্তৃত্বশীল স্বামীদের জন্য কত বড় সতর্কবাণী যে, তাদের এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, তাদের স্ত্রীগণ আল্লাহর নিরাপত্তায় রয়েছে।
তারপর বলা হয়েছে যে, স্ত্রীদের উপর স্বামীদের এ হক রয়েছে যে, যেসব পুরুষ অথবা নারীদের ঘরে আসা এবং স্ত্রীদের সাথে কথাবার্তা বলা তাদের কাছে অপছন্দনীয়, স্ত্রীরা যেন তাদেরকে ঘরে আসার অনুমতি না দেয়। ولكم عليهن أن لا يوطئن فرشكم বাক্যটির মর্ম এটাই।

সামনে বলা হয়েছে যে, স্ত্রীরা যদি এর বিরুদ্ধাচরণ করে, তাহলে কর্তৃত্বশীল হওয়ার কারণে তোমাদের এ অধিকার রয়েছে যে, তাদের সংশোধন ও সতর্ক করার জন্য সমীচীন মনে হলে তাদেরকে শাস্তি দিবে; কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এ শাস্তি যেন অধিক কঠোর না হয়। غير مبرج বাক্যটির অর্থ এটাই।
শেষে বলা হয়েছে যে, স্বামীদের উপর স্ত্রীদের বিশেষ হক এই রয়েছে যে, তারা তাদের ভরণ-পোষণ ইত্যাদির প্রয়োজন নিজের সামর্থ্য ও সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করে যাবে, এ ব্যাপারে কোন প্রকার কৃপণতা করবে না। بالمعروف শব্দটির অর্থ এটাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান