মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালন
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এটা জরুরী ছিল যে, কোন একজনকে নেতৃত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ীই তার উপর দায়িত্বও অর্পণ করা হবে। একথা স্পষ্ট যে, আপন প্রকৃতিগত প্রাধান্যের কারণে এর জন্য স্বামীই অধিকতর উপযোগী হতে পারে। এ জন্য শরী‘আতে মুহাম্মদীতে পরিবারের কর্তা পুরুষকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এ গুরু দায়িত্ব তার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআন পাকে বলা হয়েছে : الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النساء পুরুষরাই স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্বশীল। অপর দিকে স্ত্রীদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিবারের কর্তা ও দায়িত্বশীল এবং নিজেদের মাথার মুকুট হিসাবে স্বামীর কথা মেনে চলবে এবং স্ত্রী হিসাবে তাদের যে বিশেষ পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে, এগুলো পালনে ত্রুটি করবে না। যেমন তাদের বেলায় বলা হয়েছে: فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ অর্থাৎ, নেককার স্ত্রীরা স্বামীদের আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতেও তারা নিজেদের (আব্রু ও আমানতের) হেফাযত করে।
স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের পরিবর্তে অবাধ্যতা ও বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করে, তাহলে এর ফলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য ও পরে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে যাবে-যা উভয়ের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংসের কারণ হবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীদেরকে স্বামীর আনুগত্য, তার নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন এবং এর বিরাট প্রতিদান ও সওয়াবের কথা বর্ণনা করে এর প্রতি উৎসাহও দিয়েছেন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এটা জরুরী ছিল যে, কোন একজনকে নেতৃত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ীই তার উপর দায়িত্বও অর্পণ করা হবে। একথা স্পষ্ট যে, আপন প্রকৃতিগত প্রাধান্যের কারণে এর জন্য স্বামীই অধিকতর উপযোগী হতে পারে। এ জন্য শরী‘আতে মুহাম্মদীতে পরিবারের কর্তা পুরুষকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এ গুরু দায়িত্ব তার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুরআন পাকে বলা হয়েছে : الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النساء পুরুষরাই স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্বশীল। অপর দিকে স্ত্রীদেরকে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিবারের কর্তা ও দায়িত্বশীল এবং নিজেদের মাথার মুকুট হিসাবে স্বামীর কথা মেনে চলবে এবং স্ত্রী হিসাবে তাদের যে বিশেষ পারিবারিক দায়িত্ব রয়েছে, এগুলো পালনে ত্রুটি করবে না। যেমন তাদের বেলায় বলা হয়েছে: فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ অর্থাৎ, নেককার স্ত্রীরা স্বামীদের আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতেও তারা নিজেদের (আব্রু ও আমানতের) হেফাযত করে।
স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের পরিবর্তে অবাধ্যতা ও বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করে, তাহলে এর ফলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে মনোমালিন্য ও পরে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে যাবে-যা উভয়ের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংসের কারণ হবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীদেরকে স্বামীর আনুগত্য, তার নির্দেশ পালন ও সন্তুষ্টি কামনার কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন এবং এর বিরাট প্রতিদান ও সওয়াবের কথা বর্ণনা করে এর প্রতি উৎসাহও দিয়েছেন।
৫২. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: স্ত্রীলোক যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, রমযান মাসের রোযা রাখে, তার লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে, (তাহলে তার এই অধিকার রয়েছে যে) জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করুক। হিলয়া, আবু নুআইম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اَلْمَرْأَةُ اِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَاَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَاَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ اَىِّ اَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ. (رواه ابو نعيم فى الحيلة)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এর মধ্যে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর আনুগত্যকে নামায, রোযা ও যিনা থেকে নিজের হেফাযতের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা এ কথার দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, শরী‘আত দৃষ্টিতে এরও ঐ গুরুত্ব রয়েছে, যেমন গুরুত্ব রয়েছে, ঐসব আহকাম ও ফরযগুলোর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)