মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বসমূহ
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কসমূহের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের যে বিশেষ ধরন ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এর সাথে যে বিরাট স্বার্থ ও উপকারিতা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, এটা বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন রাখে না। তাছাড়া জীবনের প্রশান্তি ও মনের প্রসন্নতা অনেকাংশে এই মধুর সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থার উপর নির্ভরশীল। তারপর এ কথাও স্পষ্ট যে, এর বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্রতার সাথে জীবনের ঐ আনন্দ ও সুখ, যা এ সম্পর্কের দ্বারাই অর্জিত হতে পারে, আর মানুষ ভ্রষ্টামী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বেঁচে থেকে জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে। আর মানুষের বংশধারাও মর্যাদা ও সম্মানের সাথে অব্যাহত থাকবে- যা এ দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়। আর একথাও সুস্পষ্ট যে, এ উদ্দেশ্যসমূহও ঐ অবস্থায়ই উত্তমরূপে হতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে অধিক ভালোবাসা, সমঝোতা ও সুসম্পর্ক পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যসমূহের ব্যাপারে যে পথনির্দেশ দিয়েছেন, এগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য এটাই যে, এ সম্পর্ক উভয়ের জন্য খুবই মধুময়, আনন্দদায়ক ও শান্তির কারণ হবে এবং একজন অপরজনকে অন্তর দিয়ে জড়িয়ে থাকবে। এভাবে যে উদ্দেশ্যের জন্য এ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, সে উদ্দেশ্যসমূহ যেন উত্তমরূপে অর্জিত হয়।
এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার সারকথা এই যে, স্ত্রীর জন্য উচিত, সে তার স্বামীকে নিজের জন্য সবার চেয়ে উর্ধ্বে মনে করবে, তার বিশ্বস্ত ও অনুগত হয়ে থাকবে, তার কল্যাণকামিতা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রুটি করবে না, নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তার সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত মনে করবে। পক্ষান্তরে স্বামীর উচিত সে নিজের স্ত্রীকে আল্লাহ্ প্রদত্ত নেয়ামত মনে করবে, তার মূল্যায়ন করবে, তাকে ভালোবাসা দান করবে। যদি তার কোন ভুল হয়ে যায়, তাহলে সেটা উপেক্ষা করে যাবে; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তার সংশোধনের চেষ্টা করবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তার বিভিন্ন প্রয়োজন সুন্দরভাবে পূরণ করবে এবং তার আরাম ও মনোরঞ্জনের চেষ্টা করবে।
এসব শিক্ষার সঠিক মূল্য ও মর্যাদা বুঝার জন্য এখন থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে সমগ্র মনুষ্য জগত বিশেষ করে আরবদের ঐ পরিবেশকে সামনে রাখতে হবে, যেখানে অসহায় স্ত্রীর মূল্য একটি ক্রয়কৃত পশুর চেয়ে একটুও ভিন্ন ছিল না এবং এই অবলার কোন অধিকার কল্পনাও করা হত না। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস পাঠ করে নিন।
মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কসমূহের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের যে বিশেষ ধরন ও গুরুত্ব রয়েছে এবং এর সাথে যে বিরাট স্বার্থ ও উপকারিতা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, এটা বুঝিয়ে বলার কোন প্রয়োজন রাখে না। তাছাড়া জীবনের প্রশান্তি ও মনের প্রসন্নতা অনেকাংশে এই মধুর সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থার উপর নির্ভরশীল। তারপর এ কথাও স্পষ্ট যে, এর বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে পবিত্রতার সাথে জীবনের ঐ আনন্দ ও সুখ, যা এ সম্পর্কের দ্বারাই অর্জিত হতে পারে, আর মানুষ ভ্রষ্টামী ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে বেঁচে থেকে জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে। আর মানুষের বংশধারাও মর্যাদা ও সম্মানের সাথে অব্যাহত থাকবে- যা এ দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তার অভিপ্রায়। আর একথাও সুস্পষ্ট যে, এ উদ্দেশ্যসমূহও ঐ অবস্থায়ই উত্তমরূপে হতে পারে, যখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে অধিক ভালোবাসা, সমঝোতা ও সুসম্পর্ক পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যসমূহের ব্যাপারে যে পথনির্দেশ দিয়েছেন, এগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য এটাই যে, এ সম্পর্ক উভয়ের জন্য খুবই মধুময়, আনন্দদায়ক ও শান্তির কারণ হবে এবং একজন অপরজনকে অন্তর দিয়ে জড়িয়ে থাকবে। এভাবে যে উদ্দেশ্যের জন্য এ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, সে উদ্দেশ্যসমূহ যেন উত্তমরূপে অর্জিত হয়।
এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার সারকথা এই যে, স্ত্রীর জন্য উচিত, সে তার স্বামীকে নিজের জন্য সবার চেয়ে উর্ধ্বে মনে করবে, তার বিশ্বস্ত ও অনুগত হয়ে থাকবে, তার কল্যাণকামিতা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রুটি করবে না, নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তার সন্তুষ্টির সাথে সম্পৃক্ত মনে করবে। পক্ষান্তরে স্বামীর উচিত সে নিজের স্ত্রীকে আল্লাহ্ প্রদত্ত নেয়ামত মনে করবে, তার মূল্যায়ন করবে, তাকে ভালোবাসা দান করবে। যদি তার কোন ভুল হয়ে যায়, তাহলে সেটা উপেক্ষা করে যাবে; ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তার সংশোধনের চেষ্টা করবে, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তার বিভিন্ন প্রয়োজন সুন্দরভাবে পূরণ করবে এবং তার আরাম ও মনোরঞ্জনের চেষ্টা করবে।
এসব শিক্ষার সঠিক মূল্য ও মর্যাদা বুঝার জন্য এখন থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে সমগ্র মনুষ্য জগত বিশেষ করে আরবদের ঐ পরিবেশকে সামনে রাখতে হবে, যেখানে অসহায় স্ত্রীর মূল্য একটি ক্রয়কৃত পশুর চেয়ে একটুও ভিন্ন ছিল না এবং এই অবলার কোন অধিকার কল্পনাও করা হত না। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস পাঠ করে নিন।
৫০. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: স্ত্রীর উপর সবচেয়ে বড় অধিকার হচ্ছে তার স্বামীর। আর পুরুষের উপর সবচেয়ে বড় অধিকার হচ্ছে তার মায়ের। হাকেম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:أعظم الناس حقا على المرأة زوجها، وأعظم الناس حقا على الرجل أمه. (رواه الحاكم فى المستدرك)