মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার কতিপয় পার্থিব কল্যাণ
৪৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, তার রিযিকে প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য আসুক এবং দুনিয়াতে তার পদচিহ্ন প্রলম্বিত (অর্থাৎ, হায়াত দীর্ঘ) হোক, তাহলে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ» (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ তা'আলার কিতাব কুরআন কারীম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিভিন্ন হাদীসে এ বাস্তব বিষয়টি স্থানে স্থানে বলা হয়েছে যে, কোন কোন নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলা এ দুনিয়াতেও বিভিন্ন বরকত দ্বারা ভূষিত করে থাকেন। এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, আত্মীয়তার হক আদায় এবং আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ এমন মুবারক আমল যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে রিযিকের প্রশস্ততা এবং হায়াতের মধ্যে বরকতও বৃদ্ধি ঘটে। আত্মীয়তার হক আদায়ের দু'টি পন্থাই রয়েছে। একটি এই যে, মানুষ নিজের উপার্জন থেকে আত্মীয়দের আর্থিক সেবা করবে। দ্বিতীয়টি এই যে, নিজের সময় ও নিজের জীবনের কিছু অংশ তাদের কাজে ব্যয় করবে। এর বিনিময়ে রিযিক ও সম্পদে প্রশস্ততা এবং মানুষের আয়ুবৃদ্ধি ও বরকত লাভ খুবই যুক্তিসঙ্গত বিষয় এবং এটি রহমত ও বরকত লাভের ক্ষেত্রেও বটে।

বৈষয়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ বিষয়টি বোধগম্য হওয়ার মত। এটা বাস্তব বিষয় ও সাধারণ অভিজ্ঞতা যে, পারিবারিক কলহ ও সমস্যা যেগুলো সাধারণত আত্মীয়তার অধিকার পূরণ না করার কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে, মানুষের জন্য তা অন্তরের অশান্তি, মানসিক যাতনা ও পতনের কারণ হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যকে প্রভাবান্বিত করে। কিন্তু যেসব লোক আত্মীয় ও গোত্রীয় লোকদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে চলে এবং তাদের সাথে সদাচরণ করে, তাদের জীবন প্রফুল্লতা, স্বস্তি ও আনন্দের সাথে অতিবাহিত হয়। সর্ব দিক দিয়ে তাদের অবস্থা ভালো থাকে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তাদের সাথী হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান