মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের অধিকার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব
ইসলামী শিক্ষায় পিতামাতা ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের অধিকার আদায়ের উপরও সবিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেলায়ে রেহমী তথা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এই বিশেষ শিরোনাম। কুরআন মজীদে যেখানে পিতামাতার খেদমত ও তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে وذى القربي বলে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের আত্মীয়তার হক আদায়েরও কঠোর তাকীদ করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে বুখারী ও মুসলিম শরীফের বরাতে এক প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে যে, খেদমত ও সদাচরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম হক হচ্ছে তোমার মায়ের, তারপর পিতার, তারপর স্তর হিসাবে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের। এবার এখানে ঐ জাতীয় কিছু হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার গুরুত্ব এবং এর ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করা হয়েছে অথবা এর বিপরীত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামী শিক্ষায় পিতামাতা ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের অধিকার আদায়ের উপরও সবিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেলায়ে রেহমী তথা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এই বিশেষ শিরোনাম। কুরআন মজীদে যেখানে পিতামাতার খেদমত ও তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে وذى القربي বলে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ ও তাদের আত্মীয়তার হক আদায়েরও কঠোর তাকীদ করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে বুখারী ও মুসলিম শরীফের বরাতে এক প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে যে, খেদমত ও সদাচরণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম হক হচ্ছে তোমার মায়ের, তারপর পিতার, তারপর স্তর হিসাবে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের। এবার এখানে ঐ জাতীয় কিছু হাদীস পাঠ করে নিন, যেগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার গুরুত্ব এবং এর ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করা হয়েছে অথবা এর বিপরীত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
৪৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রাহেম অর্থাৎ, আত্মীয়তার দাবী শব্দটি রহমান থেকে নির্গত। (অর্থাৎ, দয়াময় আল্লাহর রহমতের একটি শাখা।) মহান আল্লাহ্ একে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে তোমাকে সংযুক্ত করবে, আমি তাকে সংযুক্ত রাখব, আর যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তাকে ছিন্ন করব। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ الرَّحِمَ شَجْنَةٌ مِنَ الرَّحْمَنِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ قَطَعْتُهُ " (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির মর্ম এই যে, মানুষের পারস্পরিক আত্মীয়তার বন্ধন ও সম্পর্কের সাথে আল্লাহ্ তা'আলার পবিত্র নাম রহমান ও তাঁর রহমতগুণের বিশেষ সংযোগ রয়েছে। আর এটাই এর উৎসস্থল এবং এ জন্যই এর নাম রাহেম তথা আত্মীয়তার বন্ধন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ সম্পর্কের কারণেই আল্লাহর কাছে এর এতটুকু গুরুত্ব রয়েছে যে, তিনি এই সিদ্ধান্ত করে রেখেছেন যে, যে আত্মীয়তার হক আদায় করবে এবং আত্মীয়দের সাথে উত্তম আচরণ করবে, তাকে আল্লাহ্ তা'আলা নিজের সাথে সম্পর্কিত করে নিবেন এবং আপন বানিয়ে নিবেন। আর যে ব্যক্তি এর বিপরীত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজ থেকে ছিন্ন করে দিবেন এবং দূর ও সম্পর্কহীন করে দিবেন। এই একটি হাদীস দ্বারাই অনুমান করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষায় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে এবং এতে ত্রুটি করা কত মারাত্মক অন্যায় ও কত বড় বঞ্চনা। সামনের হাদীসগুলোর বিষয়বস্তুও প্রায় এরই কাছাকাছি পর্যায়ের।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)