মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
কাফের ও মুশরিক মাও সন্তানের কাছে খেদমত ও উত্তম ব্যবহারের দাবী রাখে
৩৬. হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশের (হুদায়বিয়া) সন্ধির যুগে আমার মা মুশরিক অবস্থায় (মক্কা থেকে) মদীনায় আমার কাছে আসলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা আমার কাছে এসেছেন এবং তিনি কিছুটা আশা নিয়ে এসেছেন, এমতাবস্থায় আমি কি তার খেদমত করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তার খেদমত কর (এবং তার সাথে ঐ ব্যবহার কর, যা কোন কন্যাকে তার মায়ের সাথে করতে হয়।) বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ، إِذْ عَاهَدُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُدَّتِهِمْ مَعَ أَبِيهَا، فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَيَّ وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ صِلِيهَا» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আসমা আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর কন্যা এবং অন্য মায়ের তরফে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি.-এর বড় বোন ছিলেন। তার মায়ের নাম বিভিন্ন বর্ণনায় কুতায়লা বিনতে আব্দুল উযযা উল্লেখ করা হয়েছে- (যাকে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. জাহেলী যুগেই তালাক দিয়ে পৃথক করে দিয়েছিলেন।) যাহোক, ইসলামের যুগে তিনি আর তাঁর স্ত্রী থাকেননি; বরং সাবেক মুশরিকী ধর্মের উপরই কায়েম থাকেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির যুগে যখন মক্কার মুশরিকদের জন্য মদীনায় যাওয়ার এবং মদীনার মুসলমানদের জন্য মক্কায় আসার অবাধ সুযোগ হাতে এসে গেল, তখন হযরত আসমার এই মা নিজ কন্যার কাছে মদীনায় আসলেন। হযরত আসমা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আমার তার সাথে কি আচরণ করা উচিত। তার কাফের ও মুশরিক হওয়ার কারণে আমি কি তার সাথে অসহযোগিতা ও সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকব, না মায়ের সম্পর্কের কারণে তার খেদমত এবং তার সাথে ভালো ব্যবহার করব? তিনি হুকুম দিলেন যে, তার খেদমত কর এবং তার সাথে ঐ ব্যবহারই কর, যা মায়ের দাবী।
হাদীসে راغبة শব্দ এসেছে, যার তরজমা এই অধম 'প্রত্যাশী' করেছে। এ ভিত্তিতে অর্থ এই হবে যে, হযরত আসমা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিবেদন করলেন যে, আমার মা- যিনি এখনও মুশরিক- কিছুটা আশা নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। অর্থাৎ, তিনি এর প্রত্যাশী যে, আমি তার কিছু আর্থিক সাহায্য করব। কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এর অর্থ করেছেন 'অপ্রসন্ন ও বিপথগামী'। আর অভিধানের দৃষ্টিতে এ অর্থেরও অবকাশ রয়েছে। এর ভিত্তিতে অর্থ এই হবে যে, আমার মা সাক্ষাতের জন্য তো এসেছেন, কিন্তু আমাদের দ্বীন থেকে তিনি পথচ্যুত ও অপ্রসন্ন। এমতাবস্থায় তার সাথে আমার আচরণ কি হওয়া উচিত? মা হওয়ার কারণে আমি কি তার খেদমত ও তার সাথে সদাচরণ করব, না সম্পর্কচ্ছেদ ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার রীতি অবলম্বন করব? অর্থ যাই হোক, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দিলেন যে, তুমি তার খেদমত ও তার সাথে ভালো আচরণ কর, যা একজন মায়ের দাবী।
উপরে কুরআন মজীদের ঐ আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যদি কারো পিতামাতা কাফের ও মুশরিক হয় এবং তারা সন্তানদেরকেও কুফর ও শিরকের জন্য বাধ্য করে এবং চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে সন্তানরা তাদের একথা তো মানবে না, কিন্তু তাদের খেদমত ও তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেই যাবে।
হাদীসে راغبة শব্দ এসেছে, যার তরজমা এই অধম 'প্রত্যাশী' করেছে। এ ভিত্তিতে অর্থ এই হবে যে, হযরত আসমা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিবেদন করলেন যে, আমার মা- যিনি এখনও মুশরিক- কিছুটা আশা নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। অর্থাৎ, তিনি এর প্রত্যাশী যে, আমি তার কিছু আর্থিক সাহায্য করব। কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এর অর্থ করেছেন 'অপ্রসন্ন ও বিপথগামী'। আর অভিধানের দৃষ্টিতে এ অর্থেরও অবকাশ রয়েছে। এর ভিত্তিতে অর্থ এই হবে যে, আমার মা সাক্ষাতের জন্য তো এসেছেন, কিন্তু আমাদের দ্বীন থেকে তিনি পথচ্যুত ও অপ্রসন্ন। এমতাবস্থায় তার সাথে আমার আচরণ কি হওয়া উচিত? মা হওয়ার কারণে আমি কি তার খেদমত ও তার সাথে সদাচরণ করব, না সম্পর্কচ্ছেদ ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার রীতি অবলম্বন করব? অর্থ যাই হোক, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নির্দেশ দিলেন যে, তুমি তার খেদমত ও তার সাথে ভালো আচরণ কর, যা একজন মায়ের দাবী।
উপরে কুরআন মজীদের ঐ আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যদি কারো পিতামাতা কাফের ও মুশরিক হয় এবং তারা সন্তানদেরকেও কুফর ও শিরকের জন্য বাধ্য করে এবং চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে সন্তানরা তাদের একথা তো মানবে না, কিন্তু তাদের খেদমত ও তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেই যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)