মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পিতামাতার খেদমত কোন কোন সময় হিজরত ও জিহাদ থেকেও অগ্রগণ্য
৩১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খেদমতে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জিহাদে যেতে চাই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি পিতামাতা বর্তমান আছেন? সে উত্তর দিল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তাদের খেদমত করে জিহাদের ফযীলত অর্জন করে নাও। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُجَاهِدُ؟ قَالَ: «أَلَكَ أَبَوَانِ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ» (رواه ابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর এ বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিল অথবা কোন কারণে এ ব্যাপারে সন্দেহ হয়েছিল যে, এ লোকটির পিতামাতা তার খেদমতের মুখাপেক্ষী এবং সে তাদেরকে ছেড়ে তাদের অনুমতি ব্যতিরেকেই জিহাদের জন্য এসে গিয়েছে। এ জন্য তিনি তাকে এ নির্দেশ দিলেন যে, তুমি বাড়ীতে ফিরে গিয়ে তাদের খেদমত কর। কেননা, এমন অবস্থায় তার জন্য পিতামাতার খেদমত করা অগ্রগণ্য।

তবে এ হাদীস থেকে এই ফল বের করা ভুল হবে যে, যার পিতামাতা আছে, সে জিহাদ ও দ্বীনের কোন খেদমতের জন্য কখনো ঘর থেকে বের হতে পারবে না এবং কেবল তারাই জিহাদ ও দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করবে, যাদের পিতামাতা জীবিত নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যে সব সাহাবায়ে কেরাম জিহাদ করতেন, তাদের অধিকাংশই এমন হতেন, যাদের পিতামাতা জীবিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান