মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বদান্যতায় সমতা বিধানও সন্তানদের একটি অধিকার
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্তানদের ব্যাপারে এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, বিশেষ করে বদান্যতার ক্ষেত্রে সব সন্তানের সাথে ইনসাফ ও সমতার ব্যবহার করা চাই। এমন যেন না হয় যে, কাউকে বেশী দেওয়া হল, আর কাউকে বঞ্চিত রাখা হল অথবা কম দেওয়া হল। এ জিনিসটি নিজস্ব বিবেচনায়ও কাম্য, আর ন্যায় ও ইনসাফের দাবী, যা আল্লাহ্ তা'আলার কাছে খুবই পছন্দনীয়। তাছাড়া এর মধ্যে এ রহস্য ও দূরদর্শিতাও রয়েছে যে, যদি সন্তানদের মধ্যে কাউকে বেশী দেওয়া হয়, আর কাউকে কম দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে, যা তাওয়া ও দ্বীনের জন্য ধ্বংসকর ও হাজারো ফিতনার শিকড় হবে। এছাড়া সন্তানদের মধ্যে যার সাথে বেইনসাফী ও অবিচার করা হবে, তার অন্তরে বাপের প্রতি মালিন্য আসবে এবং অভিযোগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। আর এ কথা স্পষ্ট যে, এর পরিণাম কত মন্দ হবে। এসব কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কঠোর তাকীদ করেছেন এবং এর বিপরীত আচরণকে এক ধরনের অবিচার সাব্যস্ত করেছেন। এবার এ প্রসঙ্গে নিম্নের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্তানদের ব্যাপারে এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, বিশেষ করে বদান্যতার ক্ষেত্রে সব সন্তানের সাথে ইনসাফ ও সমতার ব্যবহার করা চাই। এমন যেন না হয় যে, কাউকে বেশী দেওয়া হল, আর কাউকে বঞ্চিত রাখা হল অথবা কম দেওয়া হল। এ জিনিসটি নিজস্ব বিবেচনায়ও কাম্য, আর ন্যায় ও ইনসাফের দাবী, যা আল্লাহ্ তা'আলার কাছে খুবই পছন্দনীয়। তাছাড়া এর মধ্যে এ রহস্য ও দূরদর্শিতাও রয়েছে যে, যদি সন্তানদের মধ্যে কাউকে বেশী দেওয়া হয়, আর কাউকে কম দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে, যা তাওয়া ও দ্বীনের জন্য ধ্বংসকর ও হাজারো ফিতনার শিকড় হবে। এছাড়া সন্তানদের মধ্যে যার সাথে বেইনসাফী ও অবিচার করা হবে, তার অন্তরে বাপের প্রতি মালিন্য আসবে এবং অভিযোগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। আর এ কথা স্পষ্ট যে, এর পরিণাম কত মন্দ হবে। এসব কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যাপারে কঠোর তাকীদ করেছেন এবং এর বিপরীত আচরণকে এক ধরনের অবিচার সাব্যস্ত করেছেন। এবার এ প্রসঙ্গে নিম্নের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।
২৪. হযরত নো'মান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হলেন, (কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, আমাকে কোলে নিয়ে হাজির হলেন।) এবং নিবেদন করলেন, আমি আমার এ ছেলেটিকে একটি গোলাম হেবা করে দিয়েছি। (কোন কোন বর্ণনায় একটি বাগান দান করার কথা উল্লেখিত হয়েছে।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার সবগুলো সন্তানকেই এমন হেবা করেছ? তিনি বললেন, না। (অন্য কাউকে আমি হেবা করিনি, কেবল এ ছেলে নো'মানকেই দিয়েছি।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা তো হয় না, আরো বললেন, তুমি এ গোলাম ফেরত নাও। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, তোমার সকল সন্তানই তোমার আনুগত্য ও সেবায় সমান থাকুক? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে এমনটি করতে যেয়ো না (যে, একজনকে দিবে, আর অন্যদেরকে বঞ্চিত রাখবে।)
অন্য এক বর্ণনায় (নো'মান ইবনে বশীর ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন,) আমার পিতা (আমার মায়ের অনুরোধে) আমাকে কিছু হেবা করলেন। আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা বললেন, আপনি যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে সাক্ষী না রাখবেন, সে পর্যন্ত আমি খুশী হব না। তাই আমার পিতা বশীর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন যে, আমার স্ত্রী আমরা বিনতে রাওয়াহার পক্ষ থেকে আমার যে ছেলেটি (নো'মান) আছে, আমি তাকে কিছু হেবা করেছি, কিন্তু তার মা বলছে যে, আমি যেন আপনাকে এর সাক্ষী বানিয়ে নেই (এবং এভাবে আপনার অনুমোদন নিয়ে বিষয়টি পাকাপোক্ত করে নেই।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার সব সন্তানকে এতটুকু দান করেছ? বশীর বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের সাথে সমতার আচরণ কর। নো'মান ইবনে বশীর বলেন, এ কথা শুনে আমার পিতা বশীর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন এবং দানকৃত জিনিসটি ফেরত নিয়ে নিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একথাও বললেন যে, বেইনসাফীর কাজে আমি সাক্ষী হতে পারি না। -বুখারী, মুসলিম
অন্য এক বর্ণনায় (নো'মান ইবনে বশীর ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন,) আমার পিতা (আমার মায়ের অনুরোধে) আমাকে কিছু হেবা করলেন। আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা বললেন, আপনি যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে সাক্ষী না রাখবেন, সে পর্যন্ত আমি খুশী হব না। তাই আমার পিতা বশীর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন যে, আমার স্ত্রী আমরা বিনতে রাওয়াহার পক্ষ থেকে আমার যে ছেলেটি (নো'মান) আছে, আমি তাকে কিছু হেবা করেছি, কিন্তু তার মা বলছে যে, আমি যেন আপনাকে এর সাক্ষী বানিয়ে নেই (এবং এভাবে আপনার অনুমোদন নিয়ে বিষয়টি পাকাপোক্ত করে নেই।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তোমার সব সন্তানকে এতটুকু দান করেছ? বশীর বললেন, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের সাথে সমতার আচরণ কর। নো'মান ইবনে বশীর বলেন, এ কথা শুনে আমার পিতা বশীর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন এবং দানকৃত জিনিসটি ফেরত নিয়ে নিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একথাও বললেন যে, বেইনসাফীর কাজে আমি সাক্ষী হতে পারি না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلَامًا كَانَ لِي، فَقَالَ «أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا؟» قَالَ: لَا، قَالَ «فَارْجِعْهُ» وِفِى رِوَايَةٍ «أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا لَكَ فِي الْبِرِّ وَاللُّطْفِ سَوَاءٌ» قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَلَا إِذًا وِفِى رِوَايَةٍ أعطاني أبي عطية فقالت عمرة بنت رواحة: لا أرضى حتى تشهدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فأتى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال: "إني أعطيت ابني من عمرة بنت رواحة عطية فأمرتني أن أشهدك يا رسول الله ، قال:" أعطيت سائر ولدك مثل هذا؟ قال: لا، قال: فاتقوا الله واعدلوا بين أولادكم قال: فرجع فرد عطيته وِفِى رِوَايَةٍ إنه قال: لا أشهد على جور. " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)