মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
আকীকা
৫. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে মানুষের রীতি এই ছিল যে, যখন তারা সন্তানের আকীকা করত, তখন আকীকার পশুর রক্ত দ্বারা এক টুকরা তুলা রঞ্জিত করত। তারপর যখন সন্তানের মাথা মুণ্ডন করত, তখন এ রক্তমাখা তুলা তার মাথায় রেখে দিত। (এভাবে তারা আকীকার রক্ত দ্বারা তার মাথা রঞ্জিত করে দিত, যা একটি জাহেলী প্রথা ছিল।) এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রক্তের স্থলে তোমরা 'খালুক' লাগাও। -ইবনে হিব্বান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا عَقُّوا عَنِ الصَّبِيِّ خَضَبُوا قُطْنَةً بِدَمِ العقيقة, فإذا حلقوا رأس الصي, وَضَعُوهَا عَلَى رَأْسَهُ, فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اجعلوا مكان الدم خلوقا" (رواه ابن حبان فى صحيحه)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'খালুক' বিভিন্ন উপাদান মিশ্রিত এক প্রকার সুগন্ধির নাম, যা জাফরান ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা হয়। হযরত বুরায়দা ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, আকীকার প্রচলন আরবদের মধ্যে জাহেলী যুগেও ছিল। যেহেতু এর মধ্যে অনেক কল্যাণকর দিক রয়েছে- যেগুলোর প্রতি উপরে ইঙ্গিত করে আসা হয়েছে, আর এটা মৌলিকভাবে ইসলামী শরী‘আত প্রকৃতির অনুকূল ছিল এবং সম্ভবত হক অনুষ্ঠানের মত এটা ইবরাহীমী মিল্লাতের অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহের একটি ছিল, এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মূল ভিত্তিটি ঠিক রাখলেন এবং জাহেলী প্রথাগুলোর সংশোধন করে দিলেন।
বায়হাকীর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, আকীকার প্রচলন ইয়াহুদীদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু তারা কেবল ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করত, মেয়েদের পক্ষ থেকে করত না। যার কারণ সম্ভবত মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও অনাদরই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটারও সংশোধন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, ছেলেদের মত মেয়েদের পক্ষ থেকেও আকীকা করতে হবে। তবে দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রকৃতিগত ও স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে, (যার প্রতি উত্তরাধিকার বণ্টন ও সাক্ষ্য দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।) এর ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি ছাগল এবং পুত্র সন্তানের আকীকায় (সামর্থ্য থাকলে) দু'টি ছাগল যবেহ করতে হবে।
বায়হাকীর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, আকীকার প্রচলন ইয়াহুদীদের মধ্যেও ছিল। কিন্তু তারা কেবল ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে আকীকা করত, মেয়েদের পক্ষ থেকে করত না। যার কারণ সম্ভবত মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও অনাদরই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটারও সংশোধন করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, ছেলেদের মত মেয়েদের পক্ষ থেকেও আকীকা করতে হবে। তবে দুই শ্রেণীর মধ্যে প্রকৃতিগত ও স্বভাবগত পার্থক্য রয়েছে, (যার প্রতি উত্তরাধিকার বণ্টন ও সাক্ষ্য দান ইত্যাদি ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।) এর ভিত্তিতে তিনি বলেছেন যে, কন্যা সন্তানের আকীকায় একটি ছাগল এবং পুত্র সন্তানের আকীকায় (সামর্থ্য থাকলে) দু'টি ছাগল যবেহ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)