মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দুনিয়ার যে কোন স্থান থেকে প্রেরিত দরূদ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌছেনো হয়
৩০৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কবরে হাযির হয়ে সালাম সালাত আরয করে, আমি তা নিজ কানে সরাসরি শুনতে পাবো, আর যে ব্যক্তি দূর থেকে আমার প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণ করবে, তা আমার নিকট পৌঁছানো হবে। - (রায়হাকী-শু'আবুল ঈমান)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا أَبْلَغْتُهُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের দ্বারা এ বর্ণনাটিই খোলাসাভাবে পাওয়া গেল যে, ফিরিশতাদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে কেবল ঐ সালামই পৌঁছানো হয়ে থাকে, যা কেউ দূর থেকে প্রেরণ করে থাকে। কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সশরীরে তার কবর পর্যন্ত পৌছিয়ে দেন, তাঁরা সেখানে হাযির হয়েই সালাত-সালাম আরয করলে তিনি তা' সরাসরি শুনতে পান এবং যেমনটি এ হাদীস থেকে এই মাত্র জানা গেল, তিনি তার জবাবও দিয়ে থাকেন।

কতই না ভাগ্যবান ঐ সমস্ত লোক, যাঁরা প্রতিদিন শত শতবার হাজার হাজার বার তাঁর খিদমতে সালাত প্রেরণ করে থাকেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে জবাবও লাভকরে থাকেন! হক কথা তো হলো এই যে, সারা জীবনের সালাত ও সালামের জবাব যদি একটি বারই জুটে যায়, তাহলে মহব্বতের কণামাত্র যাঁদের নসীব হয়েছে তাঁদের জন্যে তাই ইহলোক পরলোকের সমস্ত বিত্ত-বৈভব থেকে উত্তম। কোন এক প্রেমিক কত চমৎকারই না বলেছেন:
بهر سلام مکن رنجه در جواب آن لب
نه صد سلام مرابس یکی جواب از تو
- সালাম দিয়ে সে পবিত্র অধরের, জবাবের জন্যে হয়ো না মগ্ন আমার শত সালামের যদি একটি জবাব জুটে, ধন্য হবে মোর তাতেই মানব জনম।
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَآلِهِ وَبَارِكْ وَسَلِّمْ كَمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى عَدَدَ مَا تُحِبُّ وَتَرْضَى
- হে আল্লাহ! উম্মী নবী এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর দরূদ-সালাম এবং বরকত নাযিল কর, যেমন এবং যে পরিমাণ তুমি পসন্দ কর এবং সন্তুষ্ট হও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান