মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
গাফ্ফারিয়তের অভিব্যক্তির জন্যে গুনাহর প্রয়োজনিয়তা
২৭৪. হযরত আবূ আইউব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর অন্তিম শয্যায় অর্থাৎ মৃত্যু লগ্নে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে একটি কথা শুনেছিলাম, যা এতদিন পর্যন্ত তোমাদের কাছে গোপন রেখেছি। (এখন জীবনের অন্তিম মুহূর্তে সে কথাটি তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়ে সে আমানতটি তোমাদের হাতে সোপর্দ করে যাচ্ছি) আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: যদি তোমরা সকলেই (ফেরেশতাদের মত) নিষ্পাপ হয়ে যেতে, তাহলে আল্লাহ একটি নতুন সৃষ্টিকে (মাখলুক) পয়দা করতেন, তারা গুনাহ করতো, তারপর তিনি তাদেরকে মাফ করতেন। (এভাবে তাঁর শানে গাফ্ফারিয়তের অভিব্যক্তি ঘটাতেন।) (সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، أَنَّهُ قَالَ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ: كُنْتُ كَتَمْتُ عَنْكُمْ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَوْلَا أَنَّكُمْ تُذْنِبُونَ لَخَلَقَ اللهُ خَلْقًا يُذْنِبُونَ يَغْفِرُ لَهُمْ» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে এরূপ ধারণা করে নেয়া যে, আল্লাহ তা'আলা বুঝি গুনাহ ও গুনাহগারকে পসন্দ করেন এবং চান যে লোকে পাপ করে বেড়াক, আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এ হাদীসের দ্বারা গুনাহগারদেরকে উৎসাহিত করেছেন, যেন তারা গুনাহ করতে থাকে- একটি মূর্খতাব্যঞ্জক ভ্রান্ত ধারণা হবে। আম্বিয়ায়ে কিরামকে প্রেরণের উদ্দেশ্য হলো, লোকজনকে গুনাহ থেকে রক্ষা করা এবং তাদেরকে নেকির দিকে উৎসাহিত-অনুপ্রাণিত করা।

আসলে এ হাদীসের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার গাফ্ফারিয়তের শান যাহির করা। এ হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যেমনটি আল্লাহ তা'আলার খালেকিয়ত বা স্রষ্টাগুণের অভিব্যক্তির জন্যে কোন মাখলুক সৃষ্টি করা, তাঁর রাযযাকিয়ত বা রিযেকদাতা গুণ প্রকাশের জন্যে জীবিকার মুখাপেক্ষী কোন মাখলুক থাকা এবং অনুরূপ তাঁর হাদী বা হিদায়াতকারী গুণের অভিব্যক্তির জন্যে কোন হিদায়াতকামী ও হিদায়াত গ্রহণের যোগ্যতা সম্পন্ন কোন মাখলুক থাকা জরুরী, ঠিক তেমনি তাঁর 'গাফ্ফার' বা পরম ক্ষমাশীল গুণের অভিব্যক্তির জন্যেও এমন কোন মাখলুক থাকতেই হবে, যারা গুনাহ-খাতা করবে, তারপর আল্লাহর দরবারে তাওবা ও ইস্তিগফার করে সে সব গুনাহখাতা মার্জনার জন্য ফরিয়াদও জানাবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা তাদের মাগফিরাতের ফয়সালা করবেন। এভাবে তাঁর 'গাফ্ফার' সত্তার অভিব্যক্তি ঘটবে।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা) তাঁর জীবদ্দশায় সুদীর্ঘ আয়ুর অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এই ভয়ে হুযুর ﷺ-এর এ কথাটি ব্যক্ত করেননি, পাছে স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন লোক ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারপর তাঁর জীবনের অন্তিম মুহূর্তে নিজের খাস লোকদের মধ্যে একথাটি ব্যক্ত করে দিয়ে তিনি যেন একটি গচ্ছিত আমানত তাঁদের হাতে সোপর্দ করে দিলেন।

একই বক্তব্য, সামান্য শাব্দিক তারতম্য সহকারে সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান