মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
কুরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী
৩৬. হযরত উছমান (রা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়। (সহীহ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُثْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন মজীদ আল্লাহর কালাম হওয়ার কারণে যেহেতু অন্যান্য কালামের উপর এমন মর্যাদা রয়েছে, যেমন সকল সৃষ্টির উপর আল্লাহর মর্যাদা, তাই একথা সুস্পষ্ট যে, এটা শিক্ষা করা ও অন্যকে শিক্ষাদান অন্যান্য সকল উত্তম কাজের চেয়ে আরো উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ হবে। তাছাড়া এটা এক বাস্তব সত্য যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়গাম্বরী দায়িত্ব ছিল ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে কুরআন মজীদ গ্রহণ করা, এর রহস্য উপলব্ধি করা, অন্যদের কাছে এটা পৌঁছানো এবং এটা নিজে শিক্ষা করা ও অন্যদেরকে শিক্ষা দেওয়া। এ জন্য এখন কেয়ামত পর্যন্ত যে বান্দা কুরআন মজীদ শিক্ষা করা ও অন্যকে শিক্ষা দান করাকে নিজের কাজ বানিয়ে নিবে, সে যেন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বিশেষ মিশনের পতাকাবাহী ও খাদেম হয়ে যাবে এবং হুযুর ﷺ-এর সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক লাভ হয়ে যাবে। এ জন্য কুরআন পাকের শিক্ষা গ্রহণকারী ও শিক্ষা দানকারী সবার চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হওয়াই চাই। কিন্তু এটা কেবল সে অবস্থায়ই হবে, যখন কুরআন মজীদের এ শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষাদান এখলাসের সাথে এবং কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে কেউ যদি দুনিয়ার স্বার্থে কুরআন শিক্ষা ও শিক্ষাদানকে নিজের পেশা বানিয়ে নেয়, তাহলে হাদীস শরীফে রয়েছে যে, সে ঐ হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যাদেরকে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তারাই এর প্রথম ইন্ধন হবে। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে এ পরিণাম থেকে রক্ষা কর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)