মা'আরিফুল হাদীস
হজ্ব অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৯
হজ্ব অধ্যায়
যদিও রওযা শরীফের যিয়ারত হজ্বের কোন অঙ্গ নয়; কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে উন্মতের এ অভ্যাস ও রীতি চলে আসছে যে, বিশেষ করে দূর অঞ্চল থেকে যেসব মুসলমান হজ্ব করতে যায়, তারা রওযা শরীফের যিয়ারত ও সেখানে দরূদ ও সালাম পেশ করার সৌভাগ্যও অবশ্যই অর্জন করে থাকে। এ জন্যই হাদীসের অনেক সংকলনে কিতাবুল হজ্বের শেষে যিয়ারতে নববীর হাদীসসমূহও লিখে দেয়া হয়েছে। এ নীতির অনুসরণ করতে গিয়েই কিতাবুল হজ্বের এ ধারাবাহিক আলোচনাটি আমরা যিয়ারতে নববীর হাদীসমূহের মাধ্যমেই শেষ করছি।
২১৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ্ব করল এবং আমার কবর যিয়ারত করল আমার মৃত্যুর পর, সে যেন আমার জীবদ্দশায়ই আমার যিয়ারত করল। বায়হাকী, তাবারানী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ حَجَّ فَزَارَ قَبْرِي بَعْدَ مَوْتِي كَانَ كَمَنْ زَارَنِي فِي حَيَاتِي ". (رواه البيهقى فى شعب الايمان والطبرانى فى الكبير والاوسط)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে নিজ কবরে; বরং সমস্ত নবী-রাসূলই যে নিজ নিজ আলোকিত কবরে জীবিত রয়েছেন, এটা জমহুরে উম্মতের স্বীকৃত মত- যদিও এ জীবনের ধরন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনা ও উম্মতের বিশেষ মনীষীদের অভিজ্ঞতার দ্বারা এটাও প্রমাণিত যে, উম্মতের কোন ব্যক্তি যখন রওযা শরীফে হাজির হয়ে সালাম নিবেদন করে, তখন তিনি তার সালাম শুনেন এবং উত্তরও দিয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওফাতের পর তাঁর রওযা শরীফে হাজির হওয়া ও সালাম নিবেদন করা যেন এক বিবেচনায় তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়া ও সামনাসামনি সালাম করারই একটি রূপ। নিঃসন্দেহে এটা এমন সৌভাগ্যের বিষয় যে, ঈমানদার বান্দারা যে কোন মূল্যে এটা অর্জন করার চেষ্টা করবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)