মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৫
হজ্ব অধ্যায়
তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদা
১৯৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা (হজ্ব করার পর) চতুর্দিক থেকে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেত (এবং বিদায়ী তাওয়াফের কোন গুরুত্ব দিত না।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের কেউ যেন দেশের দিকে ফিরে না যায়, যে পর্যন্ত না তার শেষ উপস্থিতি ও সাক্ষাত হয় বায়তুল্লাহ্ শরীফের সাথে। তবে ঋতুমতীদেরকে এ নির্দেশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। (অর্থাৎ, বিদায়ী তাওয়াফ তাদের জন্য মাফ।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا يَنْفِرُ أَحَدُكُمْ ، حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ ، إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الحَائِضِ » (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে যেমন স্পষ্ট উল্লেখিত হয়েছে যে, প্রথম প্রথম লোকেরা বিদায়ী তাওয়াফের প্রতি যত্নবান থাকত না। ১২ অথবা ১৩ই যিলহজ্ব পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে কংকর মারা ইত্যাদি হজ্বের কাজ সেরে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নির্দেশ দ্বারা যেন এর গুরুত্ব ও ওয়াজিব হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্যই ফুকাহায়ে কেরাম তাওয়াফে বিদাকে ওয়াজিব বলেছেন। তবে হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী যেসব মহিলা এ সময় তাদের বিশেষ দিন আসার কারণে তাওয়াফ করতে অপারগ, তারা যদি আগেই তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়ে থাকে, তাহলে বিদায়ী তাওয়াফ না করেই দেশে ফিরে যেতে পারবে। তাদের ছাড়া প্রত্যেক বহিরাগত হাজীর জন্য জরুরী যে, তারা দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে বিদায়ের নিয়তেই শেষ ও বিদায়ী তাওয়াফ করে নিবে। আর এটাই হজ্ব সংক্রান্ত তার শেষ কাজ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান