মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৩
হজ্ব অধ্যায়
হজ্বের আমল ও আরকান এবং এগুলোর ক্রমধারা দ্বারা বুঝা যায় যে, এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে বায়তুল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন এবং এর সাথে নিজের সম্পর্কের প্রকাশ ঘটানো, যা মিল্লাতে ইবরাহীমীর বিশেষ প্রতীক। এ জন্য মক্কা শরীফে উপস্থিত হওয়ার পর হজ্বের সর্বপ্রথম কাজ তাওয়াফই করতে হয় এবং তাওয়াফের দু'রাকআত নামায এর পরে পড়া হয়। হাজীদের এ প্রথম তাওয়াফের প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নামই হচ্ছে তাওয়াফে কুদুম। এ সম্পর্কে অনেক হাদীস আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

এরপর ১০ই যিলহজ্ব কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর একটি তাওয়াফের বিধান রয়েছে। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম তাওয়াফে যিয়ারত। ওকূফে আরাফার পর এটাই হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। তারপর হজ্ব শেষ করে একজন হাজী যখন মক্কা শরীফ থেকে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়, তখন নির্দেশ রয়েছে যে, সে যেন সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফ করে দেশে ফিরে এবং তার হজ্বের সর্বশেষ কাজও যেন তাওয়াফই হয়। এর প্রসিদ্ধ ও পারিভাষিক নাম হচ্ছে তওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ। এ দু'টি তাওয়াফ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
১৯৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) তওয়াফে যিয়ারতের সাতটি চক্করে রমল করেন নাই। (অর্থাৎ, সম্পূর্ণ তাওয়াফ স্বাভাবিক গতিতে করেছেন।) আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب الحج
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ « لَمْ يَرْمُلْ فِي السَّبْعِ ، الَّذِي أَفَاضَ فِيهِ » (رواه ابوداؤد وابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আগেই বলা হয়েছে যে, কোন হাজী যখন মক্কা শরীফ হাজির হয়ে প্রথম তাওয়াফ করবে (যার পর সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হবে,) তখন এ তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে সে রমল করবে। বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম এমনটিই করেছিলেন। এরপর ১০ই যিলহজ্ব তিনি মিনা থেকে মক্কায় এসে তওয়াফে যিয়ারত করলেন; কিন্তু এতে তিনি রমল করেননি। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর এ হাদীসে এর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান