মা'আরিফুল হাদীস
হজ্ব অধ্যায়
হাদীস নং: ১৮৫
হজ্ব অধ্যায়
মিনায় বেশ দূরত্বে দূরত্বে তিনটি স্থানে, তিনটি স্তম্ভ বানিয়ে রাখা হয়েছে। এ স্তম্ভগুলোকেই 'জামরা' বলা হয়। এসব জামরায় শয়তানকে কংকর মারাও হজ্বের আমল ও আহকামের অন্তর্ভুক্ত। ১০ই যিলহজ্ব কেবল একটি জামরায় সাতটি কংকর মারা হয়, আর ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্ব তিনটি জামরাতেই কংকর মারা হয়। একথা স্পষ্ট যে, কংকর মারা স্বয়ং কোন নেক আমল নয়; কিন্তু আল্লাহর নির্দেশযুক্ত হলে প্রতিটি কাজেই ইবাদতের শান পয়দা হয়ে যায়। আর বন্দেগী ও দাসত্ব এটাই যে, কোন আপত্তি ও কারণ তালাশ করা ছাড়াই আল্লাহর হুকুম পালন করে নেওয়া হবে। তাছাড়া আল্লাহর বান্দারা যখন আল্লাহর হুকুমে তাঁর মাহাত্ম্য ও প্রতাপের ধ্যান করে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে শয়তানী ধ্যান-ধারণা ও নিজের কুপ্রবৃত্তি ও গুনাহকে কল্পনার জগতে টার্গেট বানিয়ে এসব জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে এবং এভাবে গোমরাহী ও পাপকে প্রস্তরাঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, তখন তাদের অন্তরে যে অবস্থা সৃষ্টি হয় এবং তাদের ঈমানভরা বক্ষে যে আনন্দ ও প্রফুল্লতা লাভ হয় এর স্বাদ কেবল তারাই জানে। যাহোক, আল্লাহর নির্দেশে এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করে জামরাগুলোতে কংকর নিক্ষেপ করাও দৃষ্টিবানদের চোখে একটি ঈমান উদ্দীপক আমল।
১৮৫. হযরত আয়েশা রাযি. থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জামরায় কংকর মারা ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে। -তিরমিযী, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ عَائِشَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّمَا جُعِلَ رَمْيُ الجِمَارِ ، وَالسَّعْيُ بَيْنَ الصَّفَا وَالمَرْوَةِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ. (رواه الترمذى والدارمى)