মা'আরিফুল হাদীস

যাকাত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬
যাকাত অধ্যায়
আত্মীয়দেরকে দান করার বিশেষ ফযীলত
৫৬. হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার আনসারদের মধ্যে আবু তালহা রাযি.-ই সবচেয়ে বেশী (খেজুর বাগানের) সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর সম্পদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল 'বিরে-রাহা' কূপটি। এটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে যেতেন এবং তার মিষ্টি ও উত্তম পানি পান করতেন। যখন এ আয়াত: "لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ” নাযিল হয়, অর্থাৎ "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত নেকী ও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে খরচ করবে", তখন আবু তালহা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত নেকী ও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে খরচ করবে।" 'বিরে-রাহা' কূপটি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। তা আমি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দিলাম। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছেই এর কল্যাণ লাভের আশা করি। সুতরাং হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক যেভাবে ইচ্ছা আপনি এটিকে ব্যবহার করুন। যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বেশ। বেশ। এতো লাভজনক সম্পদ! এতো লাভজনক সম্পদ! তোমার কথা আমি শুনেছি। অর্থাৎ তোমার উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পেরেছি, সুতরাং আমি চাই এটিকে তুমি তোমার গরীব আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বণ্টন করে দাও। তখন আবু তালহা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি তা-ই করবো, এরপর আবু তালহা (রা) সেটিকে তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।-বুখারী ও মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ الأَنْصَارِ بِالْمَدِينَةِ مَالًا مِنْ نَخْلٍ ، وَكَانَ أَحَبُّ مَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ المَسْجِدِ ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ ، قَالَ أَنَسٌ : فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : {لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ : {لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} وَإِنَّ أَحَبَّ مَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ ، فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللَّهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « بَخٍ بَخٍ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ ، وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ » فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ : أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَفِي بَنِي عَمِّهِ .
(رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন কোন রেওয়ায়তে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে, হযরত আবু তালহা রাযি. এ বাগানটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরামর্শ অনুযায়ী নিজের বিশেষ ঘনিষ্ঠজন- উবাই ইবনে কাব, হাসান ইবনে সাবেত, শাদ্দাদ ইবনে আউস ও নবীত ইবনে জাবেরের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছিলেন। এ বাগানটি কেমন মূল্যবান ছিল, এর অনুমান এর দ্বারা করা যায় যে, পরবর্তী সময়ে হযরত মুআবিয়া রাযি. কেবল হযরত হাসান ইবনে সাবেতের অংশটি এক লাখ দেরহাম দিয়ে কিনে নিয়েছিলেন।

শিক্ষা: যেহেতু মানুষের বেশী সম্পর্ক ও মাখামাখি নিজের আত্মীয় স্বজনের সাথেই থাকে এবং অনেক লেন-দেনের প্রয়োজনও তাদের সাথেই পড়ে। এ জন্য মতবিরোধ ও ঝগড়াও আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই বেশী হয়ে থাকে, যার দরুন এ দুনিয়ার জীবনটাও একটা আযাব হয়ে যায়, আর আখেরাতও ধ্বংস হয়ে যায়। যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা ও দর্শনের উপর আমল করা হয় এবং মানুষ আপন আত্মীয়-স্বজনের উপর নিজের উপার্জিত সম্পদ খরচ করাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম মনে করে, তাহলে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট আযাব ও অশান্তি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে। হায়! পৃথিবীবাসী যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও হেদায়াতের মূল্য বুঝত এবং এর দ্বারা উপকৃত হত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান