মা'আরিফুল হাদীস
পবিত্রতা অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫
পবিত্রতা অধ্যায়
উযু পাপ মোচনের মাধ্যম
উযূঃ উযূর মাহাত্ম্য ও বরকত
আমি হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ (র)-এর বরাতে পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে সকল মানুষ পাশবিকতার নিগড় উৎরে আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন করেছেন, পেশার পায়খানা বা অন্য কোন কারণে তাদের উযূ ভঙ্গ হলে তারা তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঘোর অন্ধকার ও গ্লানি অনুভব করেন। প্রকৃতপক্ষে এই অনুভূতিরই অপর নাম অপবিত্র অবস্থা। ইসলামী শরী'আত এ অপবিত্র অবস্থা দূরীকরণের লক্ষ্যে উযূর ব্যবস্থা করেছে। যে সকল লোক পাশবিকতার নিগড় থেকে মুক্ত এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে পড়েনি তারা অপবিত্র অবস্থায় নিজেদের অপবিত্রতার দুর্গন্ধ ও অন্ধকার অনুভব করেন এবং মনে করেন তা থেকে উত্তরণের এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও জ্যোতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেবল উযূই ভূমিকা পালন করতে পারে। এটাই উযূর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু। আর এজন্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম সালাত আদায় করার সময় উযূ আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এতদ্ব্যতীত আল্লাহ্ তা'আলা উযূর সঙ্গে তার আরও অনেক অনুগ্রহ ও বরকতের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। নবী কারীম ﷺ যেমন তাঁর উম্মাতকে উযূর পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। তদ্রুপ ফযীলত ও বরকত সম্পর্কেও বাণী প্রদান করেছেন। কাজেই এ পর্যায়ে কতিপয় হাদীস পাঠ করা যাক।
উযূঃ উযূর মাহাত্ম্য ও বরকত
আমি হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ (র)-এর বরাতে পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে সকল মানুষ পাশবিকতার নিগড় উৎরে আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন করেছেন, পেশার পায়খানা বা অন্য কোন কারণে তাদের উযূ ভঙ্গ হলে তারা তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঘোর অন্ধকার ও গ্লানি অনুভব করেন। প্রকৃতপক্ষে এই অনুভূতিরই অপর নাম অপবিত্র অবস্থা। ইসলামী শরী'আত এ অপবিত্র অবস্থা দূরীকরণের লক্ষ্যে উযূর ব্যবস্থা করেছে। যে সকল লোক পাশবিকতার নিগড় থেকে মুক্ত এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে পড়েনি তারা অপবিত্র অবস্থায় নিজেদের অপবিত্রতার দুর্গন্ধ ও অন্ধকার অনুভব করেন এবং মনে করেন তা থেকে উত্তরণের এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও জ্যোতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেবল উযূই ভূমিকা পালন করতে পারে। এটাই উযূর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু। আর এজন্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম সালাত আদায় করার সময় উযূ আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এতদ্ব্যতীত আল্লাহ্ তা'আলা উযূর সঙ্গে তার আরও অনেক অনুগ্রহ ও বরকতের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। নবী কারীম ﷺ যেমন তাঁর উম্মাতকে উযূর পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। তদ্রুপ ফযীলত ও বরকত সম্পর্কেও বাণী প্রদান করেছেন। কাজেই এ পর্যায়ে কতিপয় হাদীস পাঠ করা যাক।
১৫. হযরত উসমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি উযূ করে এবং তা উত্তমরূপে করে, তার দেহ থেকে সমুদয় গুনাহ্ বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের ভেতর থেকেও (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الطہارت
عَنْ عُثْمَانَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ ، حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. আলোচ্য হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রদর্শিত সুন্নাত পদ্ধতি অনুযায়ী আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জনের লক্ষ্যে উত্তমরূপে উযূ করে-এতে কেবল তার উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের ময়লা ও অপবিত্রতাই দূরীভূত হয়না বরং এর বরকতে তার সমগ্র দেহ থেকে গুনাহের অপবিত্রতা ও ময়লা বিদূরিত হয়ে যায় এবং উযূকারী কেবল উযূবিহীন অবস্থা থেকেই নয় বরং গুনাহ্ থেকেও পবিত্র হয়ে যায়।
২. ওযূ করার দ্বারা কেবল বাহ্যিক পবিত্রতাই অর্জিত হয় না, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাও অর্জিত হয়। অর্থাৎ ওযূর দ্বারা গুনাহও মাফ হয়। আলোচ্য হাদীছটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوء (যে ব্যক্তি ওযূ করে এবং খুব ভালোভাবে ওযূ করে)।
ভালোভাবে ওযূ করার অর্থ ওযূর ফরযসমূহ আদায়ের পাশাপাশি সুন্নত-মুস্তাহাবও আদায় করা। যেমন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, প্রতি অঙ্গ তিনবার করে ধোওয়া, অঙ্গসমূহ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধোওয়া, ফরয পরিমাণ ধোওয়ার পর বাড়তি কিছু অংশও ধৌত করা, নিয়ত করা, কুলি করা, কুলিতে গরগরা করা, নাকে পানি দেওয়া, আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা ইত্যাদি।
خَرَجَت خَطاياه مِن جَسَدِه، حتَّى تَخرُجَ مِن تَحتِ أظفارِه.
(তার শরীর থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয় তার নখের নিচ থেকেও)। অর্থাৎ যখন যে অঙ্গ ধোওয়া হয়, তখন সে অঙ্গ থেকে এমনসব গুনাহ ঝরে যায়, যা সেই অঙ্গ দ্বারা করা হয়েছিল। এমনকি হাতের কোনও আঙুল দিয়ে যদি কোনও গুনাহ করা হয়ে থাকে, তবে সেই আঙুল থেকে এমনকি আঙুলের নখ থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়।
উল্লেখ্য, যে-কোনও নেক আমল দ্বারা যে গুনাহ মাফ হয় বলে বিভিন্ন হাদীছে জানানো হয়েছে, তা দ্বারা সগীরা গুনাহ বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য তাওবা করা শর্ত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ওযূ গুনাহ মাফের একটি অসিলা। ওযূর অঙ্গসমূহ দ্বারা যেসব গুনাহ হয়ে যায়, তা সব ওযূ করার দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
খ. গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য উত্তমরূপে ওযূ করা শর্ত।
ঘ. আমাদেরকে অবশ্যই ওযূর ফরয, সুন্নত ও মুস্তাহাবসমূহ জানতে হবে। তা না হলে উত্তমরূপে ওযূ করা যাবে না। ফলে গুনাহ মাফের ফযীলতও লাভ হবে না।
২. ওযূ করার দ্বারা কেবল বাহ্যিক পবিত্রতাই অর্জিত হয় না, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাও অর্জিত হয়। অর্থাৎ ওযূর দ্বারা গুনাহও মাফ হয়। আলোচ্য হাদীছটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوء (যে ব্যক্তি ওযূ করে এবং খুব ভালোভাবে ওযূ করে)।
ভালোভাবে ওযূ করার অর্থ ওযূর ফরযসমূহ আদায়ের পাশাপাশি সুন্নত-মুস্তাহাবও আদায় করা। যেমন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, প্রতি অঙ্গ তিনবার করে ধোওয়া, অঙ্গসমূহ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধোওয়া, ফরয পরিমাণ ধোওয়ার পর বাড়তি কিছু অংশও ধৌত করা, নিয়ত করা, কুলি করা, কুলিতে গরগরা করা, নাকে পানি দেওয়া, আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা ইত্যাদি।
خَرَجَت خَطاياه مِن جَسَدِه، حتَّى تَخرُجَ مِن تَحتِ أظفارِه.
(তার শরীর থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয় তার নখের নিচ থেকেও)। অর্থাৎ যখন যে অঙ্গ ধোওয়া হয়, তখন সে অঙ্গ থেকে এমনসব গুনাহ ঝরে যায়, যা সেই অঙ্গ দ্বারা করা হয়েছিল। এমনকি হাতের কোনও আঙুল দিয়ে যদি কোনও গুনাহ করা হয়ে থাকে, তবে সেই আঙুল থেকে এমনকি আঙুলের নখ থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়।
উল্লেখ্য, যে-কোনও নেক আমল দ্বারা যে গুনাহ মাফ হয় বলে বিভিন্ন হাদীছে জানানো হয়েছে, তা দ্বারা সগীরা গুনাহ বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য তাওবা করা শর্ত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ওযূ গুনাহ মাফের একটি অসিলা। ওযূর অঙ্গসমূহ দ্বারা যেসব গুনাহ হয়ে যায়, তা সব ওযূ করার দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
খ. গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য উত্তমরূপে ওযূ করা শর্ত।
ঘ. আমাদেরকে অবশ্যই ওযূর ফরয, সুন্নত ও মুস্তাহাবসমূহ জানতে হবে। তা না হলে উত্তমরূপে ওযূ করা যাবে না। ফলে গুনাহ মাফের ফযীলতও লাভ হবে না।
১. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.) ২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)