মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
হাদীস নং: ১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক দ্বারা আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশ করা এবং যে সব পোশাক পরা মুস্তাহাব।
১। জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য আমাদের ঘরে আসলেন। সে সময় একলোককে এলোমেলো চুলবিশিষ্ট দেখে বললেন, এই ব্যক্তি কি এমন কোন বস্তু পায় না যার দ্বারা সে তার মাথার চুল পরিপাটি করতে পারে? বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আরেক ব্যক্তিকে ময়লা কাপড় পরিহিত দেখে বললেন, এই লোক কি এমন বস্তু পায় না যা দ্বারা সে স্বীয় কাপড় ধুইতে পারে?
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
(আবু দাউদ (র) ও মুনযিরী (র) হাদীসটি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করেন নি।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ)
(আবু দাউদ (র) ও মুনযিরী (র) হাদীসটি সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করেন নি।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء في النظافة وإظهار نعمة الله باللباس الحسن وما يستحب لبسه
1- عن جابر ابن عبد الله قال أتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرا في منزلنا فرأى رجلا شعثا فقال أما كان يجد هذا ما يسكن به رأسه، ورأى رجلا عليه ثياب وسخة فقال أما كان يجد هذا ما يغسل به ثيابه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস দ্বারা ঐসব কৃত্রিম তপস্বীদের ধারণা খণ্ডন হয়ে যায় যারা মনে করে যে, আল্লাহ্ অন্বেষী ও আখেরাতের চিন্তাধারী লোকদের জন্য নিজেদের সূরত-নমুনা ও লেবাসের সুন্দর-অসুন্দর থেকে নির্লিপ্ত থেকে ময়লা কাপড়, নোংরা শরীর ও উষ্ক-খুষ্ক চুল নিয়ে থাকা চাই। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সূরত ও লেবাসের পরিপাটির চিন্তা এবং এগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যপ্রিয়তা তাদের নিকট যেন দুনিয়াদারীর ব্যাপার। যারা এরূপ করে, তারা নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা এবং তাঁর আনীত দ্বীন ও শরী‘আতের রুচি সম্পর্কে অজ্ঞ। হ্যাঁ, সূরত, লেবাস ইত্যাদি সুন্দর ও পরিপাটি করার সীমাতিরিক্ত চেষ্টা এবং এর জন্য অহেতুক লৌকিকতাও অপছন্দনীয় ও শরী‘আতের রুচির পরিপন্থী। যেমন, সামনের কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
বাস্তব কথা এই যে, জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় এ শাখাটির ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনার সারকথা এটাই যে, সীমালংঘন ও অবহেলা উভয়টি থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই।
যেসব হাদীসে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার করার ও চেহারার আকৃতি ঠিক রাখার এবং মাথা ও দাড়ির চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এগুলোর সম্বোধিত ব্যক্তি তারাই, যারা এ ব্যাপারে ত্রুটি ও অবহেলায় লিপ্ত ছিল এবং যারা নিজেদের আকৃতি অবয়ব অসুন্দর করে রেখেছিল। আজও যাদের এ অবস্থা, তাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এসব বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা চাই।
বাস্তব কথা এই যে, জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় এ শাখাটির ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনার সারকথা এটাই যে, সীমালংঘন ও অবহেলা উভয়টি থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই।
যেসব হাদীসে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহার করার ও চেহারার আকৃতি ঠিক রাখার এবং মাথা ও দাড়ির চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এগুলোর সম্বোধিত ব্যক্তি তারাই, যারা এ ব্যাপারে ত্রুটি ও অবহেলায় লিপ্ত ছিল এবং যারা নিজেদের আকৃতি অবয়ব অসুন্দর করে রেখেছিল। আজও যাদের এ অবস্থা, তাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এসব বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা চাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)