হাদীসে কুদসী
কিতাবের হাদীস সমূহ
হাদীস নং: ৯০
কিতাবের হাদীস সমূহ
৯০। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে বললেন, আকাশে মেঘ না থাকা অবস্থায় দুপুরের সময় সূর্য দেখতে তোমাদের কোন সমস্যা হয় কি? সাহাবীগণ বললেন, জী না। অতঃপর তিনি বললেন, আকাশে মেঘ না থাকা অবস্থায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কোন সমস্যা হয় কি? সাহাবীগণ বললেন, জি না। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! চন্দ্র সূর্যের কোন একটি দেখতে তোমাদের যেরূপ সমস্যা হয় না তোমাদের প্রতিপালককেও দেখতে তোমাদের ঠিক তদ্রূপ সমস্যা হবে না। আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাত হবে। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! আমি কি তোমাকে ইজ্জত দান করিনি, নেতৃত্ব দান করিনি, জোড়া মিলিয়ে (বিয়ে করিয়ে) দেইনি, ঘোড়া, উট তোমার বশীভূত করে দেইনি এবং নেতৃত্ব ও এক–চতুর্থাংশ ভোগের মাধ্যমে প্রাচুর্যের মাঝে তোমার পানাহারের ব্যবস্থা করিনি?
সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, তুমি কি মনে করতে যে, তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করবে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি যেমনিভাবে আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।
অতঃপর দ্বিতীয় অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। তখন তিনি তাকেও বলবেন, হে অমুক! আমি কি তোমাকে সম্মান দান করিনি, নেতৃত্ব দেই নি, তোমার জোড়া মিলিয়ে দেইনি, উট–ঘোড়া তোমার অনুগত করে দেইনি এবং সূখ–সাচ্ছন্দ্যে পানাহারের জন্য তোমাকে কি সুযোগ করে দেই নি? সে বলবে, হ্যাঁ করেছেন, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, আমার সাথে তোমার সাক্ষাত হবে এ কথা তুমি মনে করতে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।
অতঃপর তিনি অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। অতঃপর পূর্বের অনুরূপ বলবেন। তখন লোকটি বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার প্রতি এবং কিতাব ও রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। আমি নামায আদায় করেছি, রোযা পালন করেছি এবং সাদ্কা করেছি। এমনিভাবে সে যথাসম্ভব নিজের প্রশংসা করবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা বলবেন, এখনই তোমার মিথ্যা প্রকাশিত হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর তাকে বলা হবে, এখনই আমি তোমার উপর আমার সাক্ষী কায়িম করব। তখন বান্দা মনে মনে চিন্তা করতে থাকবে যে, কে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে? তখন তার মুখে মোহর দেয়া হবে। এবং তার উরু, গোশত ও হাড়কে বলা হবে, তোমরা কথা বল। ফলে তার উরু, গোশত ও হাড় তার আমল সম্পর্কে বলতে থাকবে। এ ব্যবস্থা এ জন্য করা হবে যেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোন অবকাশ তার আর বাকি না থাকে। এই ব্যক্তি হচ্ছে মুনাফিক। তার প্রতি আল্লাহ তাআলা অন্তুষ্ট হবেন।
সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, তুমি কি মনে করতে যে, তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করবে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি যেমনিভাবে আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।
অতঃপর দ্বিতীয় অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। তখন তিনি তাকেও বলবেন, হে অমুক! আমি কি তোমাকে সম্মান দান করিনি, নেতৃত্ব দেই নি, তোমার জোড়া মিলিয়ে দেইনি, উট–ঘোড়া তোমার অনুগত করে দেইনি এবং সূখ–সাচ্ছন্দ্যে পানাহারের জন্য তোমাকে কি সুযোগ করে দেই নি? সে বলবে, হ্যাঁ করেছেন, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, আমার সাথে তোমার সাক্ষাত হবে এ কথা তুমি মনে করতে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।
অতঃপর তিনি অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। অতঃপর পূর্বের অনুরূপ বলবেন। তখন লোকটি বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার প্রতি এবং কিতাব ও রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। আমি নামায আদায় করেছি, রোযা পালন করেছি এবং সাদ্কা করেছি। এমনিভাবে সে যথাসম্ভব নিজের প্রশংসা করবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা বলবেন, এখনই তোমার মিথ্যা প্রকাশিত হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর তাকে বলা হবে, এখনই আমি তোমার উপর আমার সাক্ষী কায়িম করব। তখন বান্দা মনে মনে চিন্তা করতে থাকবে যে, কে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে? তখন তার মুখে মোহর দেয়া হবে। এবং তার উরু, গোশত ও হাড়কে বলা হবে, তোমরা কথা বল। ফলে তার উরু, গোশত ও হাড় তার আমল সম্পর্কে বলতে থাকবে। এ ব্যবস্থা এ জন্য করা হবে যেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোন অবকাশ তার আর বাকি না থাকে। এই ব্যক্তি হচ্ছে মুনাফিক। তার প্রতি আল্লাহ তাআলা অন্তুষ্ট হবেন।
أحاديث الكتاب
90- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ فِي الظَّهِيرَةِ لَيْسَتْ فِي سَحَابَةٍ؟ . قَالُوا: لاَ . قَالَ: فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ فِي سَحَابَةٍ؟ . قَالُوا: لاَ . قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ إِلاَّ كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا – قَالَ: فَيَلْقَى الْعَبْدَ فَيَقُولُ: أَىْ فُلْ أَلَمْ أُكْرِمْكَ وَأُسَوِّدْكَ وَأُزَوِّجْكَ وَأُسَخِّرْ لَكَ الْخَيْلَ وَالإِبِلَ وَأَذَرْكَ تَرْأَسُ وَتَرْبَعُ؟ فَيَقُولُ: بَلَى . قَالَ: فَيَقُولُ: أَفَظَنَنْتَ أَنَّكَ مُلاَقِيَّ؟ فَيَقُولُ: لاَ . فَيَقُولُ: فَإِنِّي أَنْسَاكَ كَمَا نَسِيتَنِي . ثُمَّ يَلْقَى الثَّانِيَ فَيَقُولُ: أَىْ فُلْ أَلَمْ أُكْرِمْكَ وَأُسَوِّدْكَ وَأُزَوِّجْكَ وَأُسَخِّرْ لَكَ الْخَيْلَ وَالإِبِلَ وَأَذَرْكَ تَرْأَسُ وَتَرْبَعُ؟ فَيَقُولُ: بَلَى أَىْ رَبِّ . فَيَقُولُ: أَفَظَنَنْتَ أَنَّكَ مُلاَقِيَّ؟ فَيَقُولُ: لاَ . فَيَقُولُ: فَإِنِّي أَنْسَاكَ كَمَا نَسِيتَنِي . ثُمَّ يَلْقَى الثَّالِثَ فَيَقُولُ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ آمَنْتُ بِكَ وَبِكِتَابِكَ وَبِرُسُلِكَ وَصَلَّيْتُ وَصُمْتُ وَتَصَدَّقْتُ . وَيُثْنِي بِخَيْرٍ مَا اسْتَطَاعَ فَيَقُولُ: هَاهُنَا إِذًا – قَالَ: ثُمَّ يُقَالُ لَهُ: الآنَ نَبْعَثُ شَاهِدَنَا عَلَيْكَ . وَيَتَفَكَّرُ فِي نَفْسِهِ: مَنْ ذَا الَّذِي يَشْهَدُ عَلَيه؟! فَيُخْتَمُ عَلَى فِيهِ وَيُقَالُ لِفَخِذِهِ وَلَحْمِهِ وَعِظَامِهِ انْطِقِي فَتَنْطِقُ فَخِذُهُ وَلَحْمُهُ وَعِظَامُهُ بِعَمَلِهِ وَذَلِكَ لِيُعْذِرَ مِنْ نَفْسِهِ . وَذَلِكَ الْمُنَافِقُ وَذَلِكَ الَّذِي يَسْخَطُ اللَّهُ عَلَيْهِ "
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রশ্নকারীগণ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে,
কিয়ামতের দিন কি আমরা আল্লাহকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চন্দ্র ও সূর্যের উদাহরণ দিয়ে একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দর্শন এত সুস্পষ্ট হবে যে, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। অর্থাৎ তিনি একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেভাবে পূর্ব এবং পশ্চিমের লাখ কোটি মানুষ একই সময় চাঁদ এবং সূর্যকে দেখে এবং দর্শনের ক্ষেত্রে কোন সংঘাতের সৃষ্টি হয় না ঠিক সেভাবে কিয়ামতের দিন সকল লোক আল্লাহকে দেখতে পাবে। অধিকন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইঙ্গিত করেছেন যে, দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহ যাদেরকে বিরাট নি'আমত দান করেছেন অথচ তারা আল্লাহকে বিলকুল ভুলে গিয়েছে এবং আখিরাত সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাফিল কিয়ামতের দিন তাদেরকে আল্লাহর সম্মুখীন হতে হবে, তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তারা আল্লাহর সম্মুখে লজ্জিত অপমানিত হবে এবং তারা কোন কথার জবাব দিতে সক্ষম হবে না। যখন মুনাফিক ব্যক্তি আল্লাহর সামনে মিথ্যা বয়ান দিবে তখন আল্লাহ তার বাকশক্তি রহিত করে দিবেন এবং তার উরু, তার গোশত, তার হাড়ের নিকট থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের অতিরিক্ত জবাব প্রদান করে এ বাস্তবতার দিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, কিয়ামতে শুধুমাত্র আল্লাহর দর্শন লাভ হবে না বরং আল্লাহ দুনিয়ার নি'আমত সম্পর্কে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
ثُمَّ لَتُسْأَلن يومئذ عن النعيم -
যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহর হুকুমের প্রতি বেপরোওয়া মনোভাব প্রদর্শন করেছে এবং আখিরাত সম্পর্কে বিলকুল গাফিল থেকে আল্লাহর দেয়া নি'আমত উপভোগ করেছে তারা কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত অপামনিত হবে এবং তাদের কোন ছলচাতুরী সেদিন তাদেরকে কোন আবরণ দান করতে পারবে না।
কিয়ামতের দিন কি আমরা আল্লাহকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চন্দ্র ও সূর্যের উদাহরণ দিয়ে একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দর্শন এত সুস্পষ্ট হবে যে, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। অর্থাৎ তিনি একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেভাবে পূর্ব এবং পশ্চিমের লাখ কোটি মানুষ একই সময় চাঁদ এবং সূর্যকে দেখে এবং দর্শনের ক্ষেত্রে কোন সংঘাতের সৃষ্টি হয় না ঠিক সেভাবে কিয়ামতের দিন সকল লোক আল্লাহকে দেখতে পাবে। অধিকন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইঙ্গিত করেছেন যে, দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহ যাদেরকে বিরাট নি'আমত দান করেছেন অথচ তারা আল্লাহকে বিলকুল ভুলে গিয়েছে এবং আখিরাত সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাফিল কিয়ামতের দিন তাদেরকে আল্লাহর সম্মুখীন হতে হবে, তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং তারা আল্লাহর সম্মুখে লজ্জিত অপমানিত হবে এবং তারা কোন কথার জবাব দিতে সক্ষম হবে না। যখন মুনাফিক ব্যক্তি আল্লাহর সামনে মিথ্যা বয়ান দিবে তখন আল্লাহ তার বাকশক্তি রহিত করে দিবেন এবং তার উরু, তার গোশত, তার হাড়ের নিকট থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের অতিরিক্ত জবাব প্রদান করে এ বাস্তবতার দিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, কিয়ামতে শুধুমাত্র আল্লাহর দর্শন লাভ হবে না বরং আল্লাহ দুনিয়ার নি'আমত সম্পর্কে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
ثُمَّ لَتُسْأَلن يومئذ عن النعيم -
যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহর হুকুমের প্রতি বেপরোওয়া মনোভাব প্রদর্শন করেছে এবং আখিরাত সম্পর্কে বিলকুল গাফিল থেকে আল্লাহর দেয়া নি'আমত উপভোগ করেছে তারা কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত অপামনিত হবে এবং তাদের কোন ছলচাতুরী সেদিন তাদেরকে কোন আবরণ দান করতে পারবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)