হাদীসে কুদসী
কিতাবের হাদীস সমূহ
হাদীস নং: ৬৭
কিতাবের হাদীস সমূহ
৬৭। তাবেঈ আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ) বলেন, আমি দামিশকের মসজিদে প্রবেশ করলাম। সেখানে জনৈক যুবককে দেখলাম, তার দাঁতগুলি অতি উজ্জ্বল সাদা (মুক্তার মতো)। তার সঙ্গে অনেক মানুষ ছিল। যখনই কোন ব্যাপারে মতবিরোধ হত, উক্ত যুবকের কথাকেই সনদ (নির্ভরযোগ্য) বলিয়া গণ্য করা হত এবং তার কথার উপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হত। আমি (আবু ইদরীস) লোকের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, এই যুবকটি কে? তারা বলল, ইনি হলেন মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ)। পরদিন প্রাতঃকালে আমি (মসজিদে) যেয়ে দেখি যে, তিনি (মু’আয ইবনে জাবাল) আমার আগেই সেখানে পৌছেছেন এবং নামায পড়তে ছিলেন। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। তিনি নামায পড়া শেষ করার পর আমি তার সম্মুখে গিয়া পৌছলাম। অতঃপর তাকে সালাম করে বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি। তিনি বললেন, আল্লাহরই জন্য? আমি বলিলাম, হ্যাঁ, আল্লাহর জন্যই। তিনি (পুনরায়) বললেন, আল্লাহরই জন্য? আমি বলিলাম, হ্যাঁ, আল্লাহরই জন্য। অতঃপর তিনি আমার চাদরের এক কোণা ধরে (আমাকে) নিজের দিকে টানলেন এবং বললেন, আনন্দিত হও! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছে শুনেছি, তিনি বলতে ছিলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ভালবাসা সেই সমস্ত লোকের জন্য ওয়াজিব হয়েছে যারা আমার (সন্তুষ্টির) জন্য পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসে, আমারই জন্য একত্রে বসে, আমারই জন্য একে অন্যকে দেয় এবং আমারই জন্য একে অন্যের জন্য খরচ করে।
أحاديث الكتاب
67- قال أَبو إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيّ: دَخَلْتُ مَسْجِدَ دِمَشْقَ فَإِذَا فَتًى شَابٌّ بَرَّاقُ الثَّنَايَا وَإِذَا النَّاسُ مَعَهُ إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَسْنَدُوه إِلَيْهِ وَصَدَرُوا عَنْ قَوْلِهِ فَسَأَلْتُ عَنْهُ فَقِيلَ هَذَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ هَجَّرْتُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي بِالتَّهْجِيرِ وَوَجَدْتُهُ يُصَلِّي قَالَ فَانْتَظَرْتُهُ حَتَّى قَضَى صَلَاتَهُ ثُمَّ جِئْتُهُ مِنْ قِبَلِ وَجْهِهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ قُلْتُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ لِلَّهِ فَقَالَ أَللَّهِ فَقُلْتُ أَللَّهِ فَقَالَ أَللَّهِ فَقُلْتُ أَللَّهِ فَقَالَ أَللَّهِ فَقُلْتُ أَللَّهِ قَالَ فَأَخَذَ بِحُبْوَةِ رِدَائِي فَجَبَذَنِي إِلَيْهِ وَقَالَ أَبْشِرْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ وَالْمُتَجَالِسِينَ فِيَّ وَالْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ وَالْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পরস্পর ভালবাসার অর্থ হল নিজেদের জন্য যা পসন্দ করা হয়, অপর ভাইয়ের জন্য পসন্দ করা, নিজের জন্য যা অপসন্দ করা হয়, তা অপর ভাইয়ের জন্য অপসন্দ করা, নিজের অভাব-অভিযোগ যেভাবে দূর করা হয়, সেভাবে অপর ভাইয়ের অভাব-অভিযোগ দূর করার জন্য চেষ্টা করা এবং যেভাবে নিজেকে ও পরিবার-পরিজনকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করা হয়, সেভাবে অপর ভাইকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বদা উপদেশ ও সহায়তা করা।
একত্রে উপবেশন করার অর্থ হল আল্লাহর দীনের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে কুরআন-হাদীসের আলোচনা করার জন্য বা আল্লাহর হামদ ও সানা করার জন্য একত্রে বৈঠকে মিলিত হওয়া। এ কাজের গুরুত্ব এত বেশি যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বলেনঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর রাস্তায় সামান্য পরিশ্রম করা দুনিয়া ও তার মধ্যস্থ সব কিছু থেকে উত্তম।
আল্লাহর জন্য পরস্পর মুলাকাত করার অর্থ হল, অপর ভাইয়ের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করার জন্য তার সাথে সাক্ষাত করা। বিপন্ন ভাইকে সাহায্য করার জন্য অগ্রসর হওয়া এবং পীড়িত ভাইকে পরিচর্যা করার বা হিম্মত দানের জন্য পরিদর্শন করা। রুগ্ন ভাইকে অবহেলাকারী ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা এ বলে অভিযুক্ত করবেন, আমি পীড়িত ছিলাম আমার পরিচর্যা করা হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাজ্জব হবে যে, আল্লাহ কি করে অসুস্থ হতে পারেন! তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, তাঁর অমুক অসুস্থ বান্দার খবর সে নেয়নি। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরস্পর সম্পদ ব্যয় করার অর্থ হল, অপর ভাইয়ের অভাব-অনটন দূর করার জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করা। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের আনসার-সাহাবিগণ যে দৃষ্টান্ত কায়েম করেছেন তা সর্বকালের মু'মিন ব্যক্তিদের অনুসরণযোগ্য। হিজরতের পর আনসার সাহাবিগণ নিজেদের কৃষির জমি মুহাজিরদের সাথে সমানভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। নবী করীম ﷺ তাদেরকে বললেনঃ মক্কা থেকে আগত মুহাজিরগণ কৃষিকাজে অনভিজ্ঞ। আনসারগণ নবী করীম ﷺ-কে বললেন, তারা নিজেরা কৃষিকাজ করবেন এবং মুহাজিরদেরকে ফসলের অংশ দান করবেন। খায়বর বিজয়ের পর আল্লাহর রাসূল আনসারদেরকে জমি দিতে চাইলেন। কিন্তু তারা তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং নবী করীম ﷺ-কে সমস্ত জমি মুহাজির ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার অনুরোধ করলেন। অনুরূপভাবে হযরত উসমান (রা) তাঁর গোটা সম্পদ মুসলমানদের উন্নতি ও অভাব-অভিযোগ দূর করার জন্য ব্যয় করেছেন। মুসলমানদের পানির ব্যবস্থা ছিল না। তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে তাদের জন্য কুয়ার ব্যবস্থা করেন।। দুর্ভিক্ষের সময় চড়ামূল্যে পণ্য বিক্রি করে ফায়দা হাসিল করার পরিবর্তে আমদানীকৃত যাবতীয় পণ্য মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
উপরে বর্ণিত চার শ্রেণীর বান্দা সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, তাদেরকে ভালবাসা তাঁর উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। অর্থাৎ তিনি এ ধরনের বান্দাকে তাঁর মহব্বতের প্রতিশ্রুতি দান করেছেন এবং আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন তাদের যিন্দেগী চূড়ান্তভাবে কামিয়াব।
একত্রে উপবেশন করার অর্থ হল আল্লাহর দীনের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে কুরআন-হাদীসের আলোচনা করার জন্য বা আল্লাহর হামদ ও সানা করার জন্য একত্রে বৈঠকে মিলিত হওয়া। এ কাজের গুরুত্ব এত বেশি যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ অপর এক হাদীসে বলেনঃ সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর রাস্তায় সামান্য পরিশ্রম করা দুনিয়া ও তার মধ্যস্থ সব কিছু থেকে উত্তম।
আল্লাহর জন্য পরস্পর মুলাকাত করার অর্থ হল, অপর ভাইয়ের সুখ-দুঃখে অংশগ্রহণ করার জন্য তার সাথে সাক্ষাত করা। বিপন্ন ভাইকে সাহায্য করার জন্য অগ্রসর হওয়া এবং পীড়িত ভাইকে পরিচর্যা করার বা হিম্মত দানের জন্য পরিদর্শন করা। রুগ্ন ভাইকে অবহেলাকারী ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা এ বলে অভিযুক্ত করবেন, আমি পীড়িত ছিলাম আমার পরিচর্যা করা হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাজ্জব হবে যে, আল্লাহ কি করে অসুস্থ হতে পারেন! তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, তাঁর অমুক অসুস্থ বান্দার খবর সে নেয়নি। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরস্পর সম্পদ ব্যয় করার অর্থ হল, অপর ভাইয়ের অভাব-অনটন দূর করার জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করা। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের আনসার-সাহাবিগণ যে দৃষ্টান্ত কায়েম করেছেন তা সর্বকালের মু'মিন ব্যক্তিদের অনুসরণযোগ্য। হিজরতের পর আনসার সাহাবিগণ নিজেদের কৃষির জমি মুহাজিরদের সাথে সমানভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। নবী করীম ﷺ তাদেরকে বললেনঃ মক্কা থেকে আগত মুহাজিরগণ কৃষিকাজে অনভিজ্ঞ। আনসারগণ নবী করীম ﷺ-কে বললেন, তারা নিজেরা কৃষিকাজ করবেন এবং মুহাজিরদেরকে ফসলের অংশ দান করবেন। খায়বর বিজয়ের পর আল্লাহর রাসূল আনসারদেরকে জমি দিতে চাইলেন। কিন্তু তারা তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং নবী করীম ﷺ-কে সমস্ত জমি মুহাজির ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার অনুরোধ করলেন। অনুরূপভাবে হযরত উসমান (রা) তাঁর গোটা সম্পদ মুসলমানদের উন্নতি ও অভাব-অভিযোগ দূর করার জন্য ব্যয় করেছেন। মুসলমানদের পানির ব্যবস্থা ছিল না। তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে তাদের জন্য কুয়ার ব্যবস্থা করেন।। দুর্ভিক্ষের সময় চড়ামূল্যে পণ্য বিক্রি করে ফায়দা হাসিল করার পরিবর্তে আমদানীকৃত যাবতীয় পণ্য মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
উপরে বর্ণিত চার শ্রেণীর বান্দা সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, তাদেরকে ভালবাসা তাঁর উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। অর্থাৎ তিনি এ ধরনের বান্দাকে তাঁর মহব্বতের প্রতিশ্রুতি দান করেছেন এবং আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন তাদের যিন্দেগী চূড়ান্তভাবে কামিয়াব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)