মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
অনুচ্ছেদ: দশটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৫৬. 'আইয়াশ ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। আবূ হুসায়ন তাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি ও আমার বন্ধু আবূ আমের ইয়ামানী 'বায়তুল মাকদিসে' নামায পড়ার জন্য বের হয়েছিলাম। সেখানে আবু রায়হানা নামে এক সাহাবী তাদের ওয়ায়েজ ছিল। আবুল হুসায়ন বলেন; আমার সাথী আমার আগে আগে মসজিদের দিকে এগিয়ে গেল, আমি তাকে পেয়ে তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে আমাকে প্রশ্ন করলো, তুমি কি আবু রায়হানার ওয়াজ শুনেছ? আমি বললাম, না। সে বললো, আমি তাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দাঁত ঘর্ষণকরা, শরীরে উল্কি এঁকে নেয়া, সাদা চুল উপড়ে ফেলা, কোন আড়াল ছাড়া দু'জন পুরুষ একই কম্বলে; তেমনি দু'জন মহিলা একই কম্বলের নীচে ঘুমানো, যে ব্যক্তি তার পোশাকের নিচের অংশে রেশম দ্বারা নকশী করে অনারবদের মত গর্ব অহংকারের জন্য কাঁধের উপর ফেলে রাখে। তিনি বাঘের পিঠে চড়তে ও স্বর্ণের আংটি পরতেও নিষেধ করেছেন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান হলে তার কাজের জন্য জন্য আংটি পরার অনুমতি দেন।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في العشاريات المبدوءة بعدد
عن عياش بن عباس (13) عن أبي الحصين (14) الهيثم بن شفى أنه سمعه يقول خرجت أنا وصاحب لي يسمى أبا عامر رجل من المعافر (15) ليصلى بايلياء (16) وكان قاصهم رجلا من الأزد يقال له أبو ريحانة من الصحابة قال أبو الحصين فسبقني صاحبي إلى المسجد ثم ادركته فجلست الى جنبه فسألني هل أدركت قصص أبي ريحانة؟ فقلت لا فقال سمعته يقول نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عشرة عن الوشر والوشم (1) والنتف وعن مكامعة الرجل الرجل بغير شعار وعن مكامعة المرأة المرأة بغير شعار وأن يجعل الرجل في أسفل ثيابه حريرا مثل الأعلام (2) وان يجعل على منكبيه (3) مثل الأعاجم وعن النهي وركوب النمور (4) ولبوس الخاتم (5) إلا لذي سلطان (6)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছটিতে বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর চামড়াকে বিছানা বানাতে কিংবা পশুর পিঠে বিছিয়ে তার উপর সওয়ার হতে নিষেধ করা হয়েছে। সেকালে অনারবরা এটা করত। এটা এক রকম অহমিকা। বিলাসিতাও বটে। অহংকারী লোক মানুষকে দেখানোর জন্য এ জাতীয় বিলাসিতা সেকালেও করত, এখনও করে থাকে। গৌরব দেখানো ভালো নয়। বিলাসিতাও পসন্দনীয় নয়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে নিষেধ করে দিয়েছেন যে, তারা যেন বাঘ বা অন্য কোনও হিংস্র পশুর চামড়াকে বিছানা বানিয়ে তার উপর না বসে কিংবা তাতে সওয়ার না হয় অর্থাৎ তা দ্বারা সওয়ারীর জিন না বানায়। সারকথা একজন মুমিনের দৃষ্টি থাকবে সর্বদা আখিরাতের দিকে। কীভাবে আখিরাতের মুক্তিলাভ হতে পারে, তার যাবতীয় কাজকর্ম সে লক্ষ্যেই সম্পাদিত হবে। সে ভোগ-বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে আখিরাত থেকে উদাসীন হবে না। তার পোশাক-আশাক ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী হবে সাদামাটা। এসব বস্তু অতিরিক্ত দামি বা বিলাসিতাপূর্ণ হলে অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে এগুলো মানুষের সেবক থাকে না, উল্টো মানুষ এর সেবক হয়ে যায়। এভাবে মানুষ আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে এসব সামগ্রী সংগ্রহ ও এর সেবাযত্নে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যা কিনা মানবসৃষ্টির উদ্দেশ্যেরও পরিপন্থি এবং দুনিয়ার বস্তুসামগ্রী সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

মুমিনদের উচিত সর্বপ্রকার বিলাসসামগ্রী ও অহমিকাজনক বস্তুর ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান