মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৬
চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক, বদ-নযর ও শুভাশুভ লক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: ঝাড়ফুঁকের শব্দাবলী।
১৩৬। মুহাম্মাদ ইবন হাতিব জামহী (র) সূত্রে তার মা উম্মু জামীল বিনতে মুজাললিল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাকে (মুহাম্মাদ ইবন হাতিব) নিয়ে হাবশা এলাকা হতে (মদীনার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলাম। যখন মদীনায় পৌঁছতে এক বা দুই রাত পরিমাণ দুরত্ব অবশিষ্ট ছিল, তখন আমি তোমার জন্য এক প্রকার খাবার পাকাতে লাগলাম। সে সময় লাকড়ী শেষ হয়ে গেল, আমি তার খোঁজে বের হলাম। সে সময় আমি পাতিলে হাত দিলে, তা উপুড় হয়ে তোমার বাহুতে পড়ে। তারপর আমি তোমাকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকটে আসলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! এই যে মুহাম্মাদ ইবন হাতিব। তখন তিনি তোমার মুখে থুথু দিলেন, তোমার মাথায় হাত বুলালেন, এবং তিনি তোমার দু'হাতে থুথু দিলেন আর এই দু'আ পড়লেন,
أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا.
"হে মানুষের প্রভু! দুঃখ-বেদনা দূর করুন। তার রোগ নিরাময় করুন। আপনিই একমাত্র রোগ নিরাময়কারী। আপনি ব্যতীত কোন রোগনিরাময়কারী নেই।"
উম্মু জামিল (রা) বলেন, আমি তোমাকে নিয়ে তার নিকট হতে উঠে আসামাত্রই তোমার হাত সুস্থ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার হস্তদ্বয়ে (গরম) পাতিল হতে খাবার পড়ে গেলে আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করেন। অর্থাৎ তিনি বললেন, اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ (হে মানুষের প্রভূ! দুঃখ-বেদনা দূর করুন।) বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, وَاشْفِ أَنْتَ الشّانِي (তার রোগ নিরাময় করুন, আপনিই একমাত্র রোগ নিরাময়কারী।) বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় তিনি থুথু দিচ্ছিলেন।
তৃতীয় সূত্রে তার থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তবে তাতে আরও আছে, তিনি বলেন, এরপর আমার মা আমাকে নিয়ে 'বাতহা' নামক স্থানে এক লোকের নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি কিছু উচ্চারণ করে আমাকে ফুঁক দেন। এরপর উসমান (রা)-এর শাসনামলে আমি আমার মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ লোকটি কে ছিলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, প্রথম সূত্রে হাদীসটি আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তৃতীয় সনদে হাদীসটি আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا.
"হে মানুষের প্রভু! দুঃখ-বেদনা দূর করুন। তার রোগ নিরাময় করুন। আপনিই একমাত্র রোগ নিরাময়কারী। আপনি ব্যতীত কোন রোগনিরাময়কারী নেই।"
উম্মু জামিল (রা) বলেন, আমি তোমাকে নিয়ে তার নিকট হতে উঠে আসামাত্রই তোমার হাত সুস্থ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার হস্তদ্বয়ে (গরম) পাতিল হতে খাবার পড়ে গেলে আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করেন। অর্থাৎ তিনি বললেন, اَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ (হে মানুষের প্রভূ! দুঃখ-বেদনা দূর করুন।) বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, وَاشْفِ أَنْتَ الشّانِي (তার রোগ নিরাময় করুন, আপনিই একমাত্র রোগ নিরাময়কারী।) বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় তিনি থুথু দিচ্ছিলেন।
তৃতীয় সূত্রে তার থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তবে তাতে আরও আছে, তিনি বলেন, এরপর আমার মা আমাকে নিয়ে 'বাতহা' নামক স্থানে এক লোকের নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি কিছু উচ্চারণ করে আমাকে ফুঁক দেন। এরপর উসমান (রা)-এর শাসনামলে আমি আমার মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ঐ লোকটি কে ছিলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, প্রথম সূত্রে হাদীসটি আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তৃতীয় সনদে হাদীসটি আহমাদ ও তবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الطب والرقى والعين والعدوى والتشاؤم والفأل
باب الألفاظ الواردة في الرقى
عن محمد بن حاطب الجمحى (1) عن أمه أم جميل بنت المجلل (3) رضى الله عنهما قالت أقبلت بك من أرض الحبشة حتى إذا كنت في المدينة على ليلة أو ليلتين طبخت لك طبيخاً ففنى الحطب فخرجت أطلبه فتناولت القدر فانكفأت على ذراعك فأتيت بك النبى صلى الله عليه وسلم فقلت بأبى وأمى يا رسول الله هذا محمد بن حاطب فتفل في فيك ومسح على رأسك ودعا لك وجعل يتفل على يديك ويقول اذهب البأس رب الناس واشف أنت الشافى لا شفاء إلا شفاؤك شفاءاً لا يغادر سقماً، فقالت فما قمت بك من عنده حتى برأت يدك (وعنه من طريق ثان) (4) قال انصبت على يدى من قدر فذهبت بى أمى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فقال كلاماً فيه اذهب البأس رب الناس وأحسبه قال اشف أنت الشافى قال وكان يتفل (5) (وعنه من طريق ثالث) (6) بنحوه وفيه قال فذهبت بى أمى إلى رجل كان بالبطحاء (7) فقال شيئاً ونفث (8) فلما كان في إمرة عثمان قلت لأمى من كان ذلك الرجل؟ قالت رسول الله صلى الله عليه وسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার শরীরে হাত বোলাতেন এবং হাদীছে বর্ণিত দু'আটি পাঠ করতেন। একই দু'আ বিভিন্ন হাদীছে সামান্য শাব্দিক পার্থক্যের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। অর্থের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই। কাজেই দু'আটি যে-কোনও বর্ণনা অনুসারেই পড়া যেতে পারে।
বলাবাহুল্য রোগীর গায়ে হাত বোলানোর ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম রক্ষা করা চাই। যেমন নিজ হাত পরিষ্কার থাকা, রোগীর যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা এবং অভিজ্ঞ ও দীনদার চিকিৎসকের নিষেধ না থাকা।
দু'আটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। এতে প্রথমেই আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে- اَللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ (মানুষের প্রতিপালক হে আল্লাহ)! অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনিই মানুষের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা। আপনি আপনার সৃষ্টির যথাযথ প্রতিপালন করে থাকেন। যাবতীয় ক্ষতিকর বিষয় থেকে তাকে আপনিই রক্ষা করতে পারেন ও রক্ষা করেও থাকেন। আপনি ছাড়া আর কোনও রক্ষাকর্তা নেই। তাই আপনার এ বান্দার বিপদে আপনারই আশ্রয় গ্রহণ করছি। সে যে কষ্ট ও ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে, তাকে তা থেকে মুক্ত কেবল আপনিই করতে পারেন। সুতরাং-
أَذْهِبَ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي (কষ্ট দূর করুন। আরোগ্য দিন। আপনিই আরোগ্যদাতা)। অর্থাৎ আরোগ্যদান করা আপনারই কাজ। এটা যেহেতু আপনারই কাজ, তাই আমরা এর জন্য আপনারই শরণাপন্ন হচ্ছি। বস্তুত এটাই নিয়ম। রোগ-ব্যাধি হলে প্রধান কাজ আল্লাহ তা'আলার শরণাপন্ন হওয়া। চিকিৎসা করানো নিষেধ নয়। বাহ্যিক উপায়-উপকরণ যা-কিছুই অবলম্বন করা সম্ভব তা অবশ্যই করবে। কিন্তু মূল ভরসাটা থাকবে আল্লাহর উপরই। কারণ উপায়-উপকরণ নিজে নিজে কিছু করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলাই তা দ্বারা উপকার সাধন করেন। তাই তো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
'এবং আমি যখন পীড়িত হই, তিনিই আমাকে শিফা দান করেন’। (সূরা শু'আরা, আয়াত ৮০)
হযরত আয়্যুব আলাইহিস সালাম তাঁর অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহ তা’আলারই শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কুরআন মাজীদে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ . فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ
'এবং আয়্যুবকে দেখো, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার এই কষ্ট দেখা দিয়েছে এবং তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমি তার দু'আ কবুল করলাম এবং সে যে কষ্টে আক্রান্ত ছিল তা দূর করে দিলাম।’ -(সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৩, ৮৪)
সকল নবী-রাসূলের শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ হাদীছটির মাধ্যমে আমাদেরকে সেই শিক্ষাই দান করেছেন। দু'আটির ভেতর তিনি বলেন-
لا شفاء إلا شفاؤك (আপনার আরোগ্যদান ছাড়া কোনও আরোগ্য নেই)। অর্থাৎ আপনি আরোগ্য না দিলে অন্য কেউ আরোগ্য দিতে পারে না। আপনি কাউকে রোগমুক্ত না করলে সে কোনও উপায়ে রোগমুক্তি লাভ করতে পারে না। তাই আমরা আপনারই কাছে রোগমুক্তি কামনা করি। আপনি এই রোগীকে নিরাময় দান করুন।
شفاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا (এমন আরোগ্য দান করুন, যা কোনও রোগ অবশিষ্ট রাখবে না)। অর্থাৎ তার যে রোগ প্রকাশ পেয়েছে তা থেকেও তাকে নিরাময় দিন এবং যে রোগ প্রকাশ পায়নি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আছে তা থেকেও। এমনিভাবে তাকে ওইসকল রোগ থেকেও মুক্তিদান করুন, যা বর্তমান রোগ থেকে মুক্তিলাভের পর তার উপসর্গস্বরূপ থেকে যেতে পারে। তাকে এমনভাবে নিরাময় দান করুন, যাতে এ রোগের কোনও প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও আভাসমাত্র অবশিষ্ট না থাকে।
প্রকাশ থাকে যে, দু'আটির অর্থ নিজ ভাষায় উচ্চারণ করলেও সুফল পাওয়ার আশা আছে। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো ভাষার স্বতন্ত্র তাৎপর্য ও বরকত রয়েছে। তাই দু'আটি হুবহু তাঁর ভাষায় পড়াই শ্রেয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কারও অসুস্থতার সংবাদ পেলে তাকে দেখতে যাওয়া উচিত।
খ. রোগীর শরীরে হাত রেখে হাদীছে বর্ণিত দু'আটি পাঠ করলে সুন্নতের উপর আমল হবে এবং এর দ্বারা উপশমের আশা রাখা যায়।
গ. যে-কোনও চিকিৎসায় বিশ্বাস রাখা জরুরি যে, আরোগ্যদাতা কেবল আল্লাহ তা'আলাই। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনও ব্যবস্থা কোনও কাজে আসে না। ওষুধ, পথ্য ইত্যাদির নিজস্ব কোনও ক্ষমতা নেই। এসবের সুফল কেবল তাঁর ইচ্ছারই প্রতিফলন।
বলাবাহুল্য রোগীর গায়ে হাত বোলানোর ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম রক্ষা করা চাই। যেমন নিজ হাত পরিষ্কার থাকা, রোগীর যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা এবং অভিজ্ঞ ও দীনদার চিকিৎসকের নিষেধ না থাকা।
দু'আটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। এতে প্রথমেই আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে- اَللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ (মানুষের প্রতিপালক হে আল্লাহ)! অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনিই মানুষের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা। আপনি আপনার সৃষ্টির যথাযথ প্রতিপালন করে থাকেন। যাবতীয় ক্ষতিকর বিষয় থেকে তাকে আপনিই রক্ষা করতে পারেন ও রক্ষা করেও থাকেন। আপনি ছাড়া আর কোনও রক্ষাকর্তা নেই। তাই আপনার এ বান্দার বিপদে আপনারই আশ্রয় গ্রহণ করছি। সে যে কষ্ট ও ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে, তাকে তা থেকে মুক্ত কেবল আপনিই করতে পারেন। সুতরাং-
أَذْهِبَ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي (কষ্ট দূর করুন। আরোগ্য দিন। আপনিই আরোগ্যদাতা)। অর্থাৎ আরোগ্যদান করা আপনারই কাজ। এটা যেহেতু আপনারই কাজ, তাই আমরা এর জন্য আপনারই শরণাপন্ন হচ্ছি। বস্তুত এটাই নিয়ম। রোগ-ব্যাধি হলে প্রধান কাজ আল্লাহ তা'আলার শরণাপন্ন হওয়া। চিকিৎসা করানো নিষেধ নয়। বাহ্যিক উপায়-উপকরণ যা-কিছুই অবলম্বন করা সম্ভব তা অবশ্যই করবে। কিন্তু মূল ভরসাটা থাকবে আল্লাহর উপরই। কারণ উপায়-উপকরণ নিজে নিজে কিছু করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলাই তা দ্বারা উপকার সাধন করেন। তাই তো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
'এবং আমি যখন পীড়িত হই, তিনিই আমাকে শিফা দান করেন’। (সূরা শু'আরা, আয়াত ৮০)
হযরত আয়্যুব আলাইহিস সালাম তাঁর অসুস্থ অবস্থায় আল্লাহ তা’আলারই শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কুরআন মাজীদে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ . فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ
'এবং আয়্যুবকে দেখো, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার এই কষ্ট দেখা দিয়েছে এবং তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমি তার দু'আ কবুল করলাম এবং সে যে কষ্টে আক্রান্ত ছিল তা দূর করে দিলাম।’ -(সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৩, ৮৪)
সকল নবী-রাসূলের শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ হাদীছটির মাধ্যমে আমাদেরকে সেই শিক্ষাই দান করেছেন। দু'আটির ভেতর তিনি বলেন-
لا شفاء إلا شفاؤك (আপনার আরোগ্যদান ছাড়া কোনও আরোগ্য নেই)। অর্থাৎ আপনি আরোগ্য না দিলে অন্য কেউ আরোগ্য দিতে পারে না। আপনি কাউকে রোগমুক্ত না করলে সে কোনও উপায়ে রোগমুক্তি লাভ করতে পারে না। তাই আমরা আপনারই কাছে রোগমুক্তি কামনা করি। আপনি এই রোগীকে নিরাময় দান করুন।
شفاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا (এমন আরোগ্য দান করুন, যা কোনও রোগ অবশিষ্ট রাখবে না)। অর্থাৎ তার যে রোগ প্রকাশ পেয়েছে তা থেকেও তাকে নিরাময় দিন এবং যে রোগ প্রকাশ পায়নি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আছে তা থেকেও। এমনিভাবে তাকে ওইসকল রোগ থেকেও মুক্তিদান করুন, যা বর্তমান রোগ থেকে মুক্তিলাভের পর তার উপসর্গস্বরূপ থেকে যেতে পারে। তাকে এমনভাবে নিরাময় দান করুন, যাতে এ রোগের কোনও প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও আভাসমাত্র অবশিষ্ট না থাকে।
প্রকাশ থাকে যে, দু'আটির অর্থ নিজ ভাষায় উচ্চারণ করলেও সুফল পাওয়ার আশা আছে। তবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো ভাষার স্বতন্ত্র তাৎপর্য ও বরকত রয়েছে। তাই দু'আটি হুবহু তাঁর ভাষায় পড়াই শ্রেয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. কারও অসুস্থতার সংবাদ পেলে তাকে দেখতে যাওয়া উচিত।
খ. রোগীর শরীরে হাত রেখে হাদীছে বর্ণিত দু'আটি পাঠ করলে সুন্নতের উপর আমল হবে এবং এর দ্বারা উপশমের আশা রাখা যায়।
গ. যে-কোনও চিকিৎসায় বিশ্বাস রাখা জরুরি যে, আরোগ্যদাতা কেবল আল্লাহ তা'আলাই। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনও ব্যবস্থা কোনও কাজে আসে না। ওষুধ, পথ্য ইত্যাদির নিজস্ব কোনও ক্ষমতা নেই। এসবের সুফল কেবল তাঁর ইচ্ছারই প্রতিফলন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)