মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

ইদ্দাত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩
ইদ্দাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: বায়েন তালাকপ্রাপ্তা নারীর খোরপোষ, বাসস্থান এবং প্রয়োজনের সময় বাইরে যাওয়া প্রসঙ্গে।
১৩। আবূ সালামা ইবন আবদির রহমান ইবন 'আওফ (র) সূত্রে যাহহাক ইবন কায়স (রা)-এর বোন ফাতিমা বিনত কায়স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু 'আমর ইবন হাফস ইবন মুগীরা-এর বিবাহাধীন ছিলাম। তিনি আমাকে তিন তালাক দেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত 'আলী ইবন আবিতালিব (রা) কে ইয়ামান প্রেরণকালে তিনিও তার সঙ্গে সফর করেন। তিনি সেখান থেকে (পত্রযোগে) তৃতীয় তালাক পাঠান। মদীনায় আইয়াশ ইবন আবি রবী'আ ইবন মুগীরা তার উকীল ছিল। আমি আইয়াশ-কে বললাম, আমার জন্য খোরপোশ এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা কর। সে বলল, তুমি আমাদের নিকট কোন প্রকার খোরপোষ এবং বাসস্থান পাবে না। তবে আমরা তোমার প্রতি অনুগ্রহবশত কিছু দিলে সেটা ভিন্ন কথা। ফাতিমা (রা) বলেন, আমি বললাম, যদি আমার অধিকার না থাকে তবে আমার অনুগ্রহ প্রাপ্তির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে আমার ঘটনা জানালাম এবং আইয়াশ যা বলেছে তা বললাম। তখন তিনি বললেন, সে সত্য বলেছে। তুমি তাদের নিকট খোরপোষও পাবে না, বাসস্থানও না এবং তাদের নিকট ফিরেও যেতে পারবে না। আর তোমাকে ইদ্দাত পালন করতে হবে। সুতরাং তুমি তোমার চাচাত বোন উম্মু শারীক- এর নিকট চলে যাও। তুমি তার কাছে হালাল হওয়া পর্যন্ত বসবাস কর। ফাতিমা (রা) বলেন, তারপর তিনি বললেন, না, ঐ মহিলার নিকট তার মুসলমান ভাইয়েরা যাতায়াত করে। (তার নিকট ইদ্দাত পূর্ণ করা তোমার জন্য কঠিন হবে)। কাজেই তুমি তোমার চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা)- এর নিকট চলে যাও। কেননা, সে দৃষ্টিশক্তিহীন। তুমি তার নিকট অবস্থান কর। যখন তুমি হালাল হবে তখন তুমি (আমাকে না জানিয়ে) নিজের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিবে না। ফাতিমা (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! একথা শুনে তখন আমি ধারণা করছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিবেন। যখন আমি হালাল হলাম, তখন তিনি উসামা (রা)-এর জন্য আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার সঙ্গে আমাকে বিয়ে দেন। আবূ সালামা বলেন, ফাতিমা (রা) আমার দ্বারা তার উক্ত ঘটনা লিখিয়েছেন আর আমি স্বীয় হাত দ্বারা তা লিখেছি।
দ্বিতীয় সূত্রে তার অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং তাতে অতিরিক্ত আছে, ফাতিমা বিনতে কায়স (রা) বলেন, আমি (ইদ্দাত পূর্ণ করে) হালাল হলে মু'আবিয়া (রা) এবং আবূ জাহম ইবন হুযায়ফা (রা) আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মু'আবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোন সম্পদ নেই আর আবু জাহম তো তার কাঁধ হতে লাঠি কখনও নামিয়ে রাখে না (অর্থাৎ তিনি স্ত্রীকে অত্যাধিক মারপিট করেন, অথবা এর অর্থ হল, তিনি অত্যাধিক সফর করেন।) সুতরাং উসামা ইবন যায়দ (রা)-এর সঙ্গে তুমি তাদেরকে কোন দিক দিয়ে তুলনা করবে? (বর্ণনাকারী বলেন,) মনে হয় তার পরিবার এটাকে অপছন্দ করেছিল; এ জন্য (জোরালোভাবে) তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন আমি শুধু তাকেই বিয়ে করব। সুতরাং তিনি উসামা (রা)-কে বিয়ে করেন।
(তৃতীয় সূত্রে তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে,) আবু 'আমর ইবন হাফস (রা) তাকে আলবাত্তা (চূড়ান্ত) তালাক দেন। আর তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। এরপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন (এবং তিনি বলেন,) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি উসামা ইবন যায়দ (রা)-কে বিয়ে কর। কিন্তু আমি তাকে অপছন্দ করলাম। তিনি আবার বললেন, তুমি উসামা ইবন যায়দ (রা) কে বিয়ে কর। সুতরাং আমি তাকে বিবাহ করলাম। আল্লাহ এর মধ্যে আমাকে কল্যাণ দান করেছেন।
(মুসলিম, বায়হাকী, ইমামচতুষ্ঠয় ও ইমামদ্বয়)
كتاب العدد
باب ما جاء في نفقة المبتوتة وسكناها وخروجها الحاجة
عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف عن فاطمة بنت قيس أخت الضحاك بن قيس قالت كنت عند أبي عمرو بن حفص بن المغيرة وكان قد طلقني تطليقتين ثم إنه سار مع علي بن أبي طالب إلى اليمن حين بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم فبعث إلي بتطليقتي الثالثة وكان صاحب أمره بالمدينة عياش بن أبي ربيعة بن المغيرة قالت فقلت له نفقتي وسكناي، فقال ما لك علينا من نفقة ولا سكنى إلا أن نتطول عليك من عندنا بمعروف نصنعه قالت فقلت لئن لم يكن لي ما لي به من حاجة قالت فجئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته خبري وما قال لي عياش فقال صدق، ليس لك عليهم نفقة ولا سكن وليس لك فيهم ردة وعليك العدة فانتقلي إلى أم شريك ابنة عمك فكوني عندها حتى تحلي، قالت ثم قال لا، تلك امرأة يزورها أخوتها من المسلمين ولكن انتقلي إلى ابن عمك ابن أم مكتوم فإنه مكفوف البصر فكوني عنده فإذا حللت فلا تفوتيني بنفسك، قالت والله ما أظن رسول الله صلى الله عليه وسلم حينئذ يريدني إلا لنفسه، قالت فلما حللت خطبني على أسامة بن زيد فزوجنيه، فقال أبو سلمة أملت علي حديثها هذا وكتبته بيدي
(وعنه من طريق ثان بنحوه وفيه) فلما حللت خطبني معاوية وأبو جهم بن حذيفة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أما معاوية فعائل لا مال له، وأما أبو جهم فإنه لا يضع عصاه من عاتقه أين أنتم من أسامة بن زيد، وكأن أهلها كرهوا ذلك فقالت لا أنكح إلا الذي دعاني إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فنكحته
(وعنه من طريق ثالث) عن فاطمة بنت قيس أن أبا عمرو بن حفص طلقها البتة وهو غائب فذكره معناه وقال انكحي أسامة بن زيد فكرهته فقال انكحي أسامة بن زيد فنكحته فجعل الله لي فيه خيرا
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান